সূরা-আত-তাওবা-বাংলা-অনুবাদ

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ
সর্বমোট আয়াত-১২৯

بَرَاءَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الَّذِينَ عَاهَدتُّم مِّنَ الْمُشْرِكِينَ

বাংলা অর্থ:

১। আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ হইতে এবং তাঁহার রাসূলের পক্ষ হইতে অব্যাহতি হইতেছে সেই মুশরেকদের (অঙ্গীকার) হইতে, যাহাদের সহিত তোমরা সন্ধি করিয়া রাখিয়াছিলে।

فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ ۙ وَأَنَّ اللَّهَ مُخْزِي الْكَافِرِينَ

বাংলা অর্থ:

২। অতএব, (হে মুশরেকগণ!) তোমরা এই ভূমন্ডলে চারি মাস বিচরণ করিয়া লও এবং ইহা জানিয়া রাখ যে, তোমরা আল্লাহ্কে অক্ষম করিতে পারিবেনা, আর নিশ্চয় আল্লাহ্ কাফেরদিগকে অপদস্থ করিবেন।

وَأَذَانٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ ۙ وَرَسُولُهُ ۚ فَإِن تُبْتُمْ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ الَّذِينَ كَفَرُوا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ

বাংলা অর্থ:

৩। আর আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের পক্ষ হ্ইতে বড় হজ্জের তারিখসমুহে জনসাধারণের সম্মুখে ঘোষণা করা হইতেছে যে, আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূল উভয়ই এই মুশরেকদের (-কে নিরাপত্তা প্রদান করা) হইতে নি:সম্পর্ক হইতেছেন; তবে যদি তোমরা তওবা করিয়া লও তাহলে তোমাদের জন্য উত্তম, আর তোমরা বিমুখ হও তবে জানিয়া রাখ যে, তোমরা আল্লাহ্কে অক্ষম করিতে পারিবে না। আর এই কাফেরদিগকে এক যন্ত্রণাময় শাস্তির খবর শুনাইয়া দিন,

إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدتُّم مِّنَ الْمُشْرِكِينَ ثُمَّ لَمْ يَنقُصُوكُمْ شَيْئًا وَلَمْ يُظَاهِرُوا عَلَيْكُمْ أَحَدًا فَأَتِمُّوا إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَىٰ مُدَّتِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ

বাংলা অর্থ:

৪। কিন্তু হ্যাঁ! সেই সকল মুশরেকরা হইতেছে স্বতন্ত্র, যাহাদের নিকট হইতে তোমরা অঙ্গীকার লইয়াছে, অত:পর তাহারা তোমাদের সহিত (অঙ্গীকার পালনে) একটুও ক্রটি করে নাই, এবং তাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে কাহারো সাহায্য করে নাই, সুতরাং তাহাদের সন্ধি চুক্তিকে তাহাদের (নিধারিত) সময় পর্যন্ত পূর্ণ কর; নিশ্চয় আল্লাহ্ সংযমশীলদের কে পছন্দ করেন।

ফ: মাসআলাঃ সূরায়ে তওবা পূর্ববর্তী সূরার অংশ হওয়ার সম্ভবনা রহিয়াছে বলিয়া উহার প্রথমে বিসমিল্লাহ্ নাই। অতএব, কেহ এই সূরার প্রথম ইহতে কিংবা মধ্যস্থ কোন আয়াত হইতে তেলাওয়াত আরম্ভ করিতে বিসমিল্লাহ পড়িতে হইবে। আর উপর হইতে তেলাওয়াত করিয়া আসিলে এই সূরার প্রথমে বিসমিল্লাহ পড়িতে হইবে না। (ব:কো:)

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। হুযূর (দ:) আরবের মুশরিকদের সঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদে সন্ধি করিয়া ছিলেন বনী নাযীর ও বনী কেনানা ব্যতীত সকলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সন্ধি ভাঙ্গিয়া দিয়াছিল। তখন এই নির্দেশ আসিল যে, ১০ই যিলহজ্জ হইতে ১০ই রবিউল আখের পর্যন্ত চারি মাস মুসলমানদের হইতে নিরাপত্তার সহিত চলাফেরা কর। অত:পর নিরাপত্তা থাকিবে না। (মু: কো:)
২। হজ্জকে আকবর এই জন্য বলা হইয়াছে যে, ওমরাকে (হজ্জে) আছগর বলা হয়। (ফা: ওসমানী)

فَإِذَا انسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ ۚ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৫। অতএব, যখন নিষিদ্ধ মাসগুলি অতীত হইয়া যায়, তবে সেই মুশরেকদিগকে যেখানে পাও বধ কর এবং তাহাদিগকে ধৃত কর এবং অবরোধ করিয়া রাখ এবং ঘাঁটি-স্থল সমূহে তাহাদের সন্ধানে অবস্থান কর, অত:পর যদি তাহারা তওবা করিয়া লয় এবং নামাযা পড়ে ও যাকাত আদায় করে, তবে তাহাদের পথ ছাড়িয়া দাও নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা‘আলা অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুণাময়।

وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّىٰ يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ۚ ذَ‌ٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْلَمُونَ

বাংলা অর্থ:

৬। আর যদি মুশরেকদের মধ্য হইতে কেহ আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে আপনি তাহাকে আশ্রয় দান করুন, যাহাতে সে আল্লাহর কালাম শুনিতে পায়, অত:পর তাহাকে তাহার নিরাপদ স্থানে পৌছাইয়া দিন, এই আদেশ এই জন্য যে, ইহারা এমন লোক যে, পূর্ণ জ্ঞান রাখে না।

كَيْفَ يَكُونُ لِلْمُشْرِكِينَ عَهْدٌ عِندَ اللَّهِ وَعِندَ رَسُولِهِ إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدتُّمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۖ فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ

বাংলা অর্থ:

৭। এই (কুরাইশ) মুশরেকদের অঙ্গীকার আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট এবং তাঁহার রাসূলের নিকট কিরূপে (বলবৎ) থাকিবে? -কিন্তু যাহাদের থেকে তোমরা মসজিদে হারামের সন্নিকটে অঙ্গীকার লইয়াছ, অতএব, যে-পর্যন্ত ইহারা তোমাদের সহিত সরলভাবে থাকে তোমরাও তাহাদের সহিত সরলভাবে থাকিও; নি:সন্দেহ, আল্লাহ্ সংযমশীলদেরকে পছন্দ করেন।

كَيْفَ وَإِن يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ لَا يَرْقُبُوا فِيكُمْ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً ۚ يُرْضُونَكُم بِأَفْوَاهِهِمْ وَتَأْبَىٰ قُلُوبُهُمْ وَأَكْثَرُهُمْ فَاسِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৮। কি করিয়া (কুরাইশ মুশরেকরা চুক্তি রক্ষা করিবে)? অথচ অবস্থা এই যে, যদি তাহারা তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করে, তবে তোমাদের আত্মীয়তার মর্যাদাও রক্ষা করিবে না, আর না অঙ্গীকারের; ইহারা তোমাদিগকে নিজেদের মুখের কথায় সন্তুুষ্ট করিতেছে এবং তাহাদের অন্তরসমূহ অঙ্গীকার করে, আর তাহাদের অধিকাংশ লোকই দুষ্ট।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। যাহাদের সহিত সন্ধি স্থাপিত হইয়াছিল এবং তাহারা উহা লঙ্ঘন করে নাই, তাহাদের সন্ধি বহাল রহিয়াছে। আর যাহাদের সহিত প্রতিশ্রুতি ছিল না, তাহাদিগকে চারি মাসের অবকাশ দেওয়া হইল। হুযূর বলিয়াছেন, মনের খবর আল্লাহ্ জানেন। প্রকাশ্যে যাহারা মুসলমান, তাহারা মুসলমানদের সহিত নিরাপত্তায় থাকিবে। আর বাহ্যিক মুসলমান হওয়ার সীমা নিধারণ করিয়া দিলেন ঈমান আনয়ন করা, তওবা কর, নামায পড়া এবং যাকাত দেওয়া এই কারণেই যেই ব্যক্তি যাকাতের ফরয হওয়া অস্বীকার করিয়া যাকাত বন্ধ করিবে, তাহার নিরাপত্তা রহিত হইবে। হযরত আবূ বকর যাকাত বন্ধকারীকে সাধারণ কাফেরের ন্যায় হত্যা করিতেন। (মু:কো:)
২। অর্থাৎ এতটুকু নিরাপত্তা প্রদানে ক্ষতি নাই যে, কিছু জিজ্ঞাসা করিল গুণাহ হইবে, নিরাপদ স্থানে যাইতে চাহিলে বাধা দিবে না। অত:পর সকল কাফেরই এক সমান। (মু:কো:)

اشْتَرَوْا بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَصَدُّوا عَن سَبِيلِهِ ۚ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

৯। তাহারা আল্লাহর আহকামের বিনিময়ে অস্থায়ী সম্পদ বরণ করিয়া রাখিয়াছে ফলত: তাহারা আল্লাহর রাস্তা হইতে সরিয়া রহিয়াছে; নিশ্চয় তাহাদের কাজ অতি মন্দ।

لَا يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُعْتَدُونَ

বাংলা অর্থ:

১০। ইহারা কোন মুসলমানের ব্যাপারে আত্মীয়তার মর্যাদাও রক্ষা করে না আর না অঙ্গীকারের; আর ইহারা (বিশেষত: এই ব্যাপারে) খুবই বাড়াবাড়ি করিতেছে।

فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

বাংলা অর্থ:

১১। অতএব, যদি তাহারা তওবা করিয়া লয় এবং নামায পড়িতে থাকে ও যাকার দিতে থাকে, তবে তাহারা তোমাদের ধর্ম-ভাই হইয়া যাইবে; আর আমি জ্ঞানী লোকদের জন্য বিধানাবলী বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করিয়া থাকি।

وَإِن نَّكَثُوا أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ ۙ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ

বাংলা অর্থ:

১২। আর যদি তাহারা অঙ্গীকার করার পর নিজেদের শপথগুলিকে ভঙ্গ করিয়া ফেলে এবং তোমাদের ধর্মের প্রতি দোষারোপ করে, তবে তোমরা কুফরের অগ্রনায়কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, (এই অবস্থায়) তাহাদের শপথ রহিল না যেন তাহারা প্রত্যাবর্তন করে।

أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

১৩। তোমরা এমন লোকদের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ কর না? যাহারা নিজেদের শপথগুলিকে ভঙ্গ করিয়া ফেলিয়াছে, আর রাসূলকে দেশান্তর করার সিন্ধান্ত করিয়াছে এবং তাহারা তোমাদের বিরুদ্ধে নিজেরাই প্রথমে বিবাদ সৃষ্টি করিল; তোমরা কি তাহাদিগকে ভয় করিতেছ? বস্তুত: আল্লাহ্ তা‘আলা হইতেছেন অধিক হক্কদার এ-বিষয়ে যে, তোমরা তাঁহাকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমান রাখ।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ তাহারা অঙ্গীকার পালনে ইচ্ছুক নহে। কচিৎক্রমে তাহাদের দুই একজন ভাল লোক অঙ্গীকার পালন করিতে চাহিলেও অধিকাংশ দুষ্টলোকের মতের বিরুদ্ধে তাহাদের দুই একজনের মত কেমন করিয়া কার্যকারী হইবে? তাহাদের অধিকাংশ লোক দুষ্ট বুদ্ধি হওয়ার করণ পরবতী আয়াতে বর্ণনা করিতেছেন। (ব:কো:)
২। অর্থাৎ তাহাদের যখন অঙ্গীকার ভঙ্গের সম্ভাবনা রহিয়াছে, তখন তাহাদের উভয় অবস্থার জন্য পৃথক র্পথক ব্যবস্থাও শুনান হইতেছে। (ব:কো:)
৩। “প্রথমে বিবাদ সৃষ্টি” অর্থ বদরের যুদ্ধে প্রথমে যুদ্ধের ইচ্ছা পোষণ করা। কেননা, কাফেরেরা কাফেলার সাহায্যার্থ আসিয়াছিল। কাফেলা নিরাপদে চলিয়া গিয়াছে জানিয়া তাহাদেরও চলিয়া যাওয়া উচিত ছিল। তাহা না করিয়া তাহারা যুদ্ধের ইচ্ছায় দৃঢ় রহিল। ইহা তাহাদের অহংকার এবং যুলুম বটে। (ই:কো 🙂

قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

১৪। তাহাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর, আল্লাহ্ তোমাদের হাতে তাহাদিগকে শাস্তি দিবেন এবং তাহাদিগকে লাঞ্ছিত করিবেন, আর তোমাদিগকে তাহাদের উপর বিজয়ী করিবেন, আর বহু মুসলমানের অন্তর সমূহকে উপশান্ত করিবেন।

وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ ۗ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১৫। আর তাহাদের অন্তরসমূহের ক্ষোভ (ও ক্রোধ) দূর করিয়া দিবেন; এবং (সেই কাফেরদের মধ্যকার) যাহার প্রতি ইচ্ছা হয়, আল্লাহ্ করুণা (-ও) প্রদর্শন করিবেন; আর আল্লাহ্ তা‘আলা মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تُتْرَكُوا وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَلَمْ يَتَّخِذُوا مِن دُونِ اللَّهِ وَلَا رَسُولِهِ وَلَا الْمُؤْمِنِينَ وَلِيجَةً ۚ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

১৬। তোমরা কি এই ধারণা কর যে, তোমাদিগকে এহভাবেই ছাড়িয়া দেওয়া হইবে? অথচ আল্লাহ্ তো এখনও সেই সকল লোকদিগকে (প্রকাশ্য-ভাবে) দেখেন নাই, যাহারা তোমাদের মধ্য হইতে জেহাদ করিয়াছে এবং আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূল এবং মু‘মেনগণ ব্যতীত অন্য কাহাকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নাই; আর আল্লাহ্ তোমাদের সকল কর্মসমূহের পূর্ণ খবর রাখেন।

مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَن يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَىٰ أَنفُسِهِم بِالْكُفْرِ ۚ أُولَـٰئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ

বাংলা অর্থ:

১৭। মুশরেকদের এই যোগ্যতাই নাই যে, তাহারা আল্লাহর মসজিদসমুহকে আবাদ করে যে অবস্থায় তাহারা নিজেদের কুফরীর স্বীকারোক্তি করিতেছে; তাহাদের সমস্ত (সৎ) কার্যাবলি বিফল হইল, আর তাহারা দোযখে অনন্তকাল থাকিবে।

إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَـٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ

বাংলা অর্থ:

১৮। হ্যাঁ আল্লাহর মসজিদগুলি আবাদ করা তাহাদেরই কাজ, যাহারা আল্লাহর প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং নামায কায়েম রাখে এবং যাকাত প্রদান করে আর আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতীত কাহাকেও ভয় করে না,বস্তুত: এই সকল লোক সম্বন্ধে আশা যে, তাহারা নিজেদের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়া যাইবে।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। আল্লাহ্ জিহাদের তথ্য বর্ণনা করিতেছেন যে, যদিও আমি এক নিমিষে শক্রকে ধ্বংস করিতে পারি। কিন্তু আমার ইচ্ছা তাহারা তোমাদের হাতে শাস্তি ভোগ করুক। (ই:কা:)
২। ষষ্ঠ হিজরীতে হুদাই বিয়ার কাফেরদের সহিত এই শতে সন্ধি হয় যে, দশ বৎসর যুদ্ধ বন্ধ থাকিবে। এই দশ বৎসর কালবলী খোযা‘আ হুযূরের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তিতে আবন্ধ ছিল। বনী বকর গোত্র তাহাদের উপর আক্রমন করিলে ক্বোরাইশরা সন্ধি শর্ত লঙ্ঘন পূর্বক বনী বকরের পক্ষে বনী খোযাআর লোকদের হত্যা করে। এতদ্বিষয়ে উপরের আয়াতগুলি নাযিল হয়। (ই: কা: )
৩। হযরত আব্বাস (রা:) বন্দী হইয়া আসলে মুসলমানগণ তাঁহাকে শিরক ও আত্মীয় বিচ্ছেদের অপবাদ দিল। তিনি বলিলেন, তোমরা আমার দোষেরই কথা বলিতেছ; কিন্তু আমরা যে মসজিদে হারাম কে আবাদ রাখিতেছি। কা‘বা ঘরের তা‘যীম করিতেছি ইত্যাদি গুণের কথা বলিতেছ না। তখন এই আয়াতগুলি নাযিল হয়। (লু: কো:)

أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ لَا يَسْتَوُونَ عِندَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

বাংলা অর্থ:

১৯। তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানোকে এবং মসজিদে হারামের আবাদ রাখাকে সেই ব্যক্তির (কাজের) সমান সাব্যস্ত করিয়া রাখিয়াছ? যে-ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলা ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান আনিয়াছে, আর সে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করিয়াছে, ইহারা আল্লাহ্ তা‘আলার সমীপে সমান নহে। আর যাহার অবিচারক, আল্লাহ্তা‘আলা তাহাদগকে সুবুদ্ধি দান করেন না।

الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللَّهِ ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ

বাংলা অর্থ:

২০। যাহার ঈমান আনিয়াছে এবং হিজরত করিয়াছে আর তাহারা নিজেদের ধন ও প্রাণ দ্বারা আল্লাহ্ তা‘আলার রাস্তায় জেহাদ করিয়াছে, তাহারা মর্যাদায় আল্লাহ্ তা‘আলার সমীপে অতি বড়; আর ইহারাই হইতেছে পূর্ণ সফলকাম।

يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُم بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَّهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُّقِيمٌ

বাংলা অর্থ:

২১। তাহাদের প্রতিপালক তাগাদিগকে সুসংবাদ দিতেছেন নিজের পক্ষ হইতে বড় রহমতের ও অতি সন্তুষ্টির, আর এমন বাগানসমূহের যাহার মধ্যে তাহাদের জন্য চিরস্থায়ী নেয়ামত থাকিবে।

خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ

বাংলা অর্থ:

২২। উহাতে তাহারা অনন্তকাল থাকিবে; নি:সন্দেহে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট রহিয়াছে শ্রেষ্ঠ বিনিময়।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

বাংলা অর্থ:

২৩। হে ঈমানদারগন! নিজেদের পিতৃগণকে এবং ভ্রাতাগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিও না যদি তাহার ঈমানের মুকাবেলায় কুফরকে প্রিয় মনে করে; আর যাহারা তোমাদের মধ্য হইতে তাহাদের সহিত বন্ধুত্ব রাখিবে, বস্তুত এইরূপ লোকেরাই হইতেছে বড় নাফরমান।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। কেননা, পানি পান কারনেওয়ালা ও মসজিদ আবাদকারীর যদি ঈমান না থাকে, তবে তো তাহারা যাবতীয় খেদমত হিসাবের মধ্যেই পণ্য নহে, কোন মুসলমানের সহিত তাহাদের তুলনা চলে না। ঈমান থাকিলে অবশ্য এই সমস্ত কাজের দরুন এক সীমা পর্যন্ত গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হইবে। কিন্তু মুহাজির ও মুজাহিদগণ অন্যান্য মুসলমানের চেয়ে বহু গুণে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁহাদের সফল তাও উন্নত স্তরের। (ব: কো:)
২। হুযূরের প্রতি হিজরতের নির্দেশ হওয়ার সঙ্গে কতিপয় সাহাবী স্বেচ্ছায় আনন্দের সহিত মদীনায় হিজরত করিলেন, কিন্তু কেহ নিজ মাতা, স্ত্রী-পুত্র ও ধন-সম্পদের আকর্ষণে হিজরত করেন নাই। তাঁহাদের সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (ব:কো:)

قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

বাংলা অর্থ:

২৪। আপনি বলিয়া দিন যে, যদি তোমাদের পিতৃবর্গ এবং তোমাদের পুত্রগন এবং তোমাদের ভ্রাতাগণ এবং তোমাদের স্ত্রীগণ এবং তোমাদের স্বগোত্র আর সেই সকল ধন সম্পদ যাহা তোমরা অর্জন করিয়াছ এবং সেই ব্যবসায় যাহাতে তোমরা মন্দা পড়িবার আশঙ্কা করিতেছ আর সেই গৃহসমূহ যাহা তোমরা পছন্দ করিতেছ (যদি এইসব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ্ এবং তাঁহার রাসূলের চেয়ে এবং তাঁহার রাস্তায় জেহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা প্রতিক্ষা করিতে থাক এই র্পন্ত যে, আল্লাহ্ তা‘আলা নিজের নির্দেশ পাঠাইয়া দেন; আর আল্লাহ্ তাআলা আদেশ অমান্যকারীদিগকে তাহাদের উদ্দিষ্ট-স্থাল পর্যন্ত পৌঁছান না।

لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ ۙ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ ۙ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ

বাংলা অর্থ:

২৫। অবশ্যই আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদিগকে (যুদ্ধে) বহু ক্ষেত্রে (কাফেরদের উপর) বিজয়ী করিয়াছেন এবং হুনাইনের দিনেও যখন তোমাদের কে তোমাদের সংখ্যাধিক গর্বে উন্মত্ত করিয়াছিল, অত:পর সেই সংখ্যাধিক্য তোমাদের কোনই কাজে আসে নাই, আর ভূপৃষ্ঠ নিজের প্রশস্ততা সত্ত্বেও (উহা) তোমাদের উপর সংকীণ হইতে লাগিল, তৎপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শণ পূর্বক পলায়ন করিলে।

ثُمَّ أَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَذَ‌ٰلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ

বাংলা অর্থ:

২৬। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা নিজ রাসূলের প্রতি এবং অন্যান্য মু‘মেনদের প্রতি নিজের (পক্ষ হইতে) সান্ত¡না নাযিল করিলেন এবং এমন সৈন্যদল (অর্থাৎ, ফেরেশতা) নাযিল করিলেন, যাহাদিগকে তোমরা দেখ নাই, আর কাফেরদিগকে শাস্তি প্রদান করিলেন; আর ইহা হইতেছে কাফেরদের শাস্তি।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। পূর্বোক্ত আয়াতটি নাযিল হইলে হিজরত হইতে পশ্চাৎপদ লোকেরা বলিল, এখন আমরা নিজেদের পরিবারবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে রহিয়াছি এবং ব্যবসায় বাণিজ্যে রত থাকিয়া স্বচ্ছন্দে দিন কাটাইতেছি, হিজরত করিলে সবকিছুই ত্যাগ করিতে হইবে। এই সম্পর্কে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মু:কো 🙂
২। অর্থাৎ বদরের যুদ্ধে বনী নযীর ও বনী কুরাইযাদের সহিত সংঘর্ষ কালে, পরিখা যুদ্ধে, হুদাইবিয়ার দিন, খায়বারের যুদ্ধ প্রভৃতি সময়ে বিজয় দান করিয়াছেন। (মু:কো 🙂
৩। রেওয়ায়েত আছে যে, মক্কা বিজয়ের পর হুযূর (দ:) খবর পাইলেন যে, হাওয়াযেন ও সাকীফ গোত্রদ্বয়ের চারিত সহস্র লোক মুসলমানদের আক্রমণ কল্পে উদ্যত রহিয়াছে; তিনি বার হাজার সাহাবী লইয়া তাহাদের শায়েস্তা করিতে চলিলেন, হুনায়েনে পৌঁছার পর কাফেরদের সংখ্যা অল্প দেখিয়া জনৈক সাহাবী বলিল, “আজ আমরা পরাজিত হইব না” হুযূরের নিকট খারাপ লাগিল, বস্তুত: প্রথমে মুসলমানদের পরাজয় হইল। (ব: কো:)

ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِن بَعْدِ ذَ‌ٰلِكَ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

২৭। অনন্তর আল্লাহ তা‘আলা (সেই কাফেরদের মধ্য হইতে) যাহাকে ইচ্ছা তওবা করার সুযোগ দান করেন; আর আল্লাহ্ তা‘আলা হইতেছেন অতি ক্ষমাশীল, পরম করণাময়।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَـٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ إِن شَاءَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

২৮। হে ঈমানদার গণ! মুশরেকরা হইতেছে (তাহাদের বদ-আক্কায়েদের দরুন) একেবারেই অপবিত্র, অতএব, তাহার যেন এই বৎসরের পর মসজিদে হারামের (অর্ধাৎ, হরম শরীফের) নিকটে (-ও) আসিতে না পারে আর যদি তোমাদের আশঙ্কা হয় দারিদ্রের, তবে আল্লাহ্ তা‘আলা নিজ অনুগ্রহে তোমাদিগকে অভাবমুক্ত করিয়া দিবেন যদি তিনি চাহেন; নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা অতিশয় জ্ঞানী, বড়ই হেকমতওয়ালা।

قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ

বাংলা অর্থ:

২৯। যে সকল আহলে কিতাব আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি ঈমান রাখে না এবং কিয়ামত দিবসের প্রতিও (ঈমান রাখে) না, আর সেই বস্তুগুলিকে হারাম মনে করে না যেইগুলিকে আল্লাহ তা’আলা ও তাঁহার রাসূল হারাম বলিয়াছেন, আর সত্য ধর্ম (অর্থাৎ, ইসলাম) গ্রহণ করে না, তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতে থাক, যে-পর্যন্ত না তাহার অধীনতা স্বীকতার করিয়া প্রজা রূপে জিযয়িা দিতে স্বীকৃত হয়।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। ইহুদী, নাছারা ও মুশরিক নির্বিশেষে সমস্ত কাফেরদের মন নাপাক। অতএব, এ বৎসরের পর অর্থাৎ দশম হিজরী হইতে তাহারা যেন মসজিদে হারামের নিকটে না আসে। (ব: কো:)
২। অভাব দুর করার ওয়াদা এইরূপে পূর্ণ করিয়াছিলেন যে, ইয়ামান ও অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ীদিগকে আল্লাহ্ মুসলমান করিয়া দিয়াছিলেন। তাহার সর্বপ্রকারের পণ্যদ্রব্য মক্কায় আনিয়া থাকে। ফলে মক্কাবাসীদের ব্যবসা চালু হওয়ার দরুণ তাহাদের অভাব বিদূরিত হয়। (ব:কো:)
৩। জিযিয়া কর ইসলামের বিনিময় নহে; বরং প্রানের বিনিময় কেননা, যাহাদিগকে বধ করার বিধাণ নাই, তাহাদের প্রতি জিযিয়াও নাই। যেমন, স্ত্রী লোক, শিশু, অতি বৃদ্ধ ইত্যাদি। (ব:কো:)

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ۖ ذَ‌ٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ ۖ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ ۚ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ ۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ

বাংলা অর্থ:

৩০। আর (কতক) ইহুদীরা বলিল, ওযায়ের হইতেছেন আল্লাহ্ তা‘আলার পুত্র এবং (অধিকাংশ) নাছারারা বলিল, মাসীহ ইহতেছেন আল্লাহর পুত্র; ইহা হইতেছে তাহাদের কথা তাহাদের মুখের কথা মাত্র (বাস্তবে তাহা কিছুই নহে) ইহারাও তাহাদের ন্যায়ই বলিতেছে, যাহারা তাহাদের পূর্বে কাফের হইয়া গিয়াছে; আল্লাহ তা‘আলা তাহাদিগকে ধ্বংস করুন, ইহারা উল্টা কোন দিকে যাইতেছে।

اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَـٰهًا وَاحِدًا ۖ لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

বাংলা অর্থ:

৩১। তাহারা আল্লাহ্কে ছাড়িয়া নিজেদের আলেম ও ধর্ম-যাজকদেরকে প্রভু বানাইয়া রাখিয়াছে এবং মারইয়ামের পুত্র মাসীহকেও অথচ তাহাদের প্রতি শুধু এই আদেশ করা হইয়াছে যে, তাহারা কেবল মাত্র এবাদত করিবে এক মা‘বুদের, যিনি ব্যতীত মা‘বুদ হওয়ার যোগ্য কেহই নাই; তিনি তাহাদের অংশী স্থির করা হইতে পবিত্র।

يُرِيدُونَ أَن يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ

বাংলা অর্থ:

৩২। তাহারা এইরূপে চাহিতেছে যে, আল্লাহ্ তা‘আলা স্বীয় নূর (অর্থাৎ, দ্বীন- ইসলাম) কে পূর্ণত্বে পৌঁছান ব্যতীত নিরস্ত হইবেন না, যদিও কাফেররা অপ্রতিকরই মনে করে।

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ

বাংলা অর্থ:

৩৩। সেই আল্লাহ্ তা‘আলা এমন যে, তিনি নিজ রাসূলকে হেদায়ত (অর্থাৎ কুরআন) এবং সত্য ধর্ম সহকারে প্রেরণ করিয়াছেন, যেন উহাকে সকল ধর্মের উপর প্রবল করিয়া দেন, যদিও মুশরেকারা অপ্রীতিকর মনে করে।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। ঈসা (আ:) পিতা ব্যতীত জন্মগ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া নাছারাগণ তাঁহাকে খোদার পুত্র বলে, আর ইহুদীরা ওযাইর (আ:) কে আল্লাহর পুত্র এই জন্য বলে যে বোখতেনাসার যখন বাইতুল মুকাদ্দাসকে ধ্বংস করিয়াদিল এবং তাওরাত ও তাওরাতের হাফেযদিগকে ধ্বংস করিল এবং অনেক লোককে বন্দী করিল, বন্দীদের মধ্যে ওযাইব (আ:) ও ছিলেন। বোখতনাসারের মৃত্যুর পর তিনি মুক্তি লাভ করিয়া আসার পথে আল্লাহ্ তাহাকে একশত বৎসর পর্যন্ত মৃত অবস্থায়া রাখিলেন, আবার জীবিত করিয়া দিলেন তিনি বস্তিতে আসিলে সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁহাকে পরীক্ষা করিল। তিনি স্মরণশক্তি দ্বারা পূর্ণ তাওরাত লিখিয়া ফেলিলেন, ইহা দেখিয়া লোকেরা তাহাকে খোদার পুত্র বলিতে লাগিল। (মু:কো:)
২। যেমন বনী মুদলেজ সম্প্রদায়ের কাফেরেরা ফেরেশতাদিগকে খোদার কন্যা বলিত। (মু:কো:)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۗ وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ

বাংলা অর্থ:

৩৪। হে ঈমানদারগণ! অধিকাংশ আহবার এবং রোহবান (অর্থাৎ ইহুদী ও নাছারাদের আলেম ও ধর্ম-যাজক) মানুষের ধন-সম্পদ শরীঅত বিরুদ্ধে উপায়ে ভক্ষন করে এবং আল্লাহ্ তা‘ আলার পথ হইতে বিরত রাখে; আর যাহারা (অতি লোভের বশবতী হইয়া) স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করিয়া রাখে এবং উহা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না অতএব, আপনি তাহাদিগকে অতি যন্ত্রণাাময় এক শাস্তির সংবাদ শুনাইয়া দিন।

يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هَـٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ

বাংলা অর্থ:

৩৫। যাহা সেই দিন ঘটিবে, ইে দিন দোযখের অগ্নিতে সেই গুলিকে উত্তপ্ত করা হইবে, অত:পর সেইগুলি দ্বারা তাহাদের ললাটসমুহের এবং তাহাদের পার্শ্বদেশসমূহে ও তাহাদের পৃষ্ঠদেশসমুহের দাগ দেওয়া হইবে (এবং বলা হইবে) ইহা তাহাই যাহা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করিয়া রাখিয়াছেলে সুতরাং এখন নিজেদের সঞ্চয়ের স্বাদ গ্রহণ কর।

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَ‌ٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ

বাংলা অর্থ:

৩৬। নিশ্চয় মাসসমূহের সংখ্যা হইতেছে আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট বার (চান্দ্র )মাস আল্লাহর কিতাবে (অথাৎ, শরীঅতের বিধানে) আল্লাহর যমীন ও আসমানসমূহ সৃষ্টি করার দিবস হইতেই, (এবং) উহার মধ্যে বিশেষরূপে চারিটি মাস হইতেছে সম্মানিত; ইহাই হইতেছে সুপ্রতিষ্ঠিত ধর্ম, অতএব, তোমরা এই মাসগুলি সম্বন্ধে (ধর্মের বিরুদ্ধাচরন করিয়া) নিজেদের ক্ষতিসাধন করিও না, আর এই মুশরেকদদের সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যেমন তাহারা তোমাদের সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে; আর ইহা জানিয়া রাখ যে, আল্লাহ তা‘আলা মুত্তাক্কীদের সঙ্গে রহিয়াছেন।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। শরীঅতের বিধানে সর্বদা সর্বক্ষেত্রেই বার মাসের বৎসর। কমও নহে বেশী নহে। আর ইব্রাহীমী ধর্মে চারিটি মাস সম্মানিত ছিল, যিলকা‘আদা, যিলহাজ্জ মুহাররম ও রজব। এই মাসগুলিতে যুদ্ধ বিগ্রহ ও রক্তপাত হারাম ছিল। সুতরাং এই কয়েক মাসে সমগ্র আরব দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা থাকিত। ইহাতে মানুষ নিরাপদে হজ্জ এবং ওমরা করিতে পারিত। এখন অধিকাংশ আলেমের মতে এই বিধানটি বলবৎ নাই। এই আয়াতটি হইতে ইহাই বুঝা যায় যেমন, কাফেরদের সহিত যুদ্ধ করা সকল সময়ই জায়েয এবং নিজেরা পরস্পর মারামারি করা সকল সময়ই গুনাহ। এই মাসগুলিতে বিশেষ করিয়া অধিক গুনাহ; কিন্তু উত্তম এই যে, যদি কোন কাফের এই মাসগুলির সম্মান রক্ষা করিতে চায়, তবে আমরা আগে তাহাদের সহিত যুদ্ধ আরম্ভ কর উচিত নহে। (মু:কো:)

إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ ۖ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِّيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ ۚ زُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ

বাংলা অর্থ:

৩৭। এই (মাসগুলির) স্থানান্তর কুফরের মধ্যে আরও বৃদ্ধি মাত্র, যদ্দারা কাফেরদিগকে পথভ্রষ্ট করা হয় (এইরূপে) যে, তাহারা সেই হারাম মাসকে কোন বৎসর হালাল করিয়া লয় এবং কোন বৎসর হারাম মনে করে-আল্লাহ্ যেই মাসগুলিকে হারাম করিয়াছেন যেন তাহার উহাদের সংখ্যা পূর্ণ করিয়া লইতে পারে, অত:পর তাহারা আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলিকে হালাল করিয়া লয়; তাহাদের দুষ্কর্মগুলি তাহাদের নিকট ভাল মনে হয়; আর আল্লাহ্ এইরূপ কাফেরদিগকে হেদায়ত (-এর তওফীক দান) করেন না।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ

বাংলা অর্থ:

৩৮। হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কি হইল, যখন তোমাদিগকে বলা হয় যে (জেহাদের জন্য) বাহির হও আল্লাহর রাস্তায়, তখন তোমরা মাটিতে লাগিয়া থাক। (অর্থাৎ অলসভাবে বসিয়া থাক) তবে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনের উপর পরিতুষ্ট হইয়া গেলে? বস্তুত: পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাস তো আখেরাতের তুলনায় কিছুই নহে-অতি সামান্য।

إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা অর্থ:

৩৯। যদি তোমরা বাহির না হও তবে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদিগকে কঠোর শাস্তি প্রদান করিবেন (অর্থাৎ, ধ্বংস করিয়া দিবেন) এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করিয়া দিবেন, আর তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার (ধর্মের) কোনই ক্ষতি করিতে পারিবে না; এবং আল্লাহ্ হইতেছেন পূর্ণ ক্ষমতাবান।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। আরবের কাফেরগণ ইব্রাহীমী ধর্মের দাবিদার ছিল। কাজেই তাহারা হারাম মাসগুলিকে মানিয়া চলত কখনও যুদ্ধ করার আবশ্যক হইলে কিংবা যুদ্ধ করিতে করিতে হারাম মাস আসিয়া পড়িলে তাহার বলিত, এইবার এই মাসটি হারাম মাস বলিয়া গন্য হইবে না ইহার পরের মাসটি গন্য হইবে। (মু: কো:)
২। হুযূর (দ:)সংবাদ পাইলেন যে, খৃষ্টানরা মদীনা আক্রমণের জন্য তবূকে সমবেত হইতেছে। তাহাদিগকে মদীনা আক্রমনের সুযোগ না দেওয়ার জন্য তিনি সকল মুসলমানকে একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন তখন তীব্র গরমের মৌসুম আবার বালুকাময় পথ অতিক্রম কর, ওদিকে রসদের ও অভাব। কাজেই এই যুদ্ধ-যাত্রা যে নিতান্ত কষ্টকর ছিল, এইজন্য এই আয়াতগুলিতে যুদ্ধ-যাত্রার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হইয়াছে। (বঃকোঃ)

إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَىٰ ۗ وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৪০। যদি তোমরা রাসুলুল্লাহর সাহায্য না কর, তবে আল্লাহ্ তা‘আলা (-ই তাঁহার সাহায্য করিবেন, যেমন তিনি) তাঁহার সাহায্য করিয়াছিলেন সেই সময় যখন কাফেররা তাঁহাকে দেশান্তর করিয়া দিয়াছিল। যখন দুই জনের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি যেই সময় উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, যখন তিনি স্বীয় স্ঙ্গী (হযরত আবু বকর ছিদ্দীক কে বলিতেছিলেন তুমি বিষণ্ণ না নিশ্চয় আল্লাহ্ (-র সাহায্য) আমাদের সঙ্গে রহিয়াছেন, অত:পর আল্লাহ্ তাঁহার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করিলেন এবং তাঁহাকে শক্তিশালী করিলেন এমন সেনাদল দ্বারা যাহাদিগকে তোমরা দেখিতে পাও নাই এবং আল্লাহ্ তা‘আলা কাফেরদের বাক্য নীচু (অর্থাৎ, প্রচেষ্টা ব্যর্থ) করিয়া দিলেন আর আল্লাহর বাণীই সমুচ্চ রহিল; আর আল্লাহ্ তা ‘আলা হইতেছেন প্রবল প্রজ্ঞাময়।

انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ ذَ‌ٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

বাংলা অর্থ:

৪১। বাহির হইয়া পড় স্বল্প সরঞ্জামের সহিত (-ই হউক) প্রচুর সরঞ্জামের সহিত (-ই হউক) এবং আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা যুদ্ধ কর; ইহা তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা বিশ্বাস কর।

لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِيبًا وَسَفَرًا قَاصِدًا لَّاتَّبَعُوكَ وَلَـٰكِن بَعُدَتْ عَلَيْهِمُ الشُّقَّةُ ۚ وَسَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَوِ اسْتَطَعْنَا لَخَرَجْنَا مَعَكُمْ يُهْلِكُونَ أَنفُسَهُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

বাংলা অর্থ:

৪২। যদি কিছু আশু লভ্য হইত এবং সফর ও সহজ হইত, তবে তাহারা অবশ্যই আপনার সহগামী হইত, কিন্তু তাহাদের তো পথের দুরত্বই দীর্ঘতর বোধ হইতে লাগিল; আর তাহারা এখনই আল্লাহর নামে শপথ করিয়া বলিবে যে যদি আমাদের সাধ্য থাকিত, তবে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে বাহির হইতাম তাহারা (মিথ্যা বলিয়া) নিজেরাই নিজদিগকে বিনষ্ট করিতেছে, আর আল্লাহ্ তা‘আলা জানেন যে, নিশ্চয়ই ইহারা মিথ্যাবাদী।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। এই আয়াতটিতে হিজরতের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হইয়াছে। এই গুহাটি ছাওর নামক পাহাড়ের চূড়ার দিকে অবস্থিত। হুযূর (দ:) আবূ বকরকে সঙ্গে লইয়া ১লা রবিউল আউয়াল বৃহস্পতি বার রাত্রে মক্কা ত্যাগ করিলেন এবং উক্ত গুহায় যাইয়া রাত্রি যাপন করিলেন। (মু: কো:)
২। অর্থাৎ তোমরা পদাতিকই হও আর অশ্বারোহীই হও কিংবা সুস্থই হও আর পীড়িতই হও; কিংবা যুবকই হও আর বৃদ্ধই হও, ধনীই হও আর দরিদ্রই হও, অস্ত্রহীনই হও জিহাদে যোগদান কর। (মু: কো:)
৩। অর্থাৎ পথের দীর্ঘতা এবং গণীমত প্রাপ্তির কষ্টসাধ্যতা এই উভয় বস্তুই মুনাফেকদের পশ্চাৎপদ হওয়ার কারণ হইয়াছিল। গণীমতের মাল সহজলভ্য হইলে এবং যাত্রাপথ দীর্ঘ না হইলে তাহারা আপনাদের সহিত যুদ্ধ-যাত্রায় রাযী হইত। (ব: কো:)

عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنتَ لَهُمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ

বাংলা অর্থ:

৪৩। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে মার্জনা করিলেন, (কিন্তু) আপনি তাহাদিগকে (এত শীঘ্র) কেন অনুমতি দিয়াছিলেন? যে-পর্যন্ত না সত্যবাদীদিগকে জানিয়া লইতেন।

لَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ

বাংলা অর্থ:

৪৪। যাহারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তাহারা নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা জেহাদ করার ব্যাপারে আপনার নিকট অব্যাহিত প্রার্থনা করিবে না। আর আল্লাহ্ তা ‘আলা এই পরহেযগার লোকদের সম্বন্ধে খুব অবগত আছেন।

إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ

বাংলা অর্থ:

৪৫। অবশ্য সেই সকল লোক আপনার নিকট অব্যাহতি চাহিয়া থাকনে, যাহারা আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না আর তাহাদের অন্তর সমূহ সন্দেহে নিপতিত রহিয়াছে, অতএব, তাহারা নিজেদের সন্দেহে হয়রান রহিয়াছে।

وَلَوْ أَرَادُوا الْخُرُوجَ لَأَعَدُّوا لَهُ عُدَّةً وَلَـٰكِن كَرِهَ اللَّهُ انبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِيلَ اقْعُدُوا مَعَ الْقَاعِدِينَ

বাংলা অর্থ:

৪৬। আর যদি তাহারা (যুদ্ধে) যাত্রা করার ইচ্ছা করিত তবে উহার কিছু সরঞ্জাম তো প্রস্তুত করিত, কিন্তু আল্লাহ্ তা‘আলা তাহাদের যাত্রাকে না পছন্দ করিয়াছেন, এজন্য তাহাদিগকে তওফীক দেন নাই এবং এইরূপ বলিয়া দেওয়া হইল যে, তোমরা ও এখানে ই অক্ষম লোকদের সঙ্গে বসিয়া থাক।

لَوْ خَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ

বাংলা অর্থ:

৪৭। যদি ইহারা তোমাদের সঙ্গে বহির্গত হইত, তবে দ্বিগুণ বিভ্রাট সৃষ্টি করা ব্যতীত আর কি হইত? আর তোমাদের মধ্যে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য দৌড়াদৌড়ি করিয়া ফিরিত, আর তোমাদের মধ্যে তাহাদের কতিপয় গুপ্তচর বিদ্যামন রহিয়াছে আর আল্লাহ্ এই যালেমদের সম্বন্ধে খুব অবগত আছেন।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। হুযূর (দ:) মুনাফেকদিগকে যুদ্ধে যোগদান করার অনুমতি না দেওয়াই উত্তম ছিল। কিন্তু অনুমতি প্রদান করিয়া যে অনুত্তম কাজ করিয়াছেন আয়াতে তৎপ্রতি ক্ষমার সুসংবাদ দেওয়া হইয়াছে।
২। কেননা, কেন সময় তাহাদের মনে আপনার আনুকূল্যের খেয়াল জাগিয়া উঠে আবার কখনও বিরুদ্ধাচরনের ইচ্ছা দেখা দেয়। (ব:কো:)
৩। যেমন, দুর দেশে যাওয়ার কালে মানুষ তদ্রুপ করিয়া থাকে; কিন্তু তেমন কোন জোগাড়-যন্ত্রই তাহারা করিতেছে না। অথচ তাহারা বলে, আমাদের যাওয়ার একান্ত ইচ্ছা ছিল; কিন্তু হঠাৎ একটা বাধা উপস্থিত হওয়ায় পারি নাই। যদি তাহাই হইত, তবে তাহারা নিশ্চয়ই আসবাবপত্র ঠিক করিত: কিন্তু তাহারা তো মূলেই যাওয়ার ইচ্ছা করে নাই। (ব: কো:)

لَقَدِ ابْتَغَوُا الْفِتْنَةَ مِن قَبْلُ وَقَلَّبُوا لَكَ الْأُمُورَ حَتَّىٰ جَاءَ الْحَقُّ وَظَهَرَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَارِهُونَ

বাংলা অর্থ:

৪৮। তাহারা তো পূর্বেও ফ্যাসাদ সৃষ্টির চেষ্টা করিয়াছিল, আর আপনার (ক্ষতি সাধনের) জন্য কার্যসমূহের উল্টা-পাল্টা করিতে (-ই) ছিল, এই পর্যন্ত যে সত্য অঙ্গীকার আসিয়া পড়িল এবং আল্লাহর হুকুমে বিজয়ী রহিল, অথচ তাহাদের অপ্রীতিকর ই বোধ হইতেছিল।

وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلَا تَفْتِنِّي ۚ أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا ۗ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ

বাংলা অর্থ:

৪৯। আর তাহাদের মধ্যে কেহ কেহ এমনও আছে যে বলে আমাকে (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি দিন এবং আমাকে বিপদে ফেলিবেন না ভালরূপে বুঝিয়া লও যে, তাহারা তো বিপদে পড়িয়াই গিয়াছে; আর নিশ্চয়ই দোযখ এই কাফেরদিগকে বেষ্টন করিবেই।

إِن تُصِبْكَ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ ۖ وَإِن تُصِبْكَ مُصِيبَةٌ يَقُولُوا قَدْ أَخَذْنَا أَمْرَنَا مِن قَبْلُ وَيَتَوَلَّوا وَّهُمْ فَرِحُونَ

বাংলা অর্থ:

৫০। যদি আপনার প্রতি কোন মঙ্গল উপস্থিত হয়, তবে তাহাদের জন্য উহা চিন্তার কারণ হইয়া দাঁড়ায়, আর যদি আপনার উপর কোন বিপদ আসিয়া পড়ে তখন তাহার বলে আমরা তো প্রথম হইতেই নিজেদের সাবধানতার দিক অবলম্বন করিয়া ছিলাম এবং তাহারা উৎফুল্ল হইয়া চলিয়া যায়।

قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

বাংলা অর্থ:

৫১। আপনি বলিয়া দিন, আমাদের উপর কোন বিপদ আসিতে পারে না। কিন্তু তাহাই যাহা আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের জন্য নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন, তিনিই আমাদের মালিক, আর সকল মু‘মেনদেরই কর্তব্য যেন নিজেদের যাবতীয় কাজ আল্লাহ্ তা‘আলারই প্রতি সমর্পণ করিয়া রাখে।

قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ ۖ وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ أَن يُصِيبَكُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ مِّنْ عِندِهِ أَوْ بِأَيْدِينَا ۖ فَتَرَبَّصُوا إِنَّا مَعَكُم مُّتَرَبِّصُونَ

বাংলা অর্থ:

৫২। আপনি বলিয়া দিন, তোমরা তো আামাদের জন্য দুইটি মঙ্গলের মধ্যে একটি মঙ্গলেরই প্রতীক্ষায় রহিয়াছ, আর আমরা তোমাদের জন্য এই প্রতীক্ষা করিতেছি যে, আল্লাহ তোমাদের উপর কোন আযাব সংঘটন করিবেন নিজের পক্ষ হইতে অথবা আমাদের দ্বারা অতএব, তোমরা অপেক্ষা করিতে থাক, আমরা তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষায় রহিলাম।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। কোন কোন তফসীরকারের মতে এই গুপ্তচরেরাও হইতেছে মুনাফেক; কিন্তু তাহারা কুচক্র-বিদ্যায় পারদশী ছিল না। কাজেই তাহাদের দ্বারা কোন ক্ষতির আশংকা তো ছিলই না। (ব: কো:)
২। অর্থাৎ ইহাদের কুচক্রবৃত্তি নূতন নহে, ইহারা তো পূর্বেও ওহুদ প্রভৃতি যুদ্ধে মুসলমানদের সঙ্গী হইয়া য্দ্ধু আরম্ভ হওয়ার পূর্বেই বাহির হইয়া গিয়াছিল, যেন মুসলামনদের মন ভাঙ্গিয়া যায়। এতদ্ব্যতীত আপনার ক্ষতি করার চেষ্টাও করিয়া ছিল। (ব:কো:)
৩। তাবূক যুদ্ধে যোগদান না করার পক্ষে জাদ্দ ইবনে কায়স নামক এক মুনাফেক ওযর পেশ করিয়াছিল যে, আমি সুন্দরী স্ত্রীলোক দেখিলেই আকৃষ্ট হইয়া পড়ি, শুনিতেছি রোমান মহিলারা খুব সুন্দরী, আমি সেখানে গেলে তাহাদের প্রণয়ের ফাঁদে পড়িয়া আমার ধর্ম বিপন্ন হইতে পারে। এ সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (ব:কো:)

قُلْ أَنفِقُوا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا لَّن يُتَقَبَّلَ مِنكُمْ ۖ إِنَّكُمْ كُنتُمْ قَوْمًا فَاسِقِينَ

বাংলা অর্থ:

৫৩। আপনি বলিয়া দিন, যে তোমরা সন্তুষ্টির সহিত ব্যয় কর কিংবা অসন্তুষ্টির সহিত, তোমাদের পক্ষ হইতে তাহা কখনই গৃহীত হইবে না; নি:সন্দেহে তোমরা লঙ্ঘনকারী সমাজ।

وَمَا مَنَعَهُمْ أَن تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَىٰ وَلَا يُنفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৪। আর তাহাদের দান-খয়রত গ্রহণ করাতে ইহা ব্যতীত আর কিছুই প্রতিবন্ধক নহে যে, তাহারা আল্লাহর সহিত ও তাঁহার রাসূলের সহিত কুফর করিয়াছে, আর তাহারা নামায পড়ে না কিন্তু শৈথিল্যের সহিত আর তাহার দান করে না কিন্তু অনিচ্ছার সহিত।

فَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُم بِهَا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৫। অতএব তাহাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তানাদি যেন আপনাকে বিসিমত না করে; আল্লাহর অভিপ্রায় কেবল ইহাই যে, এই সকল বস্তুর কারণে তাহাদিগকে পাথিব জীবনে আযাবে আবদ্ধ রাখেন এবং তাহাদের প্রাণ কাফের অবস্থায় বাহির হয়।

وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنكُمْ وَمَا هُم مِّنكُمْ وَلَـٰكِنَّهُمْ قَوْمٌ يَفْرَقُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৬। আর তাহারা আল্লাহ্ তা‘আলার শপথ করিয়া বলে যে, তাহারা (অর্থাৎ, মুনাফেকরা) তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত; অথচ তাহার তোমাদের কেহই নহে, বরং তাহারা হইতেছে কা পুরুষের দল।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ আল্লাহ্ সূক্ষদর্শী ও সুবিবেচক। তিনি আমাদিগকে বিপদে ফেলিলেও উহাতে আমাদের হিত ও মঙ্গল নিহিত থাকে। অতএব, কোন অবস্থায় আামাদের ক্ষতি নাই। (ব:কো:)
২। জদ্দ ইবনে কায়স মহিলাসক্তির অজুহাতে যুদ্ধে না যাইয়া অর্থ স্হাায্য করিতে চাহিয়া ছিল। উহাই আয়াতের ভাষ্য। (ব:কো:)
৩। অর্থাৎ, দুনিয়ার প্রতি অনুরক্ত হইলেই ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের আযাব হইয়া দাঁড়ায়। অর্জন করার আকাঙ্খায় দৈহিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করিতে হয়। কাফেরেরা দুনিয়া তে যত নিয়ামত প্রাপ্ত হয়, পরলোকে ততই আযাবের উপকরণ বাড়িতে থাকে। (ব:কো:)
৪। অর্থাৎ, তাহারা ভয় করিতেছে যে, তাহাদের কুফর প্রকাশ হইয়া পড়িলে তাহাদের সহিত অন্য কাফেরদের ন্যায় ব্যবহার করা হইবে। এই ভয়েই তাহারা নিজেদের প্রকৃত অবস্থা গোপর রাখার চেষ্টা করে। (ব: কো:)

لَوْ يَجِدُونَ مَلْجَأً أَوْ مَغَارَاتٍ أَوْ مُدَّخَلًا لَّوَلَّوْا إِلَيْهِ وَهُمْ يَجْمَحُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৭। যদি ইহারা কোন আশ্রয়স্থল পাইত অথবা গুহা কিংবা লুকাইয়া থাকিবার একটু স্থান, তবে তাহারা অবশ্যই মুখ উঠাইয়া সেই দিকে ধাবিত হইত।

وَمِنْهُم مَّن يَلْمِزُكَ فِي الصَّدَقَاتِ فَإِنْ أُعْطُوا مِنْهَا رَضُوا وَإِن لَّمْ يُعْطَوْا مِنْهَا إِذَا هُمْ يَسْخَطُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৮। আর তাহাদের মধ্যে এমন কতক লোক রহিয়াছে, যাহারা ছদকার (বন্টন) ব্যাপারে আপনার প্রতি দোষারোপ করে, অত:পর যদি তাহারা সেই সমস্ত ছদকা হইতে (অংশ) প্রাপ্ত হয়, তবে তাহারা সন্তুষ্ট হয়, আর যদি তাহারা সেই ছদকা হইতে (অংশ) না পায়, তবে তাহারা অসস্তুষ্ট হইয়া যায়।

وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا مَا آتَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ سَيُؤْتِينَا اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ إِنَّا إِلَى اللَّهِ رَاغِبُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৯। আর তাহাদের জন্য উত্তম হইত যদি তাহারা উহার প্রতি সন্তুষ্ট থাকিত, যাহা কিছু তাহাদিগকে আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁহার রাসূল দান করিয়াছিলেন, আর এইরূপ বলিত যে, আমাদের পক্ষে আল্লাহ্ তা আলাই যথেষ্ট, ভবিষ্যতে আল্লাহ্ তা‘আলা নিজ অনুগ্রহে আমাদিগকে আরও দান করিবেন এবং তাঁহার রাসূল ও, আমরা আল্লাহরই প্রতি আগ্রহাম্বিত রহিলাম।

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৬০। (ফরয) ছদকাগুলি তো হক্ক হইতেছে কেবল গরীবদের এবং অভাবগ্রস্তদের, আর এই ছদকা (আদায়ে)-র উপর নিযুক্ত কর্মচারীদের এবং যাহাদের মন রক্ষা করিতে (অভিপ্রায়) হয় (তাহাদের), আর গোলামদের আযাদ করার কার্যে এবং করযদারদের কর্যে (অর্থাৎ, কর্য পরিশোধে), আর জেহাদে (অর্থাৎ, যুদ্ধ-সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য) আর মুসাফিরদের সাহায্যে; এই হুকুম আল্লাহর পক্ষ হইতে নির্ধারিত; আর আল্লাহ্ তা‘আলা মহাজ্ঞানী অতি প্রজ্ঞাময়।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ, স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করার মত আশ্রয় খুজিয়া পাইতেছে না কাজেই মিথ্যা শপথ করিয়া তাহারা ঈমানের ভান করিতেছে। হদ্রুপ কোন আশ্রয় পাইলে সেদিকে দৌড়াইত, ঈমানের ভান করিত না। (ব: কো:)
২। হুযূর (দ:) গণীমতের মাল বন্টন করিবার কালে আবুল হাওয়ার মুনাফেক বলিল, তোমাদের নবীর প্রতি লক্ষ্য কর, সে তোমাদের হক্ব বকরীর রাখালদের মধ্যে বন্টন করিতেছে এবং মনে করিতেছে যে, খুব ন্যায় করিতেছে। এই সম্পর্কে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মু:কো:)
৩। হানাফী মতে যাহার উপর ফেতরা ওয়াজিব নহে এবং যে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করার উপযোগীও নহে, সে ব্যক্তি ফকীর, আর যে ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি না করিয়া জীবন ধারণ করিতে পারে না সে মিসকীন। যাকাত উসূল করার জন্য নিযুক্ত কর্মচারীদিগকে আমেলীন বলা হইয়াছে।

وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ ۚ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَّكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ ۚ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৬১। আর তাহাদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক আছে, যাহারা নবীকে যাতনা দেয় এবং বলে যে, তিনি প্রত্যেক কথায় কর্ণপাত করিয়া থাকেন, আপনি বলিয়া দিন যে, এই নবী তো কর্ণপাত করিয়া থাকেন সেই কথাতেই যাহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর- তিনি আল্লাহর (কথাগুলি ওহী মারফত জ্ঞাত হইয়া তৎ) প্রতি ঈমান আনয়ন করেন, আর মু‘মেনদের (কথাকে) বিশ্বাস করেন, আর তিনি সেই সকল লোকের প্রতি অনুগ্রহ করেন যাহারা তোমাদের মধ্যে ঈমান আনয়ন করে; আর যাহারা রাসূলুল্লাহকে যাতনা দেয়, তাহাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি রহিয়াছে।

يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَن يُرْضُوهُ إِن كَانُوا مُؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

৬২। তাহারা তোমাদের নিকট শপথ করিয়া থাকে যেন তাহারা তোমাদিগকে রাযী করিতে পারে, অথচ আল্লাহ্ তাঁহার রাসূল হইতেছে অধিক হক্বদার (এই বিষয়ে) যে, তাহারা যদি সত্যিকারের মুসলমান হইয়া থাকে, তবে তাহারা যেন তাঁহাকে সন্তুষ্ট করে।

أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَن يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ۚ ذَ‌ٰلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ

বাংলা অর্থ:

৬৩। তাহাদের কি খবর নাই যে, ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে ইহা সুনিশ্চিত যে, এমন লোকের ভাগ্যে রহিয়াছে দোযখের আগুন এরূপ ভাবে যে, সে উহাতে অনন্তকাল থাকিবে; ইহা হইতেছে বিষম লাঞ্ছনা।

يَحْذَرُ الْمُنَافِقُونَ أَن تُنَزَّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ تُنَبِّئُهُم بِمَا فِي قُلُوبِهِمْ ۚ قُلِ اسْتَهْزِئُوا إِنَّ اللَّهَ مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُونَ

বাংলা অর্থ:

৬৪। মুনাফেকরা আশঙ্কা করে যে, মুসলমানদের প্রতি না এমন কোন সূরা নাযিল হইয়া পড়ে যাহা তাহাদিগকে সেই মুনাফেকদের অন্তরের কথা অবহিত করিয়া দেয়; আপনি বলিয়া দিন যে হ্যঁ, তোমরা বিদ্রুপ করিতে থাক, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা সেই বিষয়ে কে প্রকাশ করিয়াই দিবেন, যে সম্বন্ধে তোমরা আশংকা করিতেছিলে।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। কতিপয় মুনাফেক হুযূর (দ:) সম্বন্ধে অশোভন উক্তি করিলে অন্য এক মুনাফেক বলিল, সাবধান! মুহাম্মাদ (দ:) জানিতে পারিলে বিপদ হইবে। প্রথম ব্যক্তি বলিল, চিন্তা নাই, আামদের বিরুদ্ধে কেহ তাঁহার নিকট রিপোর্ট করিলে আমরা তাঁহার সমীপে উপস্থিত হইয়া মিথ্য শপথ সহ সাফাই পেশ করিব, সমস্ত বিপদ কাটিয়া যাইবে। সত্যের অনুসন্ধান করা তাঁহার অভ্যাস নহে, এই সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (ব:কো:)
২। মুনাফেক সম্প্রদায়ের কতিপয় লোক ইসলাম সম্বন্ধে বিদ্রুপাত্মক উক্তি করিতেছিল, সঙ্গে সঙ্গে তাহাদের এই আশংকা ও হইতেছিল, যে যদি হুযূর ওহী যোগে এই ঘটনা জানিতে পারেন, তবে ভারী বিপদ হইবে। কার্যত: তাহাই হইল হুযূল ওহী দ্বারা এই খবর জানিতে পারিয়া তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলে তাহারা বলিল, আমরা কেবল মাত্র হাসি-তামাশা করিতেছিলাম। (ব: কো:)

وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ۚ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ

বাংলা অর্থ:

৬৫। আর যদি আপনি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করেন, তবে তাহার বলিয়া দিবে যে, আমরা তো কেবল গল্প-গুযব ও হাসি তামাশা করিতেছিলাম; আপনি বলিয়া দিন, তবে কি তোমরা তা‘আলার প্রতি এবং তাহার প্রতি আয়াতসমূহের প্রতি এবং তাঁহার রাসূলের প্রতি হাসি-ঠাট্টা করিতেছিলে।

لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ ۚ إِن نَّعْفُ عَن طَائِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ

বাংলা অর্থ:

৬৬। তোমরা এখন বেহুদা ওযর করিও না, তোমরা তো নিজদিগকে মু‘মেন প্রকাশ করার পর কুফর করিয়াছ; যদিও আমি তোমাদের মধ্য হইতে কতক কে ক্ষমা করিয়া দেই তবুও কতককে তো শাস্তি দিবই কারণ তাহারা অপরাধী ছিল।

الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُم مِّن بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمُنكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ وَيَقْبِضُونَ أَيْدِيَهُمْ ۚ نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ ۗ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৬৭। মুনাফেক পুরুষগণ এবং মুনাফেক নারীগণ সকলেই এক রকম। অসৎকর্মের (অর্থাৎ কুফর ও ইসলাম বিরোধিতার) শিক্ষা দেয় এবং সৎকর্ম হইতে বারণ করে এবং নিজেদের হস্তসমূহকে (আল্লাহর রাহে ব্যয় করা হইতে) বন্ধ করিয়া রাখে; তাহারা আল্লাহ্ তা‘আলার খেয়াল করিল না। অতএব আল্লাহ্ তা‘আলাও তাহাদের খেয়াল করিলেন না নি:সন্দেহে এই মুনাফেকগণ হইতেছে বড়ই অবাধ্য।

وَعَدَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ هِيَ حَسْبُهُمْ ۚ وَلَعَنَهُمُ اللَّهُ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৬৮। আল্লাহ্ তাআলা মুনাফেক পুরুষদের ও মুনাফেক নারীদের এবং কাফেরদের সহিত দোযখের আগুনের অঙ্গীকার করিয়া রাখিয়াছেন যাহাতে তাহারা চিরকাল থাকিবে; ইহা তাহাদের জন্য যথেষ্ট আর আল্লাহ্ তাআলা তাহাদিগকে স্বীয় রহমত হইতে দূর করিয়া দিবেন, এবং তাহাদের চিরস্থায়ী আযাব হইবে।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ তোমাদের উদ্দেশ্যে যাহাই হউক না কেন এই সমস্ত বিষয় লইয়া কোন অবস্থায় বিদ্রুপ করা যাইতে পারে না। (ব:কো:)
২। অর্থাৎ আল্লাহ্ ভূত-ভবিষ্যত সর্ম্পকে অনাদিকাল হইতেই জ্ঞাত আছেন। তাহাদের অপরাধের কথাও তিনি জানেন। ইহাও জানেন যে, তাহার কাফর অবস্থায় মরিলে শ্বাস্তি ভোগ করিবে।
ফ:উপরোক্ত আয়াত গুিলর সারমর্ম এইযে, বদ-আক্বীদার দরুনই হউক আর খাম খেয়ালী করিয়াই হইক, ধর্ম বিষয়ের সহিত ইচ্ছাপূর্বক কৌতুক বা বিদ্রুপ কর কুফরীর মধ্যে গণ্য। আর জানা আবশ্যক, আল্লাহর প্রতি উপহাস এবং কোরআন ও উহার আয়াতসমূহ লইয়া উপহাস এই ত্রিবিধ উপহাসই একটি অন্যটির সহিত অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সুতরাং ইহার যে কোন একটির সহিত বিদ্রুপ করিলে তিনটির সঙ্গেই বিদ্রুপ কর হয় এবং তাহা কুফর। (ব: কো:)

الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالًا وَأَوْلَادًا فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُم بِخَلَاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُم بِخَلَاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُوا ۚ أُولَـٰئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ

বাংলা অর্থ:

৬৯। তোমাদের অবস্থা উহাদের ন্যায় যাহারা তোমাদের পূর্বে গত হইয়াছে, যাহারা শক্তির আধিক্য এবং ধন-সম্পদ ও সন্তানাদির প্রাচুর্যে তোমাদের চেয়েও অধিক ছিল; ফলত: তাহারা নিজেদের (পাথিব) অংশ দ্বারা যথেষ্ট উপকার লাভ করিয়াছে, অত:পর তোমরা ও তোমাদের (পার্থিব) অংশ দ্বারা খুব উপকার লাভ করিলে, যেমন তোমাদের পূর্ববতীগণ নিজেদের অংশ দ্বারা ফলভোগ করিয়াছিল, আর তোমরাও অসৎকর্মে এইরূপ ভাবে নিমগ্ন হইয়াছ যেমন তাহার নিমগ্ন হইয়াছিল; আর তাহাদের (নেক) কার্যসমূহ বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে দুনিয়াতে ও আখেরাতে, আর তাহারা ভীষণ ক্ষতির মধ্যে রহিয়াছে (অর্থাৎ উভয় জগতেরই আনন্দ ও সুখ স্বাচ্ছান্দ্য হইতে বঞ্চিত থাকিবে)।

أَلَمْ يَأْتِهِمْ نَبَأُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَقَوْمِ إِبْرَاهِيمَ وَأَصْحَابِ مَدْيَنَ وَالْمُؤْتَفِكَاتِ ۚ أَتَتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ ۖ فَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَـٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ

বাংলা অর্থ:

৭০। তাহাদের নিকট কি সেই সকল লোকদের সংবাদ পৌছে নাই? যাহারা পূর্বে গত হইয়াছে, যেমন নূহ-সম্প্রদায় এবং আ‘দ ও সামূদ সম্প্রদায় আর ইবরাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ানের অধিবাসীগণ এবং বিধ্বস্ত জনপদগুলি; তাহাদের পয়গম্বরগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ লইয়া আসিয়াছিলেন, বস্তুত: আল্লাহ্ তো তাহাদের প্রতি জুলুম করেন নাই, পরন্তু তাহারা নিজেদের আত্মার উপর জুলুম করিতেছিল।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ, তাহাদের কাজের সওয়াব প্রাপ্তির কোন সুসংবাদ নাই। আখেরাতেও তাহাদের কোন সওয়াব নাই। অতএব, উভয় ক্ষেত্রেই তাহাদের কার্যাবলী নিষ্ফল হইল, কাজেই তাহারা নিত্যন্ত ক্ষতির মধ্যে রহিয়াছে। (ব:কো:)
২। নূহের ক্বওম জল-প্লাবনে আদ সম্প্রদায় ঝড়ে, সামূদ সম্প্রদায় ভুমিকম্পে, মু‘তাফেকার অর্থাৎ লূত (্আ:) এর সম্প্রদায় যমীন উলটাইয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছে। হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর ক্বওম এইরূপে ধ্বংস হইয়াছিল যে, নমরূদকে তিনি আল্লাহর পথের দিকে আহবান করিলে সে তাঁহার নছীহত তো শুনিলই না তাঁহার প্রতি অত্যাচার করিতে লাগিল। ফলে রমরূদ খোদার গযবে পতিত হয়। একটি মশা তাহার মস্তকে প্রবেশ করিয়া এবং উহাতে তাহার মৃত্যু হয়। (ব:কো:)

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৭১। আর মুসলমান পুরুষগণ ও মুসলমান নারীগণ হইতেছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু। তাহারা সৎ বিষয়ের শিক্ষা দেয় এবং তাহারা অসৎ বিষয় হইতে বারণ করে, আর নাামযের পাবন্দী করে এবং যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ্ ও তাহার রাসূলের আদেশ মানিয়া চলে; এই সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহ্ তা‘আলা অবশ্যই রহমত বর্ষণ করিবেন; নি:সন্দেহে আল্লাহ্ তাআলা অতিশয় ক্ষমতাবান, হেকমতওয়ালা।

وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ۚ ذَ‌ٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

বাংলা অর্থ:

৭২। আল্লাহ্ তা‘আলা মুসলমান পুরুষদের এবং মুসলমান নারীদের কে এমন উদ্যানসমূহের ওয়াদা দিয়া রাখিয়াছেন যাহার নিম্নদেশে বহিতে থাকিবে নহরসমূহ যাহাতে তাহারা অনন্তকাল থাকিবে, আর (-ও ওয়াদা দিয়াছেন) সেই উত্তম বাসস্থানসমূহের যাহা চিরস্থায়ী উদ্যানসমূহে অবস্থিত হইবে আর আল্লাহ্ তা আলার সন্তুষ্টি হইতেছে সর্বাপেক্ষা বড় (নেয়ামত ); ইহা হইতেছে অতি বড় সফলতা।

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ ۚ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

বাংলা অর্থ:

৭৩। কাফের ও মুনাফেকদের বিরুদ্ধে জেহাদ করুন এবং তাহাদের প্রতি কঠোর ব্যবহার অবলম্বন করুণ; আর তাহাদের বাসস্থান হইবে দোযখ। এবং উহা হইতেছে নিকৃষ্ট স্থান।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ মুমিন পুরুষ ও নারীগণ নিজেদের ঈমান ও আমলের বিনিময়ে অনন্ত নি‘আমত বিশিষ্ট বেহেশত প্রাপ্ত হইবে। বেহেশতের অফুরন্ত নি‘আমতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ নি‘আমত তাহারা পাইবে-আল্লাহ্ তা‘আলার সন্তুষ্টি। ইহার তুলনায় অন্যান্য যাবতীয় নি‘আমতই অতি তুচ্ছ। (মু: কো:)
২। তাবূক হইতে ফিরিবার পথে কতিপয় মুনাফেক পরামর্শ করিল, অমুক উপত্যকা দিয়া যাওয়ার কালে আমরা হযরতকে গর্তের মধ্যে ফেলিয়া দিব। তাহাতে তিনি মরিয়া যাইবেন। পরামর্শ অনুসারে তাহারা কাপড়ে মুখ ঢাকিয়া যথাস্থানে পৌছিয়াছে। পরবর্তী মঞ্জিলে হুযূর তাহাদিগকে ডাকাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন। তাহারা কসম সহকারে অস্বীকার করিল। ইহাদের অনেককে হুযূর আর্থিক সাহায্য করিয়াছিলেন, তবুও ইহারা এই ষড়যন্ত্র করিয়াছিল। এই সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (ব:কো:)

يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا ۚ وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِن فَضْلِهِ ۚ فَإِن يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ ۖ وَإِن يَتَوَلَّوْا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا أَلِيمًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ

বাংলা অর্থ:

৭৪। তাহারা আল্লাহ্ তাআলার নামে শপথ করিয়া বলিতেছে যে, আমরা অমুক কথা বলি নাই অথচ নিশ্চয় তাহারা কুফরী কথা বলিয়াছিল এবং নিজেদের ইসলাম (গ্রহণ)-এর পর কাফের হইয়া গেল, আর তাহারা এমন বিষয়ের সংকল্প করিয়াছিল, যাহা তাহারা কার্যকরী করিতে পারে নাই, আর তাহার ইহা কেবল মাত্র এই বিষয়েই প্রতিদান দিয়াছিল যে, তাহাদিগকে সম্পদশালী করিয়া দিয়াছিলেন আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূল নিজ অনুগ্রহে, অনন্তর যদি তাহারা তওবা করিয়া লয়, তবে উহা তাহাদের জন্য উত্তম হইবে, আর যদি তাহারা বিমুখ হয়, তবে আল্লাহ্ তাহাদিগকে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রদান করিবেন। আর ভূপৃষ্ঠে তাহাদের না কোন ওলী হ্ইবে, আর না কোন সাহায্যকারী।

وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللَّهَ لَئِنْ آتَانَا مِن فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ

বাংলা অর্থ:

৭৫। আর তাহাদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক রহিয়াছে যাহারা আল্লাহ্ তা‘আলার সঙ্গে অঙ্গীকার করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলা যদি আমাদিগকে নিজ অনুগ্রহে প্রচুর সম্পদ দান করেন, তবে আমরা খুব দান-খায়রাত করিব এবং আমরা খুব ভাল ভাল কাজ করিব।

فَلَمَّا آتَاهُم مِّن فَضْلِهِ بَخِلُوا بِهِ وَتَوَلَّوا وَّهُم مُّعْرِضُونَ

বাংলা অর্থ:

৭৬। কার্যত: যখন আল্লাহ্ তাহাদিগকে নিজ অনুগ্রহে (বহু সম্পদ) দান করিলেন, তখন তাহারা উহাতে কার্পণ্য করিতে লাগিল এবং (আনুগত্য করা হইতে) পরাক্সমুখ হইতে লাগিল, আর তাহারা তো হইতেছে মুখ ফিরাইয়া রাখায়ই অভ্যস্ত।

فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ إِلَىٰ يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُوا اللَّهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ

বাংলা অর্থ:

৭৭। অনন্তর আল্লাহ্ তা‘আলা তাহাদের শাস্তি স্বরূপ তাহাদের অন্তরসমূহে নেফাক (উৎপন্ন) করিয়া দিলেন যাহা আল্লাহ্ তা‘আলার হুযূরে উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত থাকিবে, এই কারণে যে, তাহারা আল্লাহ্ তা‘আলার সহিত নিজেদের ওয়াদার খেলাফ করিয়াছে, আর এই কারণে যে, তাহারা (পূর্ব হইতেই) মিথ্যা বলিতেছিল।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। ছা‘লাবা নামক জনৈক ব্যক্তি হুযূরের সমীপে আসিয়া বলিল দোআ করুন, আমি যেন ধনবান হই। হুযূর তাহাকে বুঝইলেন, ধনবান হওয়ার কল্পনা ত্যাগ কর। সে কিছুতেই মালিন না হুযূর দোআ করিলেন। তাহার বকরীর পালে এত বরকত হইল যে, মদীনার আশে পাশে উহাদের স্থান হইল না। ময়দানে ছড়াইয়া পড়িল, ছালাবাও ময়দানে যাইয়া অবস্থান করিতে লাগিল। জামাতে হাযির হইতে পারিত না হুযূর (দ:) তাহাকে যাকাতের জন্য তাক্বীদ দেওয়াইলেন। সে হুযূরের হুকুম অমান্য করিল এবং বলিল মুহাম্মাদ (দ:) আমাদের নিকট জিযিয়া দাবি করিয়া থাকেন, কাজেই যাকাত দিব না। হুযূর এই সংবাদ জানিদেত পারিলেন, সাহাবীগনও জানিতে পারিয়া আশ্চর্যাম্বিত হইলেন। এই সম্বন্ধে পরবতী আয়াতটি নাযিল হয়। (মু:কো:)

أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَأَنَّ اللَّهَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ

বাংলা অর্থ:

৭৮। তাহাদের কি ইহার খরব নাই? যে, আল্লাহ্ তাহাদের মনের গুপ্ত কথা এবং গোপন পরামর্শ সমস্তই অবগত আছেন আর তাহাদের এই খবর নাই যে, আল্লাহ্ তাআলা সমস্ত গায়েবের কথ খুব জানেন।

الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ ۙ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৭৯। ইহারা (অর্থাৎ মুনাফেকরা) এমন যে, নফল ছদকা প্রদানকারী মুসলমানদের প্রতি ছদকা সম্বন্ধে দোষারোপ করে এবং (বিশেষ করিয়া) সেই লোকদের প্রতি যাহাদের পরিশ্রম ও মজুরী করা ভিন্ন আর কোনই সম্বল নাই, অর্থাৎ তাহাদের প্রতি বিদ্রুপ করে; আল্লাহ্ তাহাদিগকে এই বিদ্রুপের প্রতিফল দিবেন এবং তাহাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি হইবে।

اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ۚ ذَ‌ٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

বাংলা অর্থ:

৮০। আপনি তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন অথবা তাহাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করেন (উভয় সমান) যদি আপনি তাহাদের জন্য সত্তরবার ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তবুও আল্লাহ্ তা‘আলা তাহাদিগকে ক্ষমা করিবেন না ইহার কারণ এই যে, তাহারা আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের সহিত কুফর করিয়াছে; আর আল্লাহ্ এমন অবাধ্য লোকদিগকে পথ প্রদর্শন করেন না ।

فَرِحَ الْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلَافَ رَسُولِ اللَّهِ وَكَرِهُوا أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَالُوا لَا تَنفِرُوا فِي الْحَرِّ ۗ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا ۚ لَّوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ

বাংলা অর্থ:

৮১। এই পশ্চাদবর্তী লোকগণ উৎফুল্ল হইয়া গেল রাসূলুল্লাহর (যুদ্ধে গমনের) পর নিজেদের গৃহে বসিয়া থাকার প্রতি এবং তাহারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধনও প্রাণ দিয়া জেহাদ করাকে না পছন্দ করিল, অধিকন্তু বলিতে লাগিল, তোমরা (এই ভীষণ) গরমের মধ্যে বাহির হইও না আপনি বলিয়া দিন, জাহান্নামের আগুন (ইহা অপেক্ষা) অধিক গরম; কি ভাল হইত! যদি তাহার বুঝিতে পারিত।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। হুযূর (দ:) তাবূকের যুদ্ধ তহবীলে দান করার জন্য উৎসাহ প্রদান করিলে আবদুর রহমান ইবনে আউফ তখন অনেক মাল আনিয়া হুযূরের সামনে পেশ করিলেন। মুনাফেকেরা বলিল, লোকটি দেখিতেছি খুব রিয়াকার। আর আবূ আকীল নামক জনৈক গরীব সাহাবী সারা রাত্রি কূপ হইতে পানি তুলিয়া ৮ সের খোরমা পাইলেন। উহা হইতে ৪ সের পরিবারের জন্য রাখিয়া বাকি ৪ সের যুদ্ধ তহবীলে দান করিলেন। মুনাফেকেরা বলিতে লাগিল, এই লোকটি নাম করিতে আসিয়াছে। এই সম্পর্কে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (ব:কো:)

২। আবদুল্লাহ্ বিন উবাইর পুত্র একজন খাঁটি মুসলমান। ইবনে উবাই পীড়িত হইলে ইবনে আবদুল্লাহ হুযূরের নিকট আরয করিলেন, “আমার পিতার জন্য এস্তেগফার করুন”। হুযূর এস্তেগফার করিলেন এই আয়াত নাযিল হয়।

فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلْيَبْكُوا كَثِيرًا جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

বাংলা অর্থ:

৮২। অতএব তাহারা অল্প কয়েক দিন হাসিয়া খেলিয়া) লউক আর (আখেরাতে ) বহু দিন (অর্থাৎ অনন্তকাল) কাঁদিতে থাকুক। সেই সকল কাজের বিনিময় যাহা তাহারা অর্জন করিতেছিল।

فَإِن رَّجَعَكَ اللَّهُ إِلَىٰ طَائِفَةٍ مِّنْهُمْ فَاسْتَأْذَنُوكَ لِلْخُرُوجِ فَقُل لَّن تَخْرُجُوا مَعِيَ أَبَدًا وَلَن تُقَاتِلُوا مَعِيَ عَدُوًّا ۖ إِنَّكُمْ رَضِيتُم بِالْقُعُودِ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَاقْعُدُوا مَعَ الْخَالِفِينَ

বাংলা অর্থ:

৮৩। তখন যদি আল্লাহ্ আপনাকে (মদীনায়) তাহাদের কোন সম্প্রদায়ের প্রতি ফিরাইয়া আনেন অত:পর তাহারা (কোন জেহাদে) বহির্গত হইতে অনুমতি চায়, তবে আপনি এইরূপ বলিয়া দিন যে, তোমরা কখনও আমার সঙ্গে (কেন জেহাদে) বাহির হইবে না এবং আমার সঙ্গে হইয়া কোন শক্রর বিরুদ্ধে যুদ্ধও করিবে না; তোমরা পূর্বেও বসিয়া থাকাকে পছন্দ করিয়াছিলে, অতএব, সেই সকল লোকদের সঙ্গে বসিয়া থাক যাহারা পশ্চাদবর্তী থাকার যোগ্য।

وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰ أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِ ۖ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৮৪। আর তাহাদের মধ্য হইতে কেহ মরিয়া গেলে তাহার উপর কখনও (জানাযার) নামায পড়িবেন না এবং তাহার কবরের নিকটে ও দাঁড়াইবেন না; তাহারা আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের সহিত কুফর করিয়াছে এবং তাহারা কুফরের অবস্থাতেই মরিয়াছে।

وَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَالُهُمْ وَأَوْلَادُهُمْ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُعَذِّبَهُم بِهَا فِي الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُونَ

বাংলা অর্থ:

৮৫। আর তাহাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তদি আপনাকে যেন বিস্মিত না করে আল্লাহ্ কেবল ইহাই চাহিতেছেন যে, সমস্ত বস্তুর কারণে দুনিয়াতে উহাদিগকে আযাবে আবদ্ধ রাখেন এবং তাহাদের প্রাণ বায়ু কুফরের অবস্থায়ই বাহির হয়।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই মুনাফেকের মৃত্যু হইলে তাহার পুত্র (যিনি এখন খাঁটি মুসলমান) হুযূরের খেদমতে আসিয়া বলিল, “আমার পিতার কাফনের জন্য আপনার একটি জামা দান করুণ এবং হুযূর স্বয়ং তাঁহার জানাযার নামায পড়–ন। আশা করা যায়, ইহাতে তাঁহার পারলৌকিক মঙ্গল হইবে। হুযূর নিজের জামা মোবারক তাহাকে দিলেন এবং জানাযার নামাযে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হইলেন; কিন্তু হযরত ওমর (রা:) তাঁহার জামা ধরিয়া রাখিয়া তাঁহাকে বাধা দিলেন। কিন্তু তিনি বাধা না মানিয়া আবুদল্লাহ ইবনে উবাইর জানাযা পড়িলেন। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। ইহার পর হুযূর (দ:) আর কখনও মুনাফেকদের জানাযার নামায পড়েন নাই। (ব: কো:) ।

وَإِذَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ أَنْ آمِنُوا بِاللَّهِ وَجَاهِدُوا مَعَ رَسُولِهِ اسْتَأْذَنَكَ أُولُو الطَّوْلِ مِنْهُمْ وَقَالُوا ذَرْنَا نَكُن مَّعَ الْقَاعِدِينَ

বাংলা অর্থ:

৮৬। আর যখনই কোরআনের কোন অংশ এই বিষয়ে নাযিল করা হয় যে, তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আন এবং তাহার রাসূলের সঙ্গী হইয়া জেহাদ কর, তখন তাহাদের মর্ধ্যকার ক্ষমতা বান ব্যক্তিরা আপনার নিকট অব্যাহতি চায় এবং বলে, আমাদিগকে অনুমতি দিন আমরও এখানে অবস্থানকারীদের সঙ্গে থাকিয়া যাই।

رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ

বাংলা অর্থ:

৮৭। ইহারা অন্ত:পুরবাসিনী নারীদের সঙ্গে থাকিতে সম্মত হইল এবং তাহাদের অন্তরসমুহের উপর মোহর লাগিয়া গেল, কাজেই তাহার বুঝে না।

لَـٰكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۚ وَأُولَـٰئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

বাংলা অর্থ:

৮৮। কিন্তু রাসূল ও তাঁহার সঙ্গীদের মধ্যে যাহারা মুসলমান ছিল তাহারা (অবশ্যই এই আদেশ মানিল এবং) নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা জেহাদ করিল; আর তাহাদের ই জন্য রহিয়াছে যাবতীয় কল্যাণ, এবং তাহারাই হইতেছে সফলকাম।

أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ ذَ‌ٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

বাংলা অর্থ:

৮৯। আল্লাহ্ তাহাদের জন্য এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন যে, উহাদের নিম্নদেশ দিয়া নহরসমূহ বহিয়া চলিবে, আর তাহারা উহাতে অনন্তকাল অবস্থান করিবে। ইহা হইতেছে (তাহাদের) বিরাট সফলতা।

وَجَاءَ الْمُعَذِّرُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ لِيُؤْذَنَ لَهُمْ وَقَعَدَ الَّذِينَ كَذَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ سَيُصِيبُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯০। আর গ্রামবাসীদের মধ্য হইতে কতিপয় বাহানাকারী লোক আসিল, যেন তাহারা অনুমতি পায়, আর যাহারা আল্লাহ্ তা‘আলার সহিত ও তাঁহার রাসূলের সহিত সম্পর্ণরূপেই মিথ্যা বলিয়াছিল, তাহারা একেবারেই বসিয়া রহিল। তাহাদের মধ্য যে-সকল লোকেরা কাফের থাকিবে, তাহাদের যন্ত্রনাময় আযাব হইবে।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। আল্লাহ্ পাক এই আয়াতে সে সমস্ত লোকের নিন্দবাদ করিয়াছেন, যাহারা তবূকের যুদ্ধে যোগদান করা হইতে পশ্চাদপদ রহিয়াছিল। অথচ তাহাদের যুদ্ধে যোগদানের সামর্থ্য ও ক্ষমতা ছিল এবং খুব অবস্থাশালী ছিল। এতদসত্ত্বেও তাহারা যুদ্ধে যোগদান না করিয়া বাড়ীতে বসিয়া থাকার জন্য হুযূরের অনুমতি চাহিল এবং স্ত্রীলোকদের সঙ্গে শহরে অবস্থান করাই পছন্দ করিল। এই কারণেই তাহাদের অন্তরে মোহর লাগিয়া গেল। ফলে তাহারা শেষ পর্যন্ত জিহাদ হইতে বিরতই রহিল। এবং হুযূরের সঙ্গে বাহির হইল না। তাহাদের অন্তরে যখন মোহরই লাগিয়া আছে, তখন তাহাদের হিতা-হিত জ্ঞান থাকিবে কোথা হইতে। (ব:কো:)
২। এইখানে ‘খায়রাত’ শব্দের উদ্দেশ্য হয়ত উচ্চ মর্যাদা কিংবা ধমীয় ও পার্থিব সর্ব প্রকারের মঙ্গল, যথা জয় লাভ, মালে গণীমত প্রভৃতি। (ই:কা:)।

لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَىٰ وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯১। দুর্বল লোকদের উপর কোন গুনাহ নাই, আর না রুগ্নদের উপর, আর না সে-সমস্ত লোকদের উপর যাহাদের খরচ করার সামর্থ্য নাই, যখন এই সমস্ত লোক আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁহার রাসূলের প্রতি নিষ্ঠা রাখে (এবং আন্তরিকতার সহিত আনুগত্য করে তবে) এই সকল নেককারদের প্রতি কোন প্রকার অভিযোগ নাই; আর আল্লাহ্ তাআলা অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।

وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَّأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৯২। আর সেই লোকদের উপরও নহে যখন তাহারা আপনার নিকট এই উদ্দেশ্যে আসে যে আপনি তাহাদিগকে বাহন দান করেন, আর আপনি বলিয়া দেন যে, আমার নিকট তো কোনকিছু নাই-যাহার উপর আমি তোমাদিগেকে আরোহন করাই, তখন তাহারা এমন অবস্থায় ফিরিয়া যায় যে তাহাদের চক্ষুসমূহ হইতে অশ্রু বহিতে থাকে এই অনুতাপে যে, তাহাদের ব্যয় করার মত কোন সম্বল নাই।

إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ وَهُمْ أَغْنِيَاءُ ۚ رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ

বাংলা অর্থ:

৯৩। এক কথায় অভিযোগ তো কেবলমাত্র সেই লোকদের উপরই যাহারা সরঞ্জামওয়ালা হওয়া সত্ত্বেও (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি চাহিতেছে, তাহারা অন্ত:পুরবাসিনী মহিলাদের সঙ্গে রাযী হইল এবং আল্লাহ্ তাহাদের অন্তর সমূহের উপর মোহর মারিয়া দিলেন কাজেই তাহারা (পাপ-পুণ্যকে ) জানেই না।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। এই সম্প্রদায়ের নাম বাক্কাঈন অর্থাৎ খুব রোদনকারী, ইহারা সংখ্যায় সাত জন ছিল। হুযূরের খেদমতে আসিয়া বলিল, জিহাদে অংশ গ্রহণের জন্য আমারেদর প্রবল ইচ্ছা কিন্তু আমাদের আরোহনীয় জন্তু নাই। যদি বাহন দান করেন, তবে আমরা এখনই যাত্রা করিবার জন্য প্রস্তুত। হুযূর বলিলেন, আমার নিকট কোন বাহন নাই। ইহা শুনিয়া তাহারা কাঁদিতে কাঁদিতে হুযূরের দরবার হইতে বাহির হইল। হযরত আবদুল্লাাহ ইবনে আমর, আব্বাস এবং ওসমান তাহাদিগকে আরোহণের পশু ও পথের সম্বল দিয়া সঙ্গে লইয়া গেলেন। (মু:কো:)
২। তাহাদের নিজেদের নিকটও নাই, অন্য কাহার নিকট হইতেও পাইল না এই রকম সত্যিকার অক্ষম লোকদের কোনরূপ জওয়াবদেহী করিতে হইবে না। আনুগত্যের প্রতি লক্ষ্য করিয়াই আল্লাহ্ তাহাদিগকে ক্ষমা করিবেন। (ব:কো:)

يَعْتَذِرُونَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ ۚ قُل لَّا تَعْتَذِرُوا لَن نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللَّهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ ۚ وَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

৯৪। তাহারা তোমাদের (সকলের) নিকট ওযর পেশ করিবে যখন তোমরা তাহাদের কাছে ফিরিয়া যাইবে; আপনি বলিয়া দিন এই ওযর পেশ করিও না, আমরা কখনও তোমাদিগকে সত্যবাদী বলিয়া মনে করিব না আল্লাহ্ আমাদিগকে তোমাদের (জেহাদে না যাওয়ার) বৃত্তান্ত জানাইয়া দিয়াছেন। আর ভবিষ্যতে ও আল্লাহ্ তা‘আলা এবং তাঁহার রাসূল তোমাদের কার্য-কলাপ পর্যবেক্ষণ করিবেন, অত:পর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হইবে এমন সত্তার নিকট যিনি অদৃশ্য এবং প্রকাশ্য সকল বিষয়ই অবগত আছেন, অনন্তর তিনি তোমাদিগকে জানাইয়া দিবেন যাহাকিছু তোমরা করিতেছিলে।

سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ ۖ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ ۖ إِنَّهُمْ رِجْسٌ ۖ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

বাংলা অর্থ:

৯৫। হ্যাঁ তাহার তখনই তোমাদের সম্মুখে আল্লাহর শপথ করিয়া বলিবে যখন তোমরা তাহাদের কাছে ফিরিয়া যাইবে, যেন তোমরা তাহাদিগকে তাহাদের অবস্থার উপর ছাড়িয়া দাও অতএব তোমরা তাহাদিগকে তাহাদের অবস্থার উপর ছাড়িয়া দাও; তাহার হইতেছে অতিশয় অপবিত্র আর তাহাদের ঠিকানা হইতেছে দোযখ, সেই সকল কর্মের বিনিময়ে যাহা তাহারা করিত।

يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ ۖ فَإِن تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَىٰ عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ

বাংলা অর্থ:

৯৬। তাহারা এই জন্য শপথ করিবে যেন তোমরা তাহাদের প্রতি রাযী হইয়া যাও অনন্তর যদি তোমরা তাহাদের প্রতি রাযী হইয়া যাও তবে আল্লাহ্ তো এমন দুষ্কর্মকারী লোকদের প্রতি রাযী হন না।

الْأَعْرَابُ أَشَدُّ كُفْرًا وَنِفَاقًا وَأَجْدَرُ أَلَّا يَعْلَمُوا حُدُودَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯৭। পল্লীবাসী লোকেরা কুফর ও কপটতায় অতি কঠোর, আর তাহাদের এইরূপ হওযাই চাই যে, তাহাদের সেই সমস্ত আহকামের জ্ঞান না হয়, যাহা আল্লাহ্ তাঁহার রাসূলের প্রতি নাযিল করিয়াছেন; আর আল্লাহ্ হইতেছেন মহাজ্ঞানী, অতি প্রজ্ঞাময়।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ তোমরা (মুনাফেকেরা) কেন যুদ্ধে যোগদান কর নাই: জিহাদে যোগদান না করাতে তোমাদের কে উদ্দেশ্য তাহা আল্লাহ্ আমাদিগকে জানাইয়া দিয়াছেন। অতএব, বৃথা ওযর পেশ করিও না। (ব:কো:)
২। কেননা, মুনাফেকী ও বিরোধিতার কারণে তাহাদের হৃদয় অপবিত্র হইয়া রহিয়াছে। ইহাদের আচরণে বাধা দিলে কোন সংশোধনের আশা নাই। অতএব তাহাদিগকে তাহাদের অবস্থায় ছাড়িয়া দেওয়াই সঙ্গত। (ব:কো:)
৩। উপরোক্ত আয়াতগুলিতে আলোচ্য মুনাফেকদের সম্বন্ধে তিন প্রকারের ব্যবস্থা অবলম্বন করিতে বলা হ্ইয়াছে। (ক) তাহাদের ওযর পেশ করার উত্তরে পরিষ্কা বলিয়া দাও যে, তোমরা ওযর পেশ করিও না আমরা ইহা বিশ^াস করি না। (খ) তাহাদের স্বাধীন আচরণে বাধা না দিয়া তাহাদিগকে তাহাদের অবস্থায় ছাড়িয়া দাও। (গ) তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইও না কেননা খোদা যখন তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট নহেন তখন মুমিনদের জন্যও ইহা নিষিদ্ধ। (ব:কো:)

وَمِنَ الْأَعْرَابِ مَن يَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ مَغْرَمًا وَيَتَرَبَّصُ بِكُمُ الدَّوَائِرَ ۚ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯৮। আর এই গ্রামবাসীদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক আছে যে, তাহারা যাহাকিছু ব্যয় করে উহাকে জরিমানা মনে করে এবং তোমাদের প্রতি (কালের) আর্বতনসমূহের প্রতীক্ষায় থাকে; (বস্তুত:) অশুভ আবর্তন তাহাদের উপরই পতিত প্রায়; আর আল্লাহ্ খুব শুনেন, খুব জানেন।

وَمِنَ الْأَعْرَابِ مَن يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ قُرُبَاتٍ عِندَ اللَّهِ وَصَلَوَاتِ الرَّسُولِ ۚ أَلَا إِنَّهَا قُرْبَةٌ لَّهُمْ ۚ سَيُدْخِلُهُمُ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯৯। আর গ্রামবাসীদের মধ্যে কতিপয় লোক এমনও আছে, যাহারা আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি (পূর্ণ) ঈমান রাখে, আর যাহাকিছু ব্যয় করে উহাকে আল্লাহ্ তা‘আলার সান্নিধ্য লাভের উপকরণ এবং রাসুলের দো‘আ লাভের উপকরণরূপে গ্রহণ করে; স্মরণ রাখিও তাহাদের এই ব্যয় কার্য নি:সন্দেহে তাহাদের জন্য (আল্লাহ্) নৈকট্য লাভের কারণ; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাহাদিগকে নিজের রহমতে দাখেল করিয়া লইবেন; নিশ্চয় আল্লাহ্ হইতেছেন অতি ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।

وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَ‌ٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

বাংলা অর্থ:

১০০। আর যে সকল মুহাজের এবং আনছার (ঈমান আনয়নে) অগ্রবতী এবং প্রথম আর যেসব লোক সরল অন্তরে তাহাদের অনুগামী আল্লাহ্ তা‘আলা তাহাদের প্রতি রাযী হইয়াছেন আর তাহারা সকলে তাহার প্রতি রাযী হইয়াছে, আর আল্লাহ্ তাআলা তাহাদের জন্য এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করিয়া রাখিয়াছেন যাহার তলদেশে নহরসমুহ বহিতে থাকিবে যাহাতে তাহারা চিরস্থায় হইবে ইহা হইতেছে বিরাট সফলতা।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। “সাবেক এবং অগ্রবতী বলিতে সমস্ত মুহাজির ও আনছারকে আর তাহাদের অনুগামী” বলিতে সমস্ত মুমিনদিগকে বুঝান হইয়াছে। অনুগামীদের মধ্যে আনছার ও মুহাজির ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীগণও রহিয়াছেন। তাহাদের স্থান সাধারন মুমিনগণের ঊধ্বে। দেখা যায়, ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে অগ্রবতীতা হিসাবেই ফযীলত ও মর্যাদার তারতম্য হইয়াছে। কেননা পূর্ববতী লোকদের ঈমান আনয়ন দেখিয়া পরবতী লোকেরা ঈমান আনিয়াছে। কাজেই পূববর্তী লোকগণ পরবর্তীদের পথ প্রদর্শক হইলেন। মর্যাদার তারতম্য অনুসারে সওয়াবের ও তারতম্য হইবে। অর্থাৎ অগ্রবর্তীগণ বেহেশতের উচ্চস্তর এবং উত্তম স্থান প্রাপ্ত হইবেন খোদার সন্তুষ্টি ও অধিক লাভ করিবেন। (ব:কো:)

وَمِمَّنْ حَوْلَكُم مِّنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ ۖ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ ۖ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ ۖ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ ۚ سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَىٰ عَذَابٍ عَظِيمٍ

বাংলা অর্থ:

১০১। আর তোমাদের চতুর্দিকস্থ লোকদের মধ্য হইতে কতিপয় লোক; এবং মদীনা বাসীরেদ মধ্য হইতেও কতিপয় লোক এমন মুনাফেক রহিয়াছে যাহার নেফাকে চরমে পৌছিয়াছে আপনি তাহাদেরকে জানেন না; আমি তাহাদিগকে জানি আমি তাহাদিগকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করিব, তৎপর (পরকালেও) তাহারা মহা শান্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হইবে।

وَآخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ خَلَطُوا عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا عَسَى اللَّهُ أَن يَتُوبَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১০২। এবং আরো কতকগুলি লোক আছে যাহারা নিজেদের অপরাধসমূহ স্বীকার করিয়াছে, যাহারা মিশ্রিত আমল করিয়াছিল, কিছু ভাল আর কিছু মন্দ; আশা রহিয়াছে যে, আল্লাহ্ তাহাদের প্রতি করুণা দৃষ্টি করিবেন; নি:সন্দেহের আল্লাহ্ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১০৩। আপনি তাহাদের ধন-সম্পদ হইতে ছদকা গ্রহণ করুন, যদ্দারা আপনি তাহাদিগকে পাক ছাফ করিয়া দেন এবং তাহাদের জন্য দো‘আ করুণ; নি:সন্দেহে আপনার দো‘আ হইতেছে তাহাদের জন্য শান্তির কারণ; আর আল্লাহ্ খুব শুনেন, খুব জানেন।

أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

বাংলা অর্থ:

১০৪। তাহারা কি ইহা অবগত নহে যে, আল্লাহ্ই নিজ বান্দাদের তওবা কবূল করেন, আর তিনিই ছদকা-খায়রাত কবূল করেন, আর ইহাও যে, আল্লাহ্ তা‘আলাই হইতেছেন তওবা কবূল করিতে এবং অনুগ্রহ করিতে পূর্ণ সামর্থ্যবান।

وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ ۖ وَسَتُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

১০৫। আর আপনি বলিয়া দিন যে, কাজ করিতে থাক, অনন্তর তোমাদের কার্যকে অচিরেই দেখিয়া লইবেন আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁহার রাসূল এবং ঈমানদারগণ; আর নিশ্চয়ই তোমাদিগকে এমন সত্তার নিকট প্রত্যাবর্তিত হইতে হইবে, যিনি হইতেছেন সকল অদৃশ্য ও প্রকাশ্য বিষয়ের জ্ঞাতা অতএব, তিনি তোমাদিগকে তোমাদের সকল কৃতকর্মগুলি জানাইয়া দিবেন।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। মুনাফেকদের অন্যান্য শ্রেণীর তুলনায় ইহাদিগকে চরমে পৌছিয়াছে বলার কারণ এই যে, কুফর গোপন করিতে ইহারা এত পটু ছিল যে, হুযূর (দ:) সূক্ষ্মদর্শিতায় জগৎশ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও ইহাদের প্রকৃত অবস্থা বুঝিতে পারেন নাই। (ব:কো:)
২। মুসলমানদের মধ্য দশ ব্যক্তি তবূকযুদ্ধ হইতে বিনা ওযরে পশ্চাদপ্দ রহিয়ছিল। তন্মাধ্যে সাতজন মসজিদে যাইয়া নিজদিগকে খুঁটির সহিত বাধিয়া লইল এবং কসম করিল যে, আল্লাহর হুকুম ব্যতীত আমাদিগকে যেন কেহ না খোলে। হুযূর (দ:) মদীনা ফিরিয়া আসিলে তাহাদের অবস্থা জানিয়া কসম করিলেন, আমি ও আল্লাহর হুকুম ব্যতীত ইহাদিগকে খুলিব না। অত:পর এই আয়াত নাযিল হয়। (মু:কো:)
৩। উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হওয়া মাত্র হুযূর সাতজনকেই খুলিয়া দিলেন। তাহারা শুকরিয়া স্বরূপ নিজেদের সম্পদ হুযূরের খেদমতে হাজির করিয়া বলিল, এই মালই আমাদের অনর্থের কারণ। অতএব এইগুলি ছদকা করিয়া দিন। হুযূর বলিলেন, আল্লাহর আদেশ না পাইল আমি ইহা পারি না। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মু:কো:)

وَآخَرُونَ مُرْجَوْنَ لِأَمْرِ اللَّهِ إِمَّا يُعَذِّبُهُمْ وَإِمَّا يَتُوبُ عَلَيْهِمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১০৬। এবং আরও কতক লোক আছে, যাহাদের ব্যাপার মুলতবী রহিয়াছে-আল্লাহ্ তা‘আলার আদেশ আসা পর্যন্ত হয় তিনি তাহাদিগকে শাস্তি প্রদান করিবেন অথবা তাহাদের তওবা কবূল করিবেন; আর আল্লাহ্ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَكُفْرًا وَتَفْرِيقًا بَيْنَ الْمُؤْمِنِينَ وَإِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ مِن قَبْلُ ۚ وَلَيَحْلِفُنَّ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا الْحُسْنَىٰ ۖ وَاللَّهُ يَشْهَدُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ

বাংলা অর্থ:

১০৭। আর কেহ কেহ এমন আছে যাহার এই উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করিয়াছে, যেন তাহারা (ইসলামের)ক্ষতি সাধন করে এবং কুফরের কথাবার্তা বলে আর মুমেনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, আর সেই ব্যক্তির অবস্থানের ব্যবস্থা করে যে ইহার পূর্বে হইতেই আল্লাহর ও তাঁহার রাসূলের বিরোধী; আর তাহারা শপথ করিয়া বলিবে যে, মঙ্গল ভিন্ন আমাদের আর কোন উদ্দেশ্যে নাই; আর আল্লাহ্ তা‘আলা সাক্ষী আছেন যে, তাহারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী।

لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا ۚ لَّمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَىٰ مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَن تَقُومَ فِيهِ ۚ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُوا ۚ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

বাংলা অর্থ:

১০৮। আপনি কখনও উহাতে (নামাযের জন্য) দাঁড়াইবেন না; অবশ্য যেই মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন হইতেই তাকওয়ার উপর স্থাপিত হইয়াছে তাহা এই উপযোগী যে, আপনি তাহাতে নামাযের জন্য দাঁড়ান; উহাতে এমন সব লোক রহিয়াছে যাহারা উত্তমরূপে পাক হওয়াকে পছন্দ করে; আর আল্লাহ্ উত্তমরূপে পবিত্রতা সম্পাদনকারীদিগকে পছন্দ করেন।

أَفَمَنْ أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَىٰ تَقْوَىٰ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ خَيْرٌ أَم مَّنْ أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَىٰ شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ بِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

বাংলা অর্থ:

১০৯। তবে কি এমন ব্যক্তি উত্তম, যে ব্যক্তি স্বীয় ইমারতের ভিত্তি স্থাপন করিয়াছে কোন গহ্বরের কিনারায়, যাহা ধসিয়া পড়ার উপক্রম, অত:পর উহা তাহাকে লইয়া দোযখের আগুনে পতিত হয়? আর আল্লাহ্ এমন যালেমদিগকে (ধর্মের) জ্ঞান দান করেন না।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। পূর্বোক্ত দশজনের বাকি তিনজন হুযূরের খেদমতে আসিয়া অপরাধ স্বীকার করিল। হুযূর সাহাবীবৃন্দকে তাহাদের সহিত মেলামেশা করিতে নিষেধ করিয়া দিলেন। এই সম্পর্কে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মু: কো:)
২। মুনাফেকেরা মসজিদে কোবার মোকাবেলায় আবূ আমের রাহেরেব পরামর্শে মসজিদের নাম দিয়া ইসলামের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে একটি মন্ত্রণাগৃহ তৈয়ার করে এবং চালাকি পূর্বক হুযূর (দ:) কে উক্ত গৃহে নামায পড়ার জন্য অনুরোধ করে, কিন্তু হুযূর (দ:) ওহী মারফত মুনাফেকদের নিযত জানিতে পারিয়া উক্ত গৃহটি নিশ্চিহ্ন করাইয়া দেন। ইহাই মসজিদে যেরার নামে প্রসিদ্ধ। (মু:কো 🙂

لَا يَزَالُ بُنْيَانُهُمُ الَّذِي بَنَوْا رِيبَةً فِي قُلُوبِهِمْ إِلَّا أَن تَقَطَّعَ قُلُوبُهُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১১০। তাহাদের এই ইমারত যাহা তাহারা নির্মাণ করিয়াছে, তাহা সর্বদা তাহাদের মনে খটকা সৃষ্টি করিতে থাকিবে, হ্যাঁ যদি তাহাদের (সেই) অন্তরই ধ্বংস হইয়া যায় তবে তো কথাই নাই; আর আল্লাহ্ তা‘আলা হইতেছেন মাহাজ্ঞানী বড় হেকমতওয়ালা।

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ ۚ وَذَ‌ٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

বাংলা অর্থ:

১১১। নি:সন্দেহে আল্লাহ্ তাআলা মুসলমানদের নিকট হইতে তাহাদের প্রাণ ও তাহাদের ধন সম্পদসমুহকে ইহার বিনিময়ে ক্রয় করিয়া লইয়াছেন যে, তাহার বেহেশত পাইবে; (অর্থাৎ) তাহারা আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করে যাহাতে তাহারা (কখনও) হত্যা করে এবং (কখনও) নিহত হইয়া যায়। ইহার (অর্থাৎ, এ্ই যুদ্ধের)দরুন (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হইয়াছে তওরাতে এবং ইঞ্জীলে আর কোরআনে; আর কে আছে নিজের অঙ্গীকার পালনকারী আল্লাহ্ অপেক্ষা অধিক? অতএব, তোমরা আনন্দ  করিতে থাক তোমাদের এই ক্রয়-বিক্রয়ের উপর যাহা তোমরা সম্পাদন করিয়াছ; আর ইহা হইতেছে বিরাট সফলতা।

التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

১১২। তাহারা হইতেছে তওবাকারী, এবাদতগুযার, শোকরগুযার, রোযা পালনকারী, রুকূ ও সজদকারী, (অর্থাৎ নামায কায়েম রাখে) সৎ বিষয় শিক্ষা প্রদানকারী এবং মন্দ বিষয়ে বাধা প্রদানকারী, আর আল্লাহর সীমাসমূহের (অর্থাৎ আহকামের) সংরক্ষণকারী আর আপনি এমন (অর্থাৎ উক্ত গুণে গুনাম্বিত) মুমেনদিগকে সুসংবাদ শুনাইয়া দিন।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। কেননা মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য তো সফল হইল না, অধিকন্ত তাহাদের গোমর ফাঁক হইয়া গেল। তদুপরি গৃহটিও ধ্বংস করা হইয়া ছিল। এই বিফলতার জন্য সারা জীবন তাহাদের অন্তর্দাহ থাকিবে। (ব:কো:)
২। অর্থাৎ তাহাদের মনও ধ্বংস হইবে না মনের জ্বালাও ফুরাইবে না। কেননা, মৃত্যুর কারণে মানুষের আত্মা ও উহার অনুভুতি নষ্ট হয় না (ব:কো:)
৩। আক্বাবার রাত্রিতে পঁচাত্তরজন লোক মদীনায় আসিয়া হুযূর (দ:) এর হাতে বাইআত করে। তাহারা বলিল, আল্লাহর জন্য ও আপনার জন্য যাহা প্রয়োজন, শর্ত আরোপ করুন। হুযূর (দ:) বলিলেন, আল্লাহর এবাদত করিবে এবং কাহাকেও তাঁহার শরীক করিবে না, আর তোমরা যদ্দারা জান ও মাল হেফাযত করিয়া থাক, তদ্দারা আমরাও হেফাযত করিব। তাহারা আরয করিল, ইহার বিনিময়ে কি পাইব? হুযূর (দ:) বলিলেন, ইহার বিনিময়ে বেহেশত। তাহারা বলিল, আমরা ব্যবসায়ে লাভবান হইয়াছি, ইহা কখনও ত্যাগ করিব না। এই সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মু: কো:)

مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَىٰ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

বাংলা অর্থ:

১১৩। নবী এবং অন্যান্য মুসলমানদের পক্ষে জায়েয নহে যে, মুশরেকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যদিও তাহারা আত্মীয়ই হউক না কেন, একথা প্রকাশ হওয়ার পর যে, তাহারা দোযখী।

وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَن مَّوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِّلَّهِ تَبَرَّأَ مِنْهُ ۚ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهٌ حَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১১৪। আর ইবরাহীমের নিজ পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা, উহা তো কেবল সেই ওয়াদার কারণে ছিল, যে ওয়াদা তিনি তাহার সহিত করিয়াছিলেন, অত:পর যখন তাঁহার নিকট এ বিষয় প্রকাশ পাইল যে, সে (অর্থাৎ পিতা) আল্লাহ্ তা‘আলার দুশমন তখন তিনি তাহা হইতে সম্পূর্ণরূপে নিলিপ্ত হইয়া গেলেন; বাস্তবিকই ইবরাহীম ছিলেন অতিশয় কোমল হৃদয়, সহনশীল।

وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِلَّ قَوْمًا بَعْدَ إِذْ هَدَاهُمْ حَتَّىٰ يُبَيِّنَ لَهُم مَّا يَتَّقُونَ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১১৫। আর আল্লাহ্ তাআলা এইরূপ নহেন যে, কোন জাতিকে হেদায়ত করার পর পথভ্রষ্ট করিয়া দেন যে-পর্যন্ত তা তাহাদিগকে সে সকল বিষয় পরিষ্কার ভাবে বলিয়া দেন, যাহা হইতে তাহারা বাঁচিয়া থাকিবে; নিশ্চয় আল্লাহ্ হইতেছেন সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞা।

إِنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۚ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ

বাংলা অর্থ:

১১৬। নিশ্চয় আল্লাহর রাজত্ব রহিয়াছে আসমানসমূহে এবং যমীনে; তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটাইয়া থাকেন; আর তোমাদের জন্য আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতীত না কোন বন্ধু আছে না কোন সাহায্যকারী।

لَّقَد تَّابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِن بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِّنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ ۚ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১১৭। আল্লাহ্ তা‘আলা অনুগ্রহ-দৃষ্টি করিলেন নবীর অবস্থার প্রতি এবং মুহাজের ও আনছারগণের অবস্থার প্রতিও যাহারা নবীর অনুগামী হইয়াছিল এমন সংকট মুহূতে, ইহার পর যে, তাহাদের মধ্যকার এক দলের অন্তর বিচলিত হওয়ার উপক্রম হইয়াছিল, তৎপর আল্লাহ্ তাহাদের অবস্থার প্রতি অনুগ্রহ-দৃষ্টি করিলেন; নি:সন্দেহে আল্লাহ্ তাহাদের সকলের উপর অতিশয় স্নেহশীল, করুণাময়।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। আবূ তালেবের মৃত্যুর পর হুযূর (দ:) বলিয়াছিলেন, নিষেধাজ্ঞা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাঁহার মুক্তির জন্য দো‘আ করিতে থাকিব, তখব অন্যান্য মুসলমানগণ নিজেদের মৃত কাফের আত্মীয়দের নাজাতের দো‘আ করিতে লাগিল তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। (ব:কো:)
২। উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হইলে অনেকের মনেই সন্দেহ হইল যে, এইরূপ দো‘আ নিষিদ্ধ হইয়া থাকিলে হযরত ইব্রাহীম (আ:) তাহার কাফের পিতার জন্য কোন দো‘ আ করিয়াছেন? তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। (ব:কো:)
৩। হাসিদে আছে “পাপের মলিনতা মনকে অন্ধ কারাচ্ছন্ন করিয়া ফেলে। কাফের আত্মীয়দের জন্য দো‘আ যেহেতু সাহাবীদের মনে ঐ শংকা উপস্থিত হইলে এই আয়াতটি নাযিল হয় যে, কোন কাজ নিষিদ্ধ হওয়ার পূর্বে পাপরূপে গণ্য হয় না। সুতরাং এমতাবস্থায় তোমাদের মনে অন্ধকার আসিতে পারে না। (ব:কো:)

وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّىٰ إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَن لَّا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ

বাংলা অর্থ:

১১৮। আর সেই তিন ব্যক্তির অবস্থার প্রতিও (অনুগ্রহ করিলেন) যাহাদের ব্যাপার মুলতবী রাখা হইয়াছিল; এই পর্যন্ত যে, যখন ভূপৃষ্ঠে নিজ প্রশস্তরা সত্ত্বেও তাহাদের প্রতি সঙ্কীর্ণ হইতে লাগিল এবং তাহারা নিজেরা নিজেদের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা হইয়া পড়িল, আর তাহারা বুঝিতে পারিল যে, আল্লাহ্ (-র পাকড়াও) হইতে কোথাও আশ্রয় পাওয়া যাইতে পারে না তাঁহারই দিকে প্রত্যাবর্তন করা ব্যতীত; তৎপর তাহাদের অবস্থার প্রতিও অনুগ্রহ দৃষ্টি করলেন; যাহাতে তাহারা ভবিষ্যতেও (আল্লাহর দিকে) রুজু থাকে; নিশ্চয় আল্লাহ্ তা আলা হইতেছেন অতিশয় অনুগ্রহকারী, করুণাময়।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ

বাংলা অর্থ:

১১৯। হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং (কাজে কর্মে) সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক।

مَا كَانَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُم مِّنَ الْأَعْرَابِ أَن يَتَخَلَّفُوا عَن رَّسُولِ اللَّهِ وَلَا يَرْغَبُوا بِأَنفُسِهِمْ عَن نَّفْسِهِ ۚ ذَ‌ٰلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَّيْلًا إِلَّا كُتِبَ لَهُم بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ

বাংলা অর্থ:

১২০। মদীনার অধিবাসীদের এবং তাহাদের আশে পাশে যে-সমন্ত পল্লীবাসীগণ রহিয়াছে, তাহাদের পক্ষে ইহা উচিত ছিল না যে, রাসূলুল্লাহর সঙ্গী না হয়, আর ইহাও (উচিত ছিল) না যে, নিজেদের প্রাণ তাঁহার প্রাণ অপেক্ষা প্রিয় মনে করে; ইহার (অর্থাৎ রাসূলের সঙ্গী হওয়ার প্রয়োজনীয়তার) কারণ এই যে-আল্লাহর পথে তাহাদের যে পিপাসা দেখা দেয়, আর যে ক্লান্তি স্পর্শ করে, আর যে ক্ষুধা পায়, এর তাহাদের এমন পদক্ষেপ যাহা কাফেরদের ক্রোধের কারণ হইয়া থাকে, আর দুশমনদের হইতে তাহার যাহাকিছু প্রাপ্ত হয় ইহার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তাহাদের জন্য এক একটি নেক আমল লিপিবদ্ধ হইয়া যায়; নিশ্চয় আল্লাহ্ তা ‘আলা সৎকর্মশীর লোকদের পুণ্যফল (ছওয়াব) বিনষ্ট করেন না।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। এই আয়াতে তবূক যুদ্ধ-যাত্রী মুজাহিদগণের যাহারা যুদ্ধে যোগদান করে নাই; কিন্তু পরে অনুতপ্ত হইয়া তওবা করিয়াছে, তাহাদের প্রশাসংসায় এই আয়াত নাযিল হয়। (ব: কো 🙂
২। অর্থাৎ যুদ্ধ হইতে পশ্চাদপদ দশজনের মধ্যে যেই তিনজন তওবা করে নাই, কেবল অপরাধ স্বীকার করিয়াছিল, হুযূর তাহাদের সঙ্গে মুসলমানদের কথাবার্তা বলিতে সকলকে নিষেধ করিয়া চল্লিশ দিন পর বলিলেন, তাহারা নিজেদের স্ত্রী হইতে দুরে থাকিবে। ইহাতে সমগ্র জগৎ যেন তাহাদের নিকট সংকীর্ণ হইয়া পড়িল। পঞ্চাশ দিন পর তাহাদের তওবা কবূল হওয়ার খবর লইয়া এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মু: কো:)

وَلَا يُنفِقُونَ نَفَقَةً صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً وَلَا يَقْطَعُونَ وَادِيًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

১২১। আর ছোট বড় যাহাকিছু তাহারা ব্যয় করিয়াছে, আর যত প্রান্তর তাহাদের অতিক্রম করিতে হইয়াছে, তৎসমুদয় ও তাহাদের নামে লিখিত হইয়াছে, যেন আল্লাহ্ তা‘আলা তাহাদের কৃতকর্মসমূহের অতি উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।

وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنفِرُوا كَافَّةً ۚ فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ

বাংলা অর্থ:

১২২। আর মুসলমানদের ইহা (-ও) সমীচীন নহে যে, (জেহাদের জন্য) সকলেই একত্রে বাহির হইয়া পড়ে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাহাদের প্রত্যেকটি বড় দল হইতে এক একটি ছোট দল (জেহাদে) বহির্গত হয়, যাহাতে অবশিষ্ট লোক ধর্মজ্ঞান অর্জন করিতে থাকে। আর যাহাতে তাহারা নিজ কাওম (অর্থাৎ, জেহাদে যোগদানকরীদিগ)-কে (নাফরমানী হইতে) ভয় প্রদর্শন করে যখন তাহরা ইহাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে যেন তাহারা পরহেযগার করিয়া চলে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ

বাংলা অর্থ:

১২৩। হে ঈমানদারগণ! সেই কাফেরদের সহিত যুদ্ধ কর যাহারা তোমাদের আশেপাশে অবস্থান করে, আর যেন তাহারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা পায়; আর দৃঢ়বিশ্বাস রাখিও যে, আল্লাহ্ পরহেযগারদের সঙ্গে আছেন।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। যুদ্ধ হইতে পশ্চাদপদ লোকদের নিন্দা ও শাস্তির ভয় প্রদর্শন করিয়া আয়াতসমূহ নাযিল হইলে ঈমানদারগণ সংকল্প করিল যে, ভবিষ্যতের সকল যুদ্ধে সকলেই অংশ গ্রহণ করিবে। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মু: কো:)
২। অর্থাৎ, তাহাদের সহিত জিহাদ করিবার মধ্যে দৃঢ়তা প্রকাশ পায় এবং জিহাদ ব্যতীত অন্য সময়েও যখন তাহাদের সহিত সন্ধি চুক্তি না থাকে, তখনও দুর্বলতা কিংবা শৈথিন্য প্রকাশ করি ও না। (ব:কো:)
৩। মুনাফেকেরা কোরআনের আয়াতসমূহ লইয়া বিদ্রুপ করিত এবং তৎপ্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করিত। এই আয়াতে উহার প্রতিবাদে তাহাদের প্রতি তিরস্কার করা হইয়াছে প্রকাশ থাকে যে, মুনাফেকেরা সাধারণত: দরিদ্র শ্রেণীর মুসলমানদের সঙ্গেই বিদ্রুপ করিত। (ব:কো:)

وَإِذَا مَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُم مَّن يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَـٰذِهِ إِيمَانًا ۚ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ

বাংলা অর্থ:

১২৪। আর যখন কোন সুরা অবতীর্ণ করা হয, তখন কোন কোন মুনাফেক বলে, তোমাদের মধ্যে এই সূরা কাহার ঈমান বৃদ্ধি করিল? অনন্তর যেসকল লোক ঈমান আনিয়াছে এই সূরা তাহাদের ঈমানকে বর্ধিত করিয়াছে এবং তাহারাই আনন্দ লাভ করিতেছে।

وَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا إِلَىٰ رِجْسِهِمْ وَمَاتُوا وَهُمْ كَافِرُونَ

বাংলা অর্থ:

১২৫। আর যাহাদের অন্তরসমূহে রোগ রহিয়াছে, এই সূরা তাহাদের মধ্যে তাহাদের মলিনতার সহিত আরও মলিনতা বর্ধিত করিয়াছে, আর তাহারা কুফরের অবস্থায়ই মরিয়াছে ।

أَوَلَا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُونَ فِي كُلِّ عَامٍ مَّرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوبُونَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُونَ

বাংলা অর্থ:

১২৬। আর তাহারা কি দেখে না যে, তাহার প্রত্যেক বৎসর একবার অথবা দুইবার কোন না কোন বিপদে পতিত হইয়া থাকে? তবুও প্রত্যাবর্তন করে না আর না তাহারা কিছু বুঝে।

وَإِذَا مَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ نَّظَرَ بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ هَلْ يَرَاكُم مِّنْ أَحَدٍ ثُمَّ انصَرَفُوا ۚ صَرَفَ اللَّهُ قُلُوبَهُم بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَفْقَهُونَ

বাংলা অর্থ:

১২৭। আর যখন কোন সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাহারা একে অন্যের দিকে তাকাইতে থাকে; (এবং ইঙ্গিতে বলে যে,) তোমাদিগকে কেহ তো দেখে না? অত:পর চলিয়া যায়; আল্লাহ্ তাহাদের অন্তরগুলিকে ফিরাইয়া দিয়াছেন, কারণ তাহারা হইতেছে নিবোর্ধ সমাজ মাত্র।

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১২৮। তোমাদের নিকট আগমন করিয়াছেন তোমাদেরই মধ্যকার এমন একজন পয়গম্বর, যাঁহার নিকট তোমাদের ক্ষতিকর বিষয় অতি দুর্বাহ মনে হয়, যিনি হইতেছেন তোমাদের অতিশয় হিকাকাঙ্গী মুমেনদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, করুণাপরায়ণ।

فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ ۖ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

বাংলা অর্থ:

১২৯। অত:পর যদি তাহারা পরাক্ষমুখ হয়, তবে আপনি বলিয়া দিন যে আমার জন্য তো আল্লাহ্ তা আলা যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কেহই উপাস্য হওয়ার যোগ্য নাই, আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করিয়া আছি, আর তিনি হইতেছেন অতি বড় আরশের মালিক।

সূরা আত-তাওবা বাংলা অনুবাদ শানে নুযুলঃ

১। অর্থাৎ ঈমানের উন্নতিও পরিবধন আত্মিক ব্যাপার। মুমিনগন তাহা অনুভব করিয়া প্রফুল্ল ও আনন্দিত হইতেছে। আর হে মুনাফেকেরা! তোমরা আত্মিক অনুভুতি হইতে বঞ্চিত, অতএব, বিদ্রুপ করিতেছ। (ব:কে:)
২। অর্থাৎ মুনাফেকদের মধ্যে যাহাদের মৃত্যু হইয়াছে, তাহারা কুফর অবস্থায়ই মরিয়াছে। আর যাহারা হটকারিতায় অটল থাকিবে তাহারাও কুফর অবস্থায়ই মরিবে। আর তাহাদের অন্তর পাপচিন্তায় পরিপূর্ণ। অতএব, তাহারা কোরআন দ্বারা উপকৃত হইতে পারে না বরং শঠতা আরও বর্ধিত হইয়া যায়। (ব: কো:)
৩। অর্থাৎ, এখন আমাদের এই স্থান ছাড়িয়া যাইতে হইতেছে। লক্ষ্য রাখ, কোন মুসলমান আমাদের প্রতি লক্ষ্য করিতেছে কিনা? তাহা হইলে সে হযরত (দ:) এর নিকট বলিয়া দিলে আমাদের প্রতি তাহার বিরূপ ধারণা জন্মিবে। (ব: কো:)
৪। প্রাচীন বৈজ্ঞানিক দের মতে সূর্য পৃথিবী হইতে দেড়শত গুন বড়। সূর্যটি আসমানের অতি সামান্য অংশই জুড়িয়া রহিয়াছে। এতএব, এই নিম্ন আসমানটি সূর্য হইতে কত বড়, তাহা অনুমান করা কঠিন। পৃথিবীর তুলনায় নিম্ন আসমান যত বড়, তদ্রুপ দ্বিতীয় আসমান প্রথম আসমান হইতে তত বড়। এই অনুপাতেই ক্রমান্বয়ে সপ্তম আসমান সর্বাপেক্ষা বৃহৎ। সপ্তম আসমানের উপর কুরসী এবং উহার উপরে “আরশে আযীম ”। কুরসীর তুলনায় সপ্তম আসমান এত ক্ষুদ্র, যেমন একটি বড় ঢালের উপর সাতটি সিকি। কুরসীটি আরশ অপেক্ষা তদ্রুপ ছোট। ইহাতে অনুমিত হয় যে, পৃথিবীর তুলনায় আরশ বহু লক্ষ কোটি গুন বড়। (ব:কো:)

সূরা আনফাল এর বাংলা অনুবাদ ও শানে নজুল পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
সূরা আরাফ এর বাংলা অনুবাদ ও শানে নজুল পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
সূরা আনআম এর বাংলা অনুবাদ ও শানে নজুল পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
সূরা আল-মায়েদা এর বাংলা অনুবাদ ও শানে নজুল পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
সূরা আন-নিসা এর বাংলা অনুবাদ ও শানে নজুল পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
আমাদের, ফেসবুক পেইজে লাইক, শেয়ার এবং কমেন্টস করে আমাদের সাথেই থাকুন।