সূরা-আল-ইমরান-বাংলা-অর্থ-(আয়াত-৬১-৮১)

সুরা-আল-ইমরান
আয়াত-২০০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু

فَمَنْ حَاجَّكَ فِيهِ مِن بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ فَقُلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ وَنِسَاءَنَا وَنِسَاءَكُمْ وَأَنفُسَنَا وَأَنفُسَكُمْ ثُمَّ نَبْتَهِلْ فَنَجْعَل لَّعْنَتَ اللَّهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ

৬১। অতএব, যে-ব্যক্তি ঈসা সম্বন্ধে আপনার সহিত বিতর্ক করে, আপনার নিকট জ্ঞান আসিবার পর, তবে আপনি বলিয়া দিন, আস আমরা ডাকিয়া লই আমাদের সন্তানগণকে এবং তোমাদের সন্তানগণকে, আর আমাদের নারীগণকে ও তোমাদের নারীগণকে এবং আমাদিগকে এবং স্বয়ং তোমাদিগকে, অতঃপর আমরা খুব আন্তরিকতার সহিত এইরূপে প্রার্থনা করি যে, আল্লাহর লা‘নত দেই অসত্যপন্থীদের উপর।

إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ ۚ وَمَا مِنْ إِلَـٰهٍ إِلَّا اللَّهُ ۚ وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

৬২। নিশ্চয়, এই সব যাহাকিছু বর্ণিত (হইল) ইহাই সত্য বিবরণ। আর কেহই নাই মা’বুদ হওয়ার যোগ্য আল্লাহ্ ব্যতীত। আর নিঃসন্দেহে, আল্লাহ্ই পরাক্রমশালী, মহা জ্ঞানী।

فَإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِالْمُفْسِدِينَ

৬৩। ইতঃপর যদি তাহারা বিমূখ থাকে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ খুব জানেন অশান্তিকারীদের।

قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَىٰ كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ۚ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ

৬৪। আপনি বলুন, হে আহলে কিতাব! আস, এমন এক কথার দিকে, যাহা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে (স্বীকার্য হওয়ার দিক দিয়া) সমান। (তাহা এই) আমরা এবাদত করিব না আল্লাহ্ ব্যতীত কাহারও এবং আল্লাহর সহিত কাহাকেও অংশী স্থির করিব না এবং স্থির করিব না আমাদের মধ্যে হইতে কেহ অন্য কাহাকেও রব আল্লাহ্কে পরিত্যাগ করিয়া। ইতঃপর যদি তাহারা বিমুখ থাকে, তবে তোমরা বলিয়া দাও, তোমরা এই সাক্ষী থাকও যে, আমরা মান্যকারী।

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنجِيلُ إِلَّا مِن بَعْدِهِ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

৬৫। হে আহলে কিতাব! কেন বিতর্ক করিতেছ ইব্রাহীম সম্বন্ধে? অথচ নাযিল করা হয় নাই তাওরাত এবং ইঞ্জীল- কিন্তু তাঁহার পর; তবুও কি তোমরা বুঝ না?

শানে নুযুলঃ

১। হুযুর (দঃ) নাজরানের খৃষ্টানদিগকে ইসলামের দাওয়াত দিয়া বলিয়া পাঠাইলেন যে, হয় ইসলাম গ্রহণ কর, নতুবা জিযিয়া কর দাও, অন্যথায় যুদ্ধ কর। কিন্তু তাহারা ধর্ম সম্বন্ধে বিতর্ক করার জন্য শুরাহ্বীলের নেতৃত্ব তিনজন আলেমকে পাঠাইল। হযরত ঈসা সম্বন্ধেও আলোচনা হইল। তাহারা হুযুরের কোন দলীর-প্রমাণই মানিল না। এ সম্বন্ধে আল্লাহ্ এই আয়াতটি নাযিল করিলেন। হুযুর (দঃ) তাহাদিগকে বলিলেন, তোমরা যখন আমার কোন কথাই বিশ্বাস করিলে না, অতএব, চল আয়াতের মর্মানুসারে আমরা উভয় পক্ষ সপরিবারে মিথ্যাবাদীর উপর আল্লাহর অভিসম্পাদের প্রার্থনা করি। হুযুর (দঃ) কন্যা, জামাতা ও দৌহিত্রদ্বয়কে সঙ্গে লইয়া মোবাহালার জন্য প্রস্তুত হইলেন। শুরাহবীল ইহা দেখিয়া সঙ্গীদেরকে বলিলেন, তোমরা জান ইনি সত্য নবী, নবীর সঙ্গে মোবাহালা করিলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। অতএব, আমরা তাঁহার সঙ্গে আপোষ করি। পরিশেষে জিযিয়া প্রদানে সম্মত হইয়া তাহারা সন্ধি করিল। (মুঃকোঃ)

هَا أَنتُمْ هَـٰؤُلَاءِ حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُم بِهِ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَاجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ ۚ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

৬৬। হাঁ, তোমরা এমন যে, এইরূপ বিষয়ে তো তর্ক-বিতর্ক করিয়াইছিলে, যাহাতে তোমাদের কথঞ্চিত জ্ঞান ছিল। কিন্তু এমন বিষয়ে কেন তর্ক-বিতর্ক করিতেছ যাহাতে তোমাদের মোটেই জ্ঞান নাই? আর আল্লাহ্ তা‘আলা জানেন অথচ তোমরা জান না।

مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَـٰكِن كَانَ حَنِيفًا مُّسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ

৬৭। ইব্রাহীম ইহুদীও ছিলেন না এবং নাছারাও ছিলেন না; বরং (নিশ্চয়) সরলপন্থী (অর্থাৎ) মুসলমান ছিলেন; এবং মুশরিকদের অন্তর্গত ছিলেন না।

إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِإِبْرَاهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَهَـٰذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا ۗ وَاللَّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ

৬৮। নিশ্চয়, মানুষের মধ্যে ইব্রাহীমের সঙ্গে সর্বপেক্ষা অধিক বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী নিশ্চিতরূপে তাহারাই ছিল, যাহারা তাঁহার অনুসরণ করিয়াছিল, আর এই নবী (মোহাম্মদ দঃ) এবং এই মু’মিনগণ (উম্মতে মোহাম্মাদী)। আর আল্লাহ্ তা‘আলা মু’মিনদের সাহায্যকারী।

وَدَّت طَّائِفَةٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يُضِلُّونَكُمْ وَمَا يُضِلُّونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ

৬৯। অন্তরের সহিত কামনা করে আহলে কিতাবদের এক দল, যেন তোমাদিগকে পথভ্রষ্ট করিয়া দেয়; আর তাহারা কাহাকেও বিপথগামী করিতে পারে না কিন্তু নিজেরাই নিজদিগকে (বিভ্রান্তির শাস্তিতে নিপতিত করিতেছ); অথচ তাহারা খবর রাখে না।

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ

৭০। হে আহলে কিতাব! কেন কুফর করিতেছ আল্লাহর আয়াতসমূহের সঙ্গে? অথচ তোমরা স্বীকার করিতেছ।

শানে নুযুলঃ

১। ইহুদীরা বলিত, ইব্রাহীম (আঃ) ইহুদী ছিলেন, নাছারারা বলিত, নাছারা ছিলেন। আল্লাহ্ বলেন, তাওরাত ও ইঞ্জীল ইব্রাহীম (আঃ) এর অনেক পরে নাযিল হইয়াছে। অতএব, তিনি পরবর্তী নবীদের ধর্মালম্বী কেমন করিয়া হইবেন? (মুঃকোঃ)
২। তোমাদের কিতাবে ইব্রাহীম সম্বন্ধে বর্ণনা নাই যে, তিনি ইহুদী ছিলেন কি নাছারা ছিলেন, সুতরাং তোমরা জ্ঞাত নও যে, তিনি কোন ধর্মবলম্বী ছিলেন, তবে কেন অজ্ঞাত বিষয় লইয়া তর্ক করিতেছ? (সুঃকোঃ)
৩। তোমরা স্বীকার কর যে, তাওরাত ও ইঞ্জীল আল্লাহর কিতাব, তবে উহাতে আখেরী যমানার নবী মোহাম্মদ (দঃ) এর যে পরিচয় রহিয়াছে কেমন করিয়া উহা অবিশ্বাস করিতেছ? (মুঃকোঃ)

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُونَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

৭১। হে আহলে কিতাব! কেন মিশ্রিত করিতেছ বাস্তবকে অবাস্তবের সঙ্গে, আর (কেন) গোপন করিতেছ সত্যকে? অথচ তোমরা জান।

وَقَالَت طَّائِفَةٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ

৭২। আর আহলে কিতাবদের কেহ কেহ (মুসলমানদিগকে তাহাদের স্বীয় ধর্ম হইতে বিচ্যুত করার উদ্দেশ্যে বলিল যে, ঈমান আন উহার প্রতি যাহা নাযিল করা হইয়াছে মুসলমানদের উপর, দিনের প্রথমাংশে এবং প্রত্যাখ্যান করিয়া বস দিনের শেষ ভাগে। বিচিত্র নহে যে, তাহারা (স্বীয় ধর্ম হইতে) ফিরিয়া যাইবে।

وَلَا تُؤْمِنُوا إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمْ قُلْ إِنَّ الْهُدَىٰ هُدَى اللَّهِ أَن يُؤْتَىٰ أَحَدٌ مِّثْلَ مَا أُوتِيتُمْ أَوْ يُحَاجُّوكُمْ عِندَ رَبِّكُمْ ۗ قُلْ إِنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

৭৩। এবং অন্য কাহারও সম্মুখে স্বীকার করিও না তোমাদের ধর্মের অনুসারী ব্যতীত। হে মোহাম্মদ! আপনি বলিয়া দিন, নিশ্চয়ই হেদায়েত আল্লাহর হেদায়েত। তোমরা এইরূপ ব্যবহার এই জন্য কর যে, অন্যকেও তেমন বস্তু দেওয়া হইতেছে যাহা তোমাদিগকে দেওয়া হইয়াছিল। অথবা অন্য লোক তোমাদের উপর বিজয়ী হইয়া যাইবে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট। আপনি বলিয়া দিন, নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহরই অধিকারে। তিনি ইহা প্রদান করেন যাহাকে ইচ্ছা; আর আল্লাহ্ প্রশস্ততার মালিক, মহা জ্ঞানী।

يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

৭৪। নির্দিষ্ট করিয়া দেন স্বীয় অনুগ্রহের সহিত যাহাকে ইচ্ছা। আর আল্লাহ্ তা‘আলা অতিশয় অনুগ্রহশীল।

শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ, খায়বারের কতিপয় ইহুদী পরস্পর পরামর্শ করিল যে, প্রাতঃকালে কোরআনের উপর ঈমান আনিয়া সন্ধাকালে ফিরিয়া যাও এবং বল, তাওরাত কিতাবে শেষ নবীর যে-সমস্ত নিদর্শন দেখিয়াছি, মোহাম্মদের মধ্যে তাহা নাই। এই কারনেই আমরা ইসলাম গ্রহণ করিয়াও ত্যাগ করিয়াছি। এই ষড়যন্ত্রের ফলে মুসলমানরা মনে করিবে, “ইহারাও তো সত্য কিতাবেরই অনুসারী। হয়ত আমাদের ধর্মে প্রবেশ করিয়া এমন কোন ভুল পাইয়াছে, যদ্দরুন এই ধর্ম ত্যাগ করিয়াছে। হয়ত ইহার ফলে তাহারা ইসলাম ত্যাগ করিয়া ইহুদী হইয়া যাইবে। আল্লাহ্ তা‘আলা হুযুরকে ইহাদের এই ষড়যন্ত্রের কথা আয়াতটিতে জানাইয়া দিলেন। (মুঃকোঃ)

وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِن تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ وَمِنْهُم مَّنْ إِن تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لَّا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ إِلَّا مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَائِمًا ۗ ذَ‌ٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الْأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

৭৫। আর আহলে কিতাবদের মধ্যে কেহ এইরূপ যে, যদি তুমি তাহার নিকট রাশি রাশি ধনও গচ্ছিত রাখ, তবুও সে উহা তোমার নিকট ফিরাইয়া দিবে। আর তাহাদের কেহ এইরূপ যে, যদি তুমি তাহার নিকট একটি মাত্র দীনারও গচ্ছিত রাখ, তবে সে তাহাও তোমাকে ফিরাইয়া দিবে না যে পর্যন্ত না তুমি তাহার শিরোপরি দাঁড়াইয়া থাক। ইহা (গচ্ছিত ধন ফেরৎ না দেওয়া) এই জন্য যে-তাহারা বলে, আমাদের উপর আহলে কিতাব ছাড়া অন্য কাহারও (ধন-সম্পদ) সম্বন্ধে (ধর্মতঃ) কোনরূপ অভিযোগ নাই। এবং তাহারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, অথচ তাহারাও জানে।

بَلَىٰ مَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ وَاتَّقَىٰ فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ

৭৬। অভিযোগ কেন হইবে না?–যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিশ্রুতি পূরণ করে এবং আল্লাহ্কে ভয় করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ ভালোবাসেন (এমন) পরহেযগারগণকে।

إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَـٰئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

৭৭। নিশ্চয় যাহারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতির এবং স্বীয় শপথসমূহের পরিবর্তে সামান্য বিনিময় গ্রহণ করে, তাহারা পরকালে কোন অংশ পাইবে না। আর আল্লাহ্ তাহাদের সঙ্গে কথাও বলিবেন না, এবং দৃষ্টিপাতও করিবেন না তাহাদের প্রতি ক্বিয়ামত দিবসে, এবং তাহাদিগকে পবিত্রও করিবেন না, আর তাহাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি রহিয়াছে।

وَإِنَّ مِنْهُمْ لَفَرِيقًا يَلْوُونَ أَلْسِنَتَهُم بِالْكِتَابِ لِتَحْسَبُوهُ مِنَ الْكِتَابِ وَمَا هُوَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَقُولُونَ هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ وَمَا هُوَ مِنْ عِندِ اللَّهِ وَيَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

৭৮। আর নিশ্চয়, তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ এমন যে, বক্র করে নিজেদের ভাষাকে কিতাব (পাঠ)-এর মধ্যে, যেন তোমরা উহাকে মনে কর কিতাবের অংশ, অথচ উহা কিতাবের অংশ নহে। এবং তাহারা বলে যে, ইহা আল্লাহর নিকট হইতে, অথচ ইহা (কিছুতেই) আল্লাহর নিকট হইতে নহে। আর তাহারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, অথচ তাহারা জানে।

শানে নুযুলঃ

১। ইহুদী আলেম আবদুল্লাহ্ ইবনে-সালাম এর নিকট কেহ বার শত ঊকিয়া স্বর্ণ আমানত রাখিয়াছিল, তিনি তাহা যথাযতভাবে ফেরৎ দিয়াছিলেন। পক্ষান্তরে ফাখ্খাছ ইবনে-আছুরা নামক ইহুদীর নিকট জনৈক মূর্খ কোরেশ একটিমাত্র দীনার আমানত রাখিয়াছিল, সে তাহা আত্মসাৎ করিয়াছিল। এই সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (বঃকোঃ)
২। ইহুদীরা বলে, তাওরাতে বর্ণিত আছে, মূর্খ, আহ্মক ও বিধর্মীদের মাল যে কোন উপায়ে আত্মসাৎ করা জায়েয। তাহারা ইহা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলিতেছ, বরং তাহাদিক হইতে আল্লাহ্ এই ওয়াদাই লইয়াছেন যে, আমানত প্রত্যার্পণ করিবে এবং হারাম মাল হইতে দূরে থাকিবে। (বঃকোঃ)

مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِّي مِن دُونِ اللَّهِ وَلَـٰكِن كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ

৭৯। কোন মানুষের পক্ষে ইহা সম্ভব নহে যে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাহাকে কিতাব এবং জ্ঞান ও নুবুওয়্যাত প্রদান করেন, অতঃপর সে লোকদিগকে বলিবেন, আমার বান্দা হইয়া যাও, আল্লাহকে ত্যাগ করিয়া! বরং সে বলিবে, তোমরা আল্লাহ্ওয়ালা হইয়া যাও, এই জন্য যে, তোমরা কিতাব শিক্ষা দাও এবং এই জন্য যে, তোমরা উহা পাঠ কর।

وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَن تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا ۗ أَيَأْمُرُكُم بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ

৮০। আর একথারও নির্দেশ করিবেন না যে, তোমরা ফেরেশতাদিগকে এবং নবীদিগকে রব স্থির করিয়া লও। তিনি কি তোমাদিগকে কুফরী কথা বলিয়া দিবেন? ইহার পর যে, তোমরা মুসলমান হইয়াছ।

وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُم مِّن كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُّصَدِّقٌ لِّمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ ۚ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَىٰ ذَ‌ٰلِكُمْ إِصْرِي ۖ قَالُوا أَقْرَرْنَا ۚ قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ

৮১। আর যখন আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতিশ্রুতি লইলেন নবীগণ হইতে যে, আমি যাহাকিছু তোমাদিগকে–কিতাব ও জ্ঞান দান করি, অতঃপর যখন তোমাদের নিকট কোন নবী আসেন, যিনি সত্যতা প্রতিপাদনকারী হন উহার যাহা তোমাদের নিকট রহিয়াছে, তখন তোমরা অবশ্য সেই রাসুলের প্রতি ঈমান আনয়ন করিও, এবং তাঁহার সাহায্যও করিবে। বলিলেন, তোমরা কি একরার করিলে এবং এই বিষয়ে আমার প্রতিশ্রুতি (নির্দেশ) কবূল করিলে? তাঁহারা (নবীগণ) বলিলেন, আমরা একরার করিলাম। (আল্লাহ্) বলিলেন, তবে সাক্ষী থাকও এবং আমি (-ও) উহার প্রতি তোমাদের সঙ্গে সাক্ষীদের অন্তর্ভূক্ত রহিলাম।

শানে নুযুলঃ

১। নাজরারের নাছারারা রাসুলুল্লাহ (দঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হইলে তিনি তাহাদিগকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করিলেন। উত্তরে আবু রাফেকারাযী বলিল, আপনি কি চান যে, আমরা আপনার ইবাদত করি? যদ্রুপ নাছারারা ঈসা (আঃ) এর এবাদত করিত। হুযুর (দঃ) বলিলেন, নাউযুবিল্লাহ! কখনই নহে। সেই সম্বন্ধে আয়াতটি নাযিল হয়। (লুঃনুঃ)
২। এখানে অন্যান্য মুশরিক সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকীদার প্রতি ইঙ্গিত করা হইয়াছে। কারণ, তাহাদের মধ্যে কেহ ফেরেশতাকে কেহবা পয়গম্বরকে আবার কেহ কেহ কোন মহান ব্যক্তি বা বস্তুকে এবাদতের যোগ্য বলিয়া বিশ্বাস করে। (বঃকোঃ)
৩। এই প্রতিশ্রুতি প্রথমে আলমে আরউয়াহের মধ্যে লওয়া হইয়াছে, তৎপর পুনরায় ওহীর সাহায্যে দুনিয়াতেও লওয়া হইয়াছে। (বঃকোঃ)