সূরা-আল-মায়েদা-বাংলা-অনুবাদ-ও-শানে-নযুল

সূরা আল-মায়েদা বাংলা অনুবাদ
সর্বমোট আয়াত ১২০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ ۚ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۗ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ

বাংলা অর্থ:

১। হে ঈমানদারগণ ! প্রতিশুতিসমূহ পূর্ণ কর; তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে সমস্ত চতুষ্পদ জন্তু যেগুলি গৃহ পালিত পশু সদৃশ ঐগুলি ব্যতীত, যাহাদের বর্ণনা সম্মুখে আসিতেছে, কিন্তু তোমরা এহরাম অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে করিও না; নিশ্চয় আল্লাহ বিধিবদ্ধ করিয়া থাকেন যাহা ইচ্ছা করেন।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَ وَلَا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّن رَّبِّهِمْ وَرِضْوَانًا ۚ وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا ۚ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَن صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَن تَعْتَدُوا ۘ وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

বাংলা অর্থ:

২। হে ঈমাণদারগণ! আল্লাহর প্রতীক সমূহে অসম্মান করিও না এবং সম্মানিত মাসসমূহেরও না এবং হরম শরীফে কুরবানী করার জন্য নিদিষ্ট জীবেরও না এবং ঐ সমস্ত জীবের ও না যাহাদের গলায় দোয়াল বা পাট্টা পরান হইয়াছে এবং এ সমস্ত লোকের ও না যাহারা বাইতুল হারামের উদ্দেশ্য গমনকরিয়াছে-স্বীয় পরওয়াদেগারের করুণা ও সন্তষ্টির অন্বেষণকারী হইয়া; আর যখন তোমরা এহরাম ত্যাগ কর, তখন শিকার কর; আর যেন তোমাদের জন্য সীমাঙ্ঘনের কারণ না হইয়া পড়ে ঐ সম্প্রদায়ের শত্রুতা যাহা তোমাদিগকে মসজিদে হারাম (এ প্রবেশ করা) হইতে প্রতিরোধ করা দরুন হইয়াছে। এবং নেকী ও পরহেযগারীতে একে অন্যের সাহায্য করিতে থাক, এবং পাপ কার্যে ও সীমালংঙ্ঘনে একে অন্যের সাহায্য করিও না, আর আল্লাহকে ভয় করিতে থাক; নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তি প্রদানকারী।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

হাতাম কান্দী নামক জৈনক মূর্খ কাফের একদিন হুযুর (দঃ)কে জিজ্ঞাস করিল, ‘‘আপনি মানুষকে কিসের দিকে ডাকিতেছেন? হুযুর (দঃ) বলিলেন তাওহীদ, রিসালাত, নামায, রোযা ও যাকাতের প্রতি। সে বলিল বিষয় গুলিতো ভালোই, তবে ক্বওমের নেতৃবৃৃন্দের পরামর্শ ছাড়া আমি কিছুই করি না। তাহারা পরামর্শ দিলে আপনার ধর্ম গ্রহন করিব। অতঃপ সে যাইবার সময় হুযুর (দঃ) বলিলেন,এই ব্যাক্তি শয়তানের মুখে কথা বলিয়াছে, কাফের অবস্থায় আসিয়াছে এবং মিথ্যাবাদী ও ধোকাবাজ অবস্থায় গিয়াছে। যাইবার পথে ছদকার উট লইয়া পালাইল। অতঃপর হুযুর যখন ওমরা পালনের জন্য যাত্রা করিলেন সঙ্গী সাহাবীগণ দেখিতে পাইলেন হাতেম কান্দী সেই উট গুলির গলায় পাট্টা পরাইয়া কা‘বা অভিমুখে লইয়া যাইতেছে। সাহাবা গণ তাহা কারিয়া লইতে চাহিলে হুযুর নিষেধ করলেন। তখন এই আয়াতটি নাযিল হইল। (মুঃ কোঃ)

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَ‌ٰلِكُمْ فِسْقٌ ۗ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ ۚ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ ۙ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৩। তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, (প্রবাহিত)রক্ত, শুকুরের মাংস এবং যে পশু গায়রুল্লাহর নামে অবধারিত হইয়াছে এবং যে জীব শ্বাস রোধ করার দরুন মরিয়াছে এবং যাহা আঘাতের কারণে মরিয়াছে এবং যাহা উচ্চ স্থান হতে পড়িয়া মরিয়াছে এবং যাহা অন্য কিছুর সঙ্গে সংঘসের কারণে মরিয়াছে এবং যাহা কোন হিংস্র প্রাণী ভক্ষণ করিতে থাকে (এবং সেই আঘাতে মৃত্যু হয় ) কিন্তু যেগুলোকে যবেহ করিয়া লইয়াছ।

এবং যে জানোয়াকে যবেহ করা হয় (গায়রুল্লাহর) পূজার স্থানে এবং ইহা (ও হারাম) যে (গোশত ইত্যাদি) ভাগ কর লটারীর তীরের মাধ্যমে; এই গুলি গুনাহর কাজ; আজ তো কাফেররা নিরাশ হইয়া গিয়াছে তোমাদের ধর্ম (পরাভূত হওয়া) হইতে, সুতরাং তাহাদিগকে ভয় করিও না এবং আমাকে ভয় করিতে থাক; আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণ করিয়া দিলাম এবং আমি তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পরিপূর্ণ করিয়া দিলাম এবং আমি ইসলামকে তোমাদের ধর্মরূপে পছন্দ করিলাম; অনন্তর যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় অস্থির হইয়া যায় (এবং নিষিদ্ধ বস্তু ভক্ষণ করে) কিন্তু কোন পাপের প্রতি আকৃষ্ট হয়না, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল,  করুণাময় ।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) অন্ধকার যুগে নিয়ামত ছিল যে, কয়েক ব্যক্তি মিলিয়া একটি প্রাণি খরিদ করিয়া যবেহ করিত; কিন্তু প্রত্যেকের দেওয়া টাকার অনুপাতে গোশত বন্টন করা হইত না। বরং দশটি তীর লইয়া সাতটিতে পরিমাপ চিহ্ন আকিয়া দিত, আর তিনটি খালি থাকিত। তীরগুলিকে একটি থলের মধ্যে রাখিয়া দিত, অতঃপর প্রত্যেকের নামে এক একটি তীর থলে হইতে উঠাইত উক্ত তীরে যে পরিমান চিহ্ন থাকিত, তাহাকে ঐ পরিমান গোশত দেওয়া হইত। যাহার নামে চিহ্নহীন তীর উঠিত, সে কিছুই পাইত না। ইহা এক প্রকার জুয়া বিশেষ। কাজেই ইহা হারাম। (বঃ কোঃ)
২) এই আয়াতটি দশম হিজরী দশম সনের ৯ই জিলহজ্জ বিদায় হজ্জের দিন নাযিল হয়। ইহার পর হুযুর (দঃ) তিন মাসকাল জীবিত ছিলেন। ধর্মকে পূর্ণ করিয়া দিলাম অর্থাৎ, ধর্মের যাবতীয় বিধান সমাপ্ত করিয়া দিলাম। (বঃ কোঃ)

يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ ۖ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ ۙ وَمَا عَلَّمْتُم مِّنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللَّهُ ۖ فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

বাংলা অর্থ:

৪। মানুষ আপনার নিকট জিজ্ঞাস করে যে কোন কোন জীব জন্তু তাহাদের জন্য হালাল করা হইয়াছে ? আপনি বলিয়া দিন, তোমাদের জন্য সমস্ত হালাল প্রাণীই হালাল রাখা হইয়াছে, আর যে সমস্ত শিকারী প্রাণীকে তোমরা শিখাইয়া লও এবং তোমরা উহা দিগকে লেলাইয়া দাও এবং উহাদিগকে সেই প্রণালীতে শিক্ষা প্রদান কর যেরূপ আল্লাহ তোমাদিগকে শিখাইছেন, অতঃপর এইরূপ জানোয়ার তোমাদের জন্য যাহাকিছু ধরিয়া আনিবে, তাহা খাও, এবং উহার উপর আল্লাহর নামও উচ্চারণ কর, আর আল্লাহকে ভয় করিতে থাক; নিশ্চয় আল্লাহ সত্বর হিসাব গ্রহনকারী।

الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ ۖ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَّهُمْ ۖ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِي أَخْدَانٍ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

বাংলা অর্থ:

৫। আজ তোমাদের জন্য হালাল বস্তুসমূহ হালাল রাখা হইয়াছে; আর আহলে কিতাবদের যবেহকৃত জীব ও তোমাদের জন্য হালাল, এবং তোমাদের যবেহকৃত জীবও তাহাদের জন্য হালাল, আর সতী সাধ্বী মুসলিম নারীরাও এবং তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদিগের মধ্যকার সতী সাধ্বী নারীরাও (তোমাদের জন্য হালাল) যখন তোমরা তাহাদিগকে তাহাদের বিনিময় (মহর) প্রদান কর এই রূপে যে, তোমরা (তাহাদিগকে) পত্নী  করিয়া লও, না প্রকাশ্য ব্যভিচার কর, আর না গোপন প্রণয় কর; আর যে ব্যক্তি ঈমাণের (বিষয়ের) সহিত কুফুর করিবে, তবে তাহার আমল নিষ্ফল হইয়া যাইবে, এবং সে ব্যক্তি পরকালে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

আদী ইবনে হাতেম তাঈ এবং যায়েদ ইবনে খায়েল হুযুরের খেদমতে আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এমন স্থানে বাস করি যে,সেখানে কুকুর দ্বারা শিকার করা হয়। আমরা ঐ শিকার গুলির কতককে পুষিবার জন্য রাখিয়া দেই, কতকগুলি যবেহ করি, আবার কতকগুলিকে কুকুর মারিয়া ফেলে। এই গুলি আমাদের হালাল, না মৃত বলিয়া গণ্য? তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মুঃ কোঃ)

মাসআলাঃ কুকুর, বাজ ও তীর বল্লমের শিকার হালাল হওয়ার জন্য শিকারের গায়ে যখম এবং রক্ত প্রবাহিত থাকিতে হইবে। এই বিধান শুধু জংলী জানোয়ার সম্বন্ধে। কিন্তু যদি যবেহ করার অবসর পাওয়া যায়, তবে যবেহ ব্যতিরেকে হালাল হইবে না। (বঃ কোঃ)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ ۚ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَـٰكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

বাংলা অর্থ:

৬। হে ঈমাণদারগণ! যখন তোমরা নামাযে দাড়াইতে উদ্যত হও, তখন নিজের মুখমন্ডলসমূহ ধৌত কর এবং নিজেদের হাত সমূহকেও কনুইসহ এবং নিজেদের মস্তকসমূহ মসহে কর এবং নিজেদের পা-সমূহকে টাখনুসহ ধৌত কর); আর যদি তোমরা জানাবতের অবস্থায় থাক, তবে সমস্ত শরীর পাক কর; আর যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা তোমাদের মধ্যে হইতে কেহ এস্তেনজা হইতে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস করিয়া থাক, অনন্তর তোমরা পানি না পাও, তবে তোমরা পাক মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করিয়া লইবে, অর্থাৎ উক্ত পাক মাটি দ্বারা নিজেদের মুখমন্ডল এবং নিজেদের হস্ত সমূহ মসহে করিয়া লইবে; আল্লাহর ইচ্ছা ইহা নহে যে, তোমাদের উপর অসুবিধা চাপাইয়া দেন, বরং তাহার ইচ্ছা ইহাই যে, তোমাদিগকে পবিত্র তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করেন, যেন তোমরা শোকরগুযারী কর।

وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمِيثَاقَهُ الَّذِي وَاثَقَكُم بِهِ إِذْ قُلْتُمْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

বাংলা অর্থ:

৭। আর তোমরা তোমাদের প্রতি এবং তাহার সেই অঙ্গিকারকেও (স্মরণ কর) যে অঙ্গিকার তিনি তোমাদিগ হইতে গ্রহন করিয়াছেন, যখন তোমরা বলিয়াছিলে-আমরা শ্রবণ করিলাম এবং মানিয়া লইলাম, আর আল্লাহকে ভয় কর; নিশ্চয় অন্তনিহিত কথাগুলিরও পূর্ণ খবর রাখেন।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) মোট কথা, আল্লাহর ইচ্ছা, যেন তোমাদের প্রতি কোন কঠোরতা না থাকে, বিশেষ করিয়া উল্লিখিত বিধান সমূহে এবং সাধারণ ভাবে অন্যান্য যাবতীয় বিধানে সহজ ও সুবিধার প্রতি দৃষ্টি রাখিয়েছেন বলিয়া স্পষ্টই বুঝা যাইতেছে। (বঃ কোঃ)
২) পবিত্রতা লাভের কেবল একটি প্রণালী বলিয়াই ক্ষান্ত হন নাই যে, ইহা না হইলে পবিত্রতা লাভের অন্য কোন উপায় নাই; বরং পানি না পাওয়া গেলে বা ব্যবহারে অক্ষম হইলে মাটি দ্বারা পবিত্রতা লাভ করার প্রণালীও বলিয়া দিয়াছেন। ইহা বাহ্যিক অঙ্গের পবিত্রতা বটে কিন্তু এই পবিত্রতার উপর এবাদত নির্ভরশীল এবং এবাদত দ্বারা আধ্যাত্মিক পবিত্রতা লাভ হইয়া থাকে। সুতরাং ইহাতে বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক উভয়বিদ পবিত্রতাই অন্তরর্ভূক্ত রহিয়াছে। (বঃ কোঃ)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

৮। হে ঈমাণদারগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিধানসমূহ পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠাকারী এবং ন্যায়ের সহিত সাক্ষ্য প্রদানকারী হও, এবং কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদিগকে ইহার প্রতি উদ্যত না করে যে, তোমরা ন্যায় বিচার না কর; ন্যায় বিচার কর।ইহা খোদা-ভীতির অধিকতর নিকটবর্তী, আর আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কৃতকর্ম সম্বন্ধে পূর্ণ অবগত আছেন।

وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ۙ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯। আল্লাহ এই রূপ লোকদিগকে, যাহারা ঈমাণ আনিয়াছে এবং নেক কাজ করিয়াছে– প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যে, তাহাদের জন্য ক্ষমা ও মহান পুরষ্কার রহিয়াছে।

وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

বাংলা অর্থ:

১০। আর যাহারা কুফর করিয়াছে এবং আমার বিধান গুলিকে মিথ্যা বলিয়াছে, এই রূপ লোক জাহান্নামের অধিবাসী।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ هَمَّ قَوْمٌ أَن يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ فَكَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنكُمْ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

বাংলা অর্থ:

১১। হে ঈমাণদারগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর, যাহা তোমাদের উপর বর্ষিত হইয়াছে, যখন এক সম্প্রদায় এই চিন্তায় ছিল যে তোমাদের দিকে হস্ত প্রসারিত করিবে, কিন্তু আল্লাহ তাহাদের ক্ষমতা তোমাদের উপর চলিতে দেননাই, আর আল্লাহকে ভয় কর; মু’মেনদিগের আল্লাহরই উপর ভরসা রাখা উচিত।

وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا ۖ وَقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ ۖ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُوهُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۚ فَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَ‌ٰلِكَ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ

বাংলা অর্থ:

১২। আর আল্লাহ বনী ইসরাঈলদের নিকট হইতে অঙ্গীকার রইয়াছিলেন, এবং আমি তাহাদের মধ্যে হইতে বার জন দলপতি নিযুক্ত করিয়া দিয়াছিলাম; এবং আল্লাহ এই রূপ বলিয়াছিলেন– আমি তোমাদের সঙ্গে রহিয়াছি; যদি তোমরা নামাযের পাবন্দী করিতে থাক এবং যাকাত দিতে থাক এবং আমার সমস্ত রাসূলের প্রতি ঈমাণ আনিতে থাক এবং তাহাদের সাহায্য করিতে থাক এবং আল্লাহ তা‘আলাকে উত্তমরূপে কর্জ দিতে থাক, তবে আমি নিশ্চয় তোমাদের গুনাহগুলি তোমাদিগ হইতে মোচন করিয়া দিব এবং অবশ্যই তোমাদিগকে দাখিল করিব এমন উদ্যনসমূহে যাহার তলদেশে নহর বহিতে থাকিবে, অনন্তর যে ব্যাক্তি ইহার পরও কুফর করিবে, তবে সে নিশ্চয় সোজা পথ হইতে দূরে যাইয়া পড়িল।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) অর্থাৎ কোরাইশ সম্প্রদায়ের কাফের গণ। (বঃ কোঃ)
২) অর্থাৎ ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় যখন তোমরা দুর্বল ছিলে, তখন এই কাফেররা তোমাদিগকে একেবারে বিলুপ্ত করিয়া দেওয়ার চেষ্টায় ছিল। (বঃ কোঃ)
৩) বরং পরিশেষে তোমাদিগকে শক্তিশালী করিয়া দিয়াছিলেন। তোমরা তাহাদিগকে পর্যুদস্ত করিয়া দিতে সক্ষম হইয়াছ। সুতরাং এই নিআ‘মতকে স্মরণ কর। (বঃ কোঃ)
৪) আল্লাহকে ভয় কর ’’ বাক্যে ভয় প্রদর্শন করিয়াছেন, এবং আল্লাহর উপরই ভরসা রাখা উচিত ’’ বাক্যে আশা প্রদান করিয়াছেন, ভয় ও আশা এই দুটি বস্তুই আদেশ পালনে সহায়ক। (বঃ কোঃ)

فَبِمَا نَقْضِهِم مِّيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً ۖ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ ۙ وَنَسُوا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ ۚ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَىٰ خَائِنَةٍ مِّنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

বাংলা অর্থ:

১৩। বস্তুতঃ কেবল তাহাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দরুনই আমি তাহাদিগকে স্বীয় অনুগ্রহ হইতে দূর করিয়া দিলাম, আর আমি তাহাদের অন্তরকে কঠিন করিয়া দিলাম, তাহারা কালাম (তাওরাত) কে পরিবর্তন করিয়া দেয় উহার স্থান সমূহ হইতে, এবং যাহা কিছু নসীহত করা হইছিল তাহারা তম্মধ্য হইতে এক বড় অংশকে হারাইয়া বসিয়াছে, আর আগামীতে ও (অবিরত) তাহাদের কৃত কোন না কোন খেয়ানতের সংবাদ আপনার নিকট আসিতে থাকিবে, তাহাদের অল্প কয়েকজন ব্যতীত, আপনি তাহাদিগকে ক্ষমা করিতে থাকুন এবং তাহাদিগকে মার্জনা করিতে থাকুন; নিশ্চয় আল্লাহ সদাচারী লোকদিগকে ভালোবাসেন।

وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَىٰ أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۚ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللَّهُ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ

বাংলা অর্থ:

১৪। আর যাহারা বলে আমরা নাছারা, আমি তাহাদিগ হইতেও ওয়াদা লইয়াছিলাম, অনন্তর তাহাদিগকেও যাহাকিছু নসীয়ত করা হইয়াছিল তম্মধ্য হইতেও তাহারা নিজেদের এক বড় অংশ হারাইয়া বসিয়াছে, অতএব, আমি তাহাদের পরষ্পরের মধ্যে হিংসা ও শত্রুতা সঞ্চার করিয়া দিলাম কিয়ামতের দিন পর্যন্ত; এবং অচিরেই তাহাদিগকে আল্লাহ তা‘আলা তাহাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে জানাইয়া দিবেন।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

(১) হযরত মূসা (আঃ) এর শেষ বয়সে ইসরাঈলীদের নিকট হইতে এই ওয়াদা লওয়া হইছিল। এই সূরাটি হুযুর (দঃ) এর শেষ জীবনে নযিল করিয়া সম্ভবতঃ আমাদিগকে শুনাইয়া দেওয়া হইতাছে যে,বনী ইসরাঈলদের নিকট হইতে যেমন ওয়াদা লওয়া হইয়াছিল,তদ্রুপ যেন আমাদের নিকট হইতে ও ওয়াদা লওয়া হইতাছে যে, আমরাও যে হুযুরের পরবর্তী খলীফাদের অনুসরণ ও সাহায্য করি। (বঃ কোঃ)
(২) এই ওয়াদা ভঙ্গের দরুনই তাহারা অভিশপ্ত হইয়াছে। এই কারণে তাহাদের অন্তর কঠিন ও বিপথগামী হইলে তাহারা আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করিয়াছে, এবং নিজেদের মঙ্গলের বিরাট অংশ অর্থাৎ ঈমাণ হারাইয়া ফেলিয়াছে। (বঃ কোঃ)

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِّمَّا كُنتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ ۚ قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ

বাংলা অর্থ:

১৫। হে আহলে কিতাব! তোমাদের নিকট আমার এই রাসূল আসিয়াছেন–তোমরা কিতাবের যে সমস্ত বিষয় গোপন কর–তিনি তম্মধ্য হইতে বহু বিষয় তোমাদের সম্মুখে পরিষ্কার ভাবে ব্যক্ত করেন, আর বহু বিষয় (প্রকাশ করা) বর্জন করেন; তোমাদের নিকট আল্লাহর সন্নিধান হইতে এক আলোকময় বস্তু আসিয়াছে এবং (উহা) একটি স্পষ্ট কিতাব (কোরআন)।

يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

বাংলা অর্থ:

১৬। উহা দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা এই রূপ ব্যাক্তিদিগকে শাস্তির পন্থা সমূহ বলিয়াদেন যাহারা তাহার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং তাহাদিগকে নিজ তওফীকে (ও করুণায় কুফরীর) অন্ধকার হইতে বাহির করিয়া (ঈমাণের) আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং তাহাদিগকে সরল (সঠিক) পথে প্রতিষ্ঠিত রাখেন।

لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَن يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ۗ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা অর্থ:

১৭। নিঃসন্দেহে তাহারা কাফের, যাহারা বলে, আল্লাহ স্বীয় মসীহ ইবনে মারইয়াম; আপনি জিজ্ঞাস করুন, যদি তাহাই হয়, তাহা হইলে বল তো, এই রূপ কি কেহ আছে, যে আল্লাহ হইতে তাহাদিগকে একটু রক্ষা করিতে পারে? যদি আল্লাহ তা‘আলা মসীহ ইবনে মারইয়ামকে এবং তাহার মাতাকে এবং ভূপৃষ্ঠে যাহারা আছে তাহাদের সকলকে ধ্বংস করিতে ইচ্ছা করেন; আর আল্লাহ তা‘আলারই প্রভুত্ব নির্দিষ্ট রহিয়াছে আসমান সমূহে ও যমিনে এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তুর উপর; এবং তিনি যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন; আর আল্লাহ সকল বস্তুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) খৃষ্টানগণ ধর্ম মতে তিন দলে বিভক্ত। নাসতুরিয়া ইহারা ঈসাকে আল্লাহর পুত্র বলে।ইয়াকুবিয়া ইহারা ঈসাকে আল্লাহর সহিত একাঙ্গীভূত বলে। মালাকিয়া ইহারা ঈসাকে তিন খোদার এক খোদা বলে। এই মতভেদ তাহাদের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যামন থাকবে। আয়াতে এই ধর্মীও মতভেদ এবং হিংসার কথা বলা হইয়াছে। পার্থিব হিংসা বিদ্বেষের কথা বলা হয় নাই। অতএব পার্থিব ব্যাপারে তাহাদের মধ্যে ঐক্য থাকিলে আয়াতের উপর কোন প্রশ্ন আসিতে পারেনা। (বঃ কোঃ)
২) অর্থাৎ এই কথা তোমরাও জান যে, এমন কেহই নাই। অথচ ইহা স্বতঃসিদ্ধ যে, যিনি খোদা হইবেন তাহাকে কেহ ধ্বংস করিতে পারেনা। কিন্তু হযরত ঈসাকে আল্লাহ যদি ধ্বংস করিতে চাহেন, তবে তাহাকে আল্লাহর হাত হতে কেহ রক্ষা করিতে পারিবেনা। কাজেই তিনি সম্পূর্নরূপে আল্লাহর ক্ষমতাধীন। অতএব খোদা হইতে পারেন না (বঃ কোঃ)

وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَىٰ نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ ۚ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُم بِذُنُوبِكُم ۖ بَلْ أَنتُم بَشَرٌ مِّمَّنْ خَلَقَ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۚ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ

বাংলা অর্থ:

১৮। আর ইহুদী ও নাছারারা দাবী করে যে আমরা আল্লাহর পুত্র এবং তাহার প্রিয়পাত্র; আপনি জিজ্ঞাস করুন, আচ্ছা তবে তোমাদিগকে তোমাদের পাপের দরুন শাস্তি কেন প্রদান করিবেন? বরং তোমরা ও অন্যান্য সৃষ্টির ন্যায় সাধারন মানুষ মাত্র; আল্লাহ তা‘আলা যাহাকে ইচ্ছা মার্জনা করিবেন আর যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন; আর আল্লাহরই প্রভুত্ব রহিয়াছে আসমানসমূহেও এবং যমীনেও এবং এবদুর্ভয়ের মধ্যস্থিত সবকিছুতেও, আর আল্লাহর দিকে সকলকে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে।

يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَىٰ فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَن تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِن بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ ۖ فَقَدْ جَاءَكُم بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা অর্থ:

১৯। হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের নিকট আমার এই রাসূল (মোহাম্মাদ [দঃ]) আসিয়া পৌছিয়াছেন, যিনি তোমাদিগকে (হুকুম) স্পষ্টভাবে বলিয়া দিতেছেন, এমন সময় যখন রাসূলদের (আগমনের) সূত্র (দীর্ঘকাল) বন্ধ ছিল, যেন তোমরা (কিয়ামত দিবসে) এই রূপ বলিয়া না বস যে, আমাদের নিকট কোন সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী আগমন করে নাই, (এখন তো) তোমাদের নিকট সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী আসিয়াছেন; আর আল্লাহর সকল বস্তুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنبِيَاءَ وَجَعَلَكُم مُّلُوكًا وَآتَاكُم مَّا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ

বাংলা অর্থ:

২০। আর সে সময়টি উল্লেখযোগ্য, যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বলিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! স্মরন কর তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামতকে, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে বহু নবী সৃষ্টি করিলেন এবং তোমাদিগকে রাজ্যাধিপতি করিলেন, এবং তোমাদিগকে এমন বস্তু দান করিলেন, যাহা বিশ্ববাসীদের মধ্যে কাহাকেও দেন নাই।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) একদিন আহলে কিতাবদের কতিপয় আলেম হুযুরের খেদমতে আসিলে তাহাদিগকে নানা বিধ উপদেশ দিলেন এবং উহা অমান্য করিলে দোযখের ভয় দেখাইলেন। তাহারা বলিল এই সমস্ত ভয় আমাদিগকে দেখাইবেন না, আমরা আল্লাহর পুত্র এবং তাহার প্রিয়পাত্র। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। (খাযেন)
২) হুযুরে আকরাম(দঃ) এবং ঈসা (আঃ) এর মধ্যেবর্তী ছয়শত বৎসরকালে কোন নবী আসেনাই। আল্লাহ খিষ্টানদিগকে সম্বোধন করিয়া বলেন,তোমরা আফসুস করিয়া থাক যে,তোমরা নবীর যামানা পাও নাই এবং তাহদের দ্বারা শিক্ষা ও হেদায়েত গ্রহনের সুযোগ পাও নাই। এখন তো তোমাদের নিকট নবী মোহাম্মাদ আসিয়াছেন,তাহার সহচর্যকে সুবর্ণসুযোগ মনে কর। আল্লাহ সর্বশক্তিমান। তোমরা তাহার অনুগত্য না করিলে তোমাদের স্থলে তিনি অন্য কোন দল দাঁড় করাইয়া দিবেন। (মুঃ কোঃ)

يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَىٰ أَدْبَارِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ

বাংলা অর্থ:

২১। হে আমার সম্প্রদায় ! এই পূর্ণ ভূমিতে প্রবেশ কর যাহা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য লিখিয়া দিয়াছেন, আর পিছনের দিকে ফিরে যাইও না, তাহা হইলে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।

قَالُوا يَا مُوسَىٰ إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَن نَّدْخُلَهَا حَتَّىٰ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِن يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ

বাংলা অর্থ:

২২। তাহারা বলিল হে মূসা! সেখানেতো পরাক্রমশালী লোকগণ রহিয়াছে, অতএব আমরা তো সেখানে কখনও পা রাখিব না যতক্ষন পর্যন্ত তাহারা বাহির হইয়া না যায়, হাঁ, যদি তাহারা সেখান হইতে অন্য কোথাও চলিয়া যায়, তবে নিশ্চিত আমরা যাইতে প্রস্তুত আছি।

قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

২৩। সেই দুই ব্যাক্তি যাহারা (আল্লাহকে) ভয়কারীদের অন্তভূক্ত ছিল (এবং) যাহাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা বলিল–তোমরা তাহাদের উপর (আক্রমণ করিয়া নগরের) দ্বারদেশ পর্যন্ত যাও, অনন্তর যখনই তোমরা দ্বারদেশে পা রাখিবে, তখনই জয় লাভ করিবে, এবং আল্লাহ তা‘আলার উপর নির্ভর কর যদি তোমরা ঈমাণদার হও।

قَالُوا يَا مُوسَىٰ إِنَّا لَن نَّدْخُلَهَا أَبَدًا مَّا دَامُوا فِيهَا ۖ فَاذْهَبْ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ

বাংলা অর্থ:

২৪। তাহারা বলিল হে মূসা! নিশ্চয় আমরা কখনও সেখানে পা রাখিব না, যে পর্যন্ত তাহারা সেখানে বিদ্যামান থাকে, অতএব আপনি এবং আপনার খোদা চলিয়া যান এবং উভয়ে যুদ্ধ করুন, আমরা তো এখান হইতে নড়িব না।

قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي ۖ فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ

বাংলা অর্থ:

২৫। মূসা আরয বলিলেন, হে আমার পরওয়ারদেগার! আমি স্বীয় প্রাণ এবং নিজ ভ্রাতার উপর অবশ্য অধিকার রাখি, সুতরাং আপনি আমাদের উভয়ের এবং এই অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে মীমাংসা করিয়া দিন।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) বনী ইসরাঈলকে ফের‘আউনের গোলামী হতে মুক্ত করিলেন। তাহাদের বারটি দল হতে বার জন সরদার মনোনীত করিয়া অবস্থা জানিবার জন্য সিরিয়া দেশে পাঠাইলেন। তাহারা আসিয়া জানাইল, দেশটি খুব সুন্দর।কিন্তু অধিবাসীরা খুবই শক্তিশালী। মূসা (আঃ) বলিলেন, তোমরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ইহা প্রকাশ করিও না।কিন্তু দুইজন ছাড়া সকলেই এই কথা প্রকাশ করিয়া তাহাদিগকে হত সাহস করিয়া দিল। ফলে সিরিয়াবাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ করার নিদের্শ হইলে মূসার আদেশ কেহ মানিল না। এই অপরাধে ৪০ বছর তাহাদিগকে তীহ ময়দানে ঘুড়ে বেড়াইতে হইল। অবশেষে মূসার পর তাহার যুগের সেই বনী ইসরাঈলরা অতীত হইলে পরবর্তী যুগের বনী ইসরাঈলরা সেই দুই জন অনুগত সরদারের অর্থাৎ, ‘ইউশা’ ও কালেব- এর নেতৃত্বে আমালিকাদিগকে বিতাড়িত করিয়া সিরিয়া জয় করিলেন। (মুঃ কোঃ)

قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ ۛ أَرْبَعِينَ سَنَةً ۛ يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ

বাংলা অর্থ:

২৬। এরশাদ হইল, (তবে মীমাংসা এই যে) এই দেশে চল্লিশ বৎসর ইহাদের হস্তগত হইবে না, এইরূপেই ভূপৃষ্টে মাথা কুটিয়া ফিরিতে থাকিবে; সুতরাং আপনি এই অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্য (একটুও) বিষন্ন হইবেন না।

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ ۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ

বাংলা অর্থ:

২৭। আর আপনি আহলে কিতাবদিগকে আদমের পুত্রদ্বয়ের (হাবীল ও কাবীলের) ঘটনা সঠিকভাবে পাঠ করিয়া শুনাইয়া দিন। যখন উভয়েই এক একটি কোরবান উপস্থিত করিল এবং সম্মধ্য হইতে একজনের (হাবীলের) তো কবূল হইল এবং অপর জনের কবূল হইল না; সেই অপর জন বলিতে লাগিল, আমি নিশ্চয় তোমাকে হত্যা করিব; সেই (প্রথম) জন বলিল, আল্লাহ তা‘আলা পরহেযগারদের আমলই কবূল করিয়া থাকেন।

لَئِن بَسَطتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَا بِبَاسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لِأَقْتُلَكَ ۖ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ

বাংলা অর্থ:

২৮। তুমি যদি আমাকে হত্যা করার জন্য আমার প্রতি হস্ত প্রসারিত কর, তথাপি আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য তোমার দিকে কখনও আমার হাত বাড়াইব না, আমি তো বিশ্বপালক আল্লাহকে ভয় করি।

إِنِّي أُرِيدُ أَن تَبُوءَ بِإِثْمِي وَإِثْمِكَ فَتَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ ۚ وَذَ‌ٰلِكَ جَزَاءُ الظَّالِمِينَ

বাংলা অর্থ:

২৯। আমার ইচ্ছা এই যে, (আমার দ্বারা কোন পাপ না হউক) তুমি আমার পাপ এবং তোমার পাপ সমস্তই নিজের মাথাই উঠাইয়া লও, অনন্তর তুমি দোযখীদের অন্তভূক্ত হইয়া যাও, আর এই রূপ শাস্তি হইয়া থাকে অত্যাচারীদের।

فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ

বাংলা অর্থ:

৩০। অতঃপর তাহার প্রবৃত্তি তাহাকে স্বীয় ভ্রতৃ-হত্যার প্রতি উদ্বুদ্ধ করিয়া তুলিল, অতএব সে তাহাকে হত্যা করিয়া ফেলিল, ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তভূক্ত হইয়া পড়িল।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) হযরত আদমের প্রতি আদেশ হইল, হাবিলের সহিত কাবিলের ভগ্নীর বিয়া দিন এবং হাবিলের ভগ্নিকে কাবিলের সহিত। কাবিলের ভগ্নী আকলিমা ছিল সুন্দরী। আর হাবিলের ভগ্নী লাবুদা ছিল কুশ্রী। অতএব কাবিল লাবুদাকে বিবাহ করিতে স্বীকৃত হইল না। হযরত আদম তাহাদিগকে বলিলেন, তোমরা উভয়েই আল্লাহর নামে কুরবনী কর। যাহার কুরবানী কবুল হইবে, সেই আকলিমাকে পাইবে। হাবিল একটি হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা কোরবানী করিয়া পাহাড়ের উপর রাখিয়া দিল।আর কাবিল গমের শিষের একটি আটি তথায় রাখিয়া দিল। আসমান হইতে সাদা আগুন আসিয়া হাবিলের দুম্বা জ¦ালাইয়া ফেলিল এবং কাবিলের গমের শিষ অমনি পড়িয়া রহিল। ইহাতে সে রাগাম্বিত হইয়া হাবিলকে হত্যা করিয়া ফেলিল। (মুঃ কোঃ)

فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْءَةَ أَخِيهِ ۚ قَالَ يَا وَيْلَتَا أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَـٰذَا الْغُرَابِ فَأُوَارِيَ سَوْءَةَ أَخِي ۖ فَأَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِينَ

বাংলা অর্থ:

৩১। অতঃপর আল্লাহ একটি কাক প্রেরণ করিলেন, সে মাটি খুড়িতে লাগিল, যেন সে তাহাকে (কাবীলকে) শিখাইয়া দেয় যে, স্বীয় ভ্রাতার লাশ কিভাবে ঢাকিবে; সে বলিতে লাগিল আফসোস আমার অবস্থার প্রতি। আমি কি এই কাকের সমতুল্য হইতে এবং স্বীয় ভ্রাতার লাশ ঢাকিয়া ফেলিতে অক্ষম হইয়া গেলাম, ফলে সে অত্যন্ত লজ্জিত হইল,

مِنْ أَجْلِ ذَ‌ٰلِكَ كَتَبْنَا عَلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا ۚ وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم بَعْدَ ذَ‌ٰلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ

বাংলা অর্থ:

৩২। এই জন্যই আমি বনী ইসরাঈলদের প্রতি এই নিদের্শ দিয়াছি যে, যে ব্যাক্তি কোন ব্যাক্তিকে হত্যা কওে অন্য প্রাণের বিনিময় ব্যতীত, কিংবা তাহা কর্তৃক ভূপৃষ্ঠে কোন ফ্যাসাদ তবে যেন সে সমস্ত মানুষকে হত্যা করিয়া ফেলিল; আর যে ব্যাক্তি কোন ব্যাক্তিকে রক্ষা করে, তবে যেন সে সমস্ত মানুষকে রক্ষা করিল; আর বনী ইসরাঈলদের প্রতি (এই বিধান প্রবর্তনের পর) আমার বহু নবী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ লইয়া আগমন করিয়াছিলেন, তবু ইহার পরেও তম্মধ্য হইতে অনেকেই ভূপৃষ্ঠে সীমালঙ্ঘনকারী রহিয়া গিয়াছে।

إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ ذَ‌ٰلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৩৩। যাহারা আল্লাহ তা‘আলার সহিত ও তাহার রাসূলের সহিত সংগ্রম করে, আর(এই সংগ্রামের অর্থ এই যে ) ভূপৃষ্ঠে অশান্তি সৃষ্টি করিয়া বেড়ায়, তাহাদের শাস্তি ইহাই যে, তাহাদিগকে হত্যা করা হইবে অথবা শূলে চড়ান হইবে অথবা তাহাদের এক দিকে হাত ও অপর দিকে পা কাটিয়ে ফেলা হইবে অথবা ভূপৃষ্ঠের উপর (স্বাধীনভাবে বিচরণ করা) হইতে বহির করিয়া (কারাগারে পাঠাইয়া) দেওয়া হইবে; ইহাতো ইহলোকে তাহাদের জন্য ভীষন অপমান, আর পরকালেও তাদের ভীষন শাস্তি হইবে।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) একটি কাক গর্ত খনন করিল ও অপর একটি মৃত কাককে গর্তের মধ্যে রাখিয়া উপরে মাটি চাপাইয়া দিল। (মুঃ কোঃ)
২) হত্যাকান্ডের পর পিতা-মাতার বদ দো‘আয় কাবিলের সর্ব শরীর কালো হইয়া গিয়াছিল,এবং অনুশোচনায় অপ্রকৃতিস্থ হইয়া এক বৎসর কাল পর্যন্ত লাশ লইয়া ঘুড়াইয়া বেড়াইল এবং উপর হইতে আওয়াজ আসিত ভয় করিতে থাক। ইহাতে সে সকলেই ভয় করিত; পাছে তাকে কেহ হত্যা করিয়া না ফেলে। অবশেষে অন্ধ পুত্রের হাতে নিহত হইল। (মুঃ কোঃ)
৩) মাসআলাঃ কেহ কাহাকে হত্যা করার জন্য আক্রমন করিলে আক্রান্ত ব্যাক্তি যদি বুঝিতে পারে যে, আক্রমণকারীকে হত্যা করা বর্তীত তাহার আত্মরক্ষার অন্য কোন উপাায় নাই, তাহা হইলে আক্রান্ত ব্যাক্তির পক্ষে আক্রমণকারীকে হত্যা করা জায়েয। (বঃ কোঃ)

إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِن قَبْلِ أَن تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ۖ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৩৪। কিন্তু হাঁ যাহারা তাওবা করিয়া লয়–তোমরা তাহাদিগকে গ্রেফতার করার পূর্বে, তবে জানিয়া রাখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করিবেন, অনুগ্রহ করিবেন।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

বাংলা অর্থ:

৩৫। হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং (আনুগত্য দ্বারা) তাহার সান্নিধ্য অন্বেষণ কর এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করতে থাক, আশা যে, তোমরা (পূর্ণ) সফলকাম হইবে।

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لِيَفْتَدُوا بِهِ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَا تُقُبِّلَ مِنْهُمْ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৩৬। নিশ্চয় যাহারা কাফের, যদি তাহাদের নিকট বিশ্বের সমস্ত দ্রব্যও থাকে এবং উহার সহিত তৎপরিমণ আরও হয়, যেন তাহারা উহা প্রদান করিয়া কিয়ামত দিবসের শাস্তি হইতে মুক্ত হইয়া যায়, তবুও এই দ্রব্য সমূহ কখনও তাহাদিগ হইতে কবুল করা হইবে না, এবং তাহাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হইবে।

يُرِيدُونَ أَن يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنْهَا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৩৭) তাহারা ইহা কামনা করিবে যে, দোযখ হইতে বাহির হইয়া যায় অথচ তাহারা কখনও বাহির হইতে পারিবে না, বস্ততঃ তাহাদের শাস্তি চিরস্থায়ী হইবে।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) হিজরী ষষ্ঠ বর্ষে ওরাইনার কতিপয় লোক ইসলাম গ্রহন পূর্বক মদিনায় বাস করিতেছিল। কিন্তু মদিনার আবহাওয়া সহ্য না হওয়ায় তাহার রোগাক্রান্ত হইয়া পড়িল। হুযুরের পনেরটি উট শহরের বাহিরে এক ব্যথানে গোলাম ইয়াসার (রাঃ) এর রক্ষণাধীন ছিল। ইহাদিগকে তথায় পাঠাইয়া দেওয়া হইল, যেন উটের দুগ্ধ ও মূত্র খাইয়া রোগ মুক্ত হয়। ইহারা কিছু দিনে রোগ মুক্ত হইয়া উট গুলি লইয়া পালায়ন করিতে লাগিল। ইয়াসার (রাঃ) পশ্চাদ্ধবন করিলে তাহারা তাকে ধরিয়া হাত পা কাটিয়া এবং চক্ষু ও জিহ্বয় কাটা বিধাইয়া শহীদ করিল। সংবাদ পাইয়া হুযুর (দঃ) ইবনে জাবেরর নেতৃত্বে বিশজন অশ্বরোহী পাঠাইলেন। তাহারা উহাদিগকে ধরিয়া হুযুরের দরবারে হাযির কারিলেন, এই ডাকাতদের শাস্তি বিধানের জন্যই এই আয়াত গুলি নাযিল হয়। (মুঃ কোঃ)
২) ওসিলা শব্দের অর্থ পীর নহে বরং ইবাদত করা এবং আল্লাহর আদেশ নিষেধাবলী মান্য করা। (মুঃ কোঃ)

وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৩৮। আর যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে, তবে তাহাদের উভয়ের (ডান) হাত কাটিয়া ফেল, তাহাদের কৃতকর্মের বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ হতে শাস্তিস্বরূপ; আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, মহা প্রজ্ঞাময়।

فَمَن تَابَ مِن بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৩৯। অনন্তর যে ব্যাক্তি এই সীমালঙ্ঘন (অর্থাৎ চুরি) করার পর তাওবা করিয়া লয় এবং আমলকে সংশোধন করিয়া লয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি (অনুগ্রহের) দৃষ্টি করিবেন; নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ وَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা অর্থ:

৪০। তুমি কি জান না যে, আল্লাহরই জন্য রহিয়াছে অধিপত্য আসমান সমূহের এবং যমীনের; তিনি যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করিয়া দেন; আর আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِن قُلُوبُهُمْ ۛ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا ۛ سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ ۖ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِن بَعْدِ مَوَاضِعِهِ ۖ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَـٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا ۚ وَمَن يُرِدِ اللَّهُ فِتْنَتَهُ فَلَن تَمْلِكَ لَهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ۚ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৪১। হে রাসূল! যাহারা দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া কুফুরিতে পতিত হয় (তাহাদের এই কর্ম) যেন আপনাকে চিন্তিত না করে, চাই ইহার সেই সমস্ত লোকের মধ্যে হইতে হউক যাহারা নিজের মুখেতো (মিছামিছি) বলেঃ আমরা ঈমাণ আনিয়াছি, অথচ তাহাদের অন্তর বিশ্বাস করে নাই, অথবা ইহারা সেই সমস্ত লোকের মধ্যে হইতেই হউক যাহারা ইহুদী, ইহারা অসত্য কথা শুনিতে অভ্যস্ত, ইহারা আপনার কথাগুলি অন্য সম্প্রদায়ের জন্য কান পাতিয়া শ্রবণ করে, যে সম্প্রদায়ের অবস্থা এইরূপ যে, তাহারা আপনার নিকট আসে নাই; (বরং অন্যকে পাঠাইয়াছে)

তাহারা কালামকে উহার স্বস্থানে হইতে পরিবর্তন করিয়া থাকে, বলে, যদি তোমরা (তথায় যাইয়া) এই (বিকৃত) বিধান পাও, তবে তো তাহা কবুল করিবে, আর যদি তোমরা এই (বিকৃত) বিধান না পাও, তবে বাঁচিয়া থাকিবে; আর যাহার অমঙ্গল (গোমরাহী) আল্লাহরই মঞ্চুর হয়, বস্তুতঃ তাহার জন্য আল্লাহর সহিত তোমার কোন জোর চলিতে পারে না; ইহারা এই রূপ যে, ইহাদের অন্তরগুলি পবিত্র করা আল্লাহর অভিপ্রেত নহে; ইহাদের জন্য ইহলোকে রহিয়াছে অপমান এবং পরলোকে (ও) ইহাদের জন্য রাহিয়াছে ভীষন শাস্তি।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) খায়বারের কোন ইহুদী পরিবারের দুইজন বিবাহিত পুরুষ ও নারী যেনা করিল। তাওরাতে ইহার শাস্তি সঙ্গেসার। তাহারা মদিনায় আসিয়া হুযুরের নিকট জিজ্ঞাস করিল,আপনার নিকট ইহার বিধান কি? তিনি বলিলেন সঙ্গেসার। তাহারা বলিল তাওরাতের বিধান তো এইরূপ নহে; বরং ৪০ বেত এবং মুখে কালি মাখাইয়া গাধার পিঠে চড়াইয়া শহরে ঘুড়ানো। জিব্রাঈল (আঃ) আসিয়া হুযুরকে বলিলেন, ইহারা মিথ্যা বলিতেছে। আপনি ইহুদী আলেম ইবনে সুরিয়াকে জিজ্ঞাস করুন। জিজ্ঞাস করিলে ইবনে সুরিয়া বলিল, তাওরাতেও সঙ্গেসারেরই বিধান। অতঃপর হুযুর রায় দিলেন, উভয়কে মসজিদের দরজার পার্শ্বে পাথর মারিয়া হত্যা করা হউক। এই সম্বন্ধে আয়াত গুলি নাযিল হয়। (মুঃ কোঃ)

سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ ۚ فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ۖ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئًا ۖ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ

বাংলা অর্থ:

৪২। তাহারা অসত্য কথা শ্রবণ করিতে অভ্যস্ত, হারাম বস্তু ভক্ষণ করিতে অভ্যস্ত; অতএব ইহারা যদি আপনার নিকট আসে, তবে চাই আপনি তাহাদের মাঝে মীমাংসা করিয়া দেন কিংবা তাহাদিগ হইতে বিরত থাকেন, আর যদি আপনি তাহাদিগ হইতে বিরত থাকেন, তবে ইহাদের সাধ্য নাই যে, আপনার বিন্দু মাত্রও ক্ষতি করে; আর যদি আপনি মীমাংসা করেন, তবে তাহদের মধ্যে ন্যায়তঃ মীমাংসা করিবেন; নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ন্যায় বিচারকদিগকে ভালোবাসেন।

وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِن بَعْدِ ذَ‌ٰلِكَ ۚ وَمَا أُولَـٰئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

৪৩। আর তাহারা আপনার দ্বারা কিরূপে মীমাংসা করাইতেছে? অথচ তাহাদের নিকট তাওরাত রহিয়াছে, যাহাতে আল্লাহর বিধান বিদ্যমান, অতঃপর তাহারা ইহার পর (আপনার মীমাংসা হইতে) ফিরিয়া যায়; আর ইহারা কখনও আস্থাবান নহে।

إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ ۚ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِن كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ ۚ فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ

বাংলা অর্থ:

৪৪। আমি তওরাত নাযিল করিলাম যাহাতে (সুষ্ঠ আকায়েদের) হেদায়েত ছিল এবং (আনুষ্ঠানিক বিধানাবলীর) আলো ছিল, নবীগণ যাহারা আল্লাহর অনুগত ছিলেন তাহারা তদনুযায়ী ইহুদীদের আদেশ করিতেন আর আল্লাহ ওয়ালাগণ এবং আলেমগণও এই নিমিত্ত যে, তাহাদিগকে এই কিতাবুল্লহ সংরক্ষণের আদেশ দেওয়া হইয়াছিল এবং তাহারা উহা স্বীকার করিয়াছিলেন, সুতরাং (হে ইহুদী আলেমগণ) তোমরাও মানুষকে ভয় করিও না; আর আমাকে ভয় কর, আর আমার বিধান সমূহের বিনিময়ে (পার্থিব) সামান্য বস্তু গ্রহণ করিও না; যে ব্যাক্তি আল্লাহর তা‘আলার অবতারিত (বিধান) অনুযায়ী হুকুম না করে, (এবং ইচ্ছাকৃত মনগড়া বিষয়বস্তুকে ধর্মীও বিধান বলিয়া আদেশ করে) তবে এমন লোক তো পূর্ণ কাফের।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) ইহুদীদের মধ্যে কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়া ছিল,যেনার,হত্যার এবং অন্য ধরনের। ইহুদী সরদারগণ মীমাংসা নেওয়ার জন্য নিজেরা না আসিয়া হুযুরের সমিপে নিম্নস্থ লোকদিগকে প্রেরণ করিল এবং বলিয়া দিল, আমাদের রচিত বিধান অনুযায়ী মীমাংসা দিলে মানিও অন্যথায় মানিও না। অর্থাৎ তাহারা তাওরাতের বিপরীত বিধান করিয়া রাখিয়াছিল। এইখানে পাঠাইবার উদ্দেশ্য হুযুরের নিকট অনুরূপ রায় পাইলে তাহা আল্লাহর দরবারে সনদ হইবে। তাহারা মনে করিত তাওরাত সম্বন্ধে হুযুর অজ্ঞ, তাহাদের প্রচলিত রায় শুনিয়া সেই রূপ রায়ই দিবেন, কিন্তু আল্লাহ তাহাকে পূর্বাহ্নে সংবাদ দিয়াছেন। হুযুর সেইরূপ রায় দিলেন এবং তাহা তাওরাতের অনুরূপ হইয়াছিল। হত্যার একটি ঘটনা হুযুরের দরবারে উপস্থিত হইলে কোরআনের হুকুম দেন। তাওরাতেরই বিধানও ইহাই। (মুঃ কোঃ)

وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنفَ بِالْأَنفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۚ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

বাংলা অর্থ:

৪৫। আর আমি তাহাদের প্রতি উহাতে (অর্থাৎ তাওরাতে) ইহা ফরয় করিয়া ছিলাম যে প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ এবং চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু এবং নাকের বিনিময়ে নাক এবং কানের বিনিময়ে কান এবং দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং (তদ্রূপ অন্যান্য) বিশেষ যখমের বিনিময়ে রহিয়াছে; অনন্তর যে ব্যাক্তি উহাকে ক্ষমা করিয়া দেয়, তবে ইহা তার জন্য (গুনাহর) কাফফারা হইয়া যাইবে; আল্লাহ তা‘আলার অবতারিত বিধান অনুযায়ী হুকুম না করে, তবে তো এমন লোক পূর্ণ যালেম।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) কয়েকটি যরুরী মাসআলাঃ অন্যায় ভাবে হত্যা করার শাস্তি হত্যা। ন্যায়ের জন্য করা জায়েয, ভুল বশতঃ বা অনিচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি কেছাছ নহে; বরং দিয়াত অর্থাৎ খুনের জরিমানা। নিজের পুত্র কন্যা গোলাম ব্যতীত ইতর ভদ্র নির্বিশেষে যাহাকেই হত্যা করুক না কেন, খুনের শাস্তি কেছাছ হইবে। পুত্র কন্যা ও গোলামের ব্যবস্থা অন্যরূপ। অঙ্গ প্রতঙ্গ কর্তন ও যখম করার ক্ষেত্রে নিজের সন্তান ও গোলামের বেলাই কেছাছ নাই। যে সমস্ত যখমও অঙ্গচ্ছেদের বদলা গ্রহন সম্ভব নহে, তাহাতে ন্যায় বিচারকের বিবেচনা অনুযায়ী মীমাংসা হইবে। হত্যার বিনিময় সম্বন্ধে স্বয়ং আহত ব্যাক্তির ক্ষমা করার অধিকার আছে। (বঃ কোঃ)

وَقَفَّيْنَا عَلَىٰ آثَارِهِم بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ

বাংলা অর্থ:

৪৬। আর আমি তাহাদের পর ঈসা ইবনে মারইয়ামকে এই অবস্থায় প্রেরণ করিয়াছিলাম যে, তিনি তাহার পূর্ববর্তী কিতাবের অর্থাৎ তাওরাতের সত্যতা সমর্থন করিয়াছিলেন, এবং আমি তাহাতে ইঞ্জীল প্রদান করিয়াছি, যাহাতে হেদায়েত ছিল এবং আলোছিল এবং ইহা স্বীয় পূর্ববর্তী কিতাব অর্থাৎ তওরাতের সত্যতা সমর্থন করিত, এবং ইহা সম্পূর্ণরূপে মুত্তাক্কীদের জন্য হেদায়েত ও নছীয়ত ছিল।

وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنجِيلِ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فِيهِ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৪৭। আর আহলে ইঞ্জিলের উচিত যে যাহাকিছু আল্লাহ উহাতে নায়িল করিয়াছেন, তদনুযায়ী হুকুম প্রদান করে; আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর অবতারিত (বিধান) অনুযায়ী হুকুম প্রদান না করে, তবে তো এইরূপ লোকই পূর্ণ নাফরমান।

وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ ۖ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ ۚ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَـٰكِن لِّيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ

বাংলা অর্থ:

৪৮। আর আমি এই কিতাব কোরআন) কে আপনার প্রতি নাযিল করিয়াছি, যাহা নিজেও সত্যতা গুণে বিভূষিত,(এবং) ইহার পূর্ববর্তী কিতাব সমূহেরও সত্যতা প্রমাণকারী এবং ঐ সমস্ত কিতাবের সংরক্ষকও,অতএব আপনি তাহাদের পারস্পারিক বিষয়ে আল্লাহর অবতারিত এই কিতাব অনুযায়ী মীমাংসা করিবেন, আর এই সত্য কিতাব যাহা আপনি প্রাপ্ত হইয়াছেন,ইহা হইতে বিরত থাকিয়া তাহাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী কাজ করিবেন না; তোমাদের প্রত্যেক (সম্প্রদায়) এর জন্য আমি নিদিষ্ট শরীঅত এবং নিদিষ্ট পন্থা নির্ধারণ করিয়াছিলাম; আর যদি আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করিতেন, তবে তোমাদের সকলকে একই উম্মত করিয়া দিতেন, কিন্তু তদ্রুপ করেন নাই, এই নিমিত্ত যে, যে ধর্ম তোমাদিগকে প্রদান করিয়াছেন উহাতে তোমাদের সকলকে পরিক্ষা করিয়া লন, সুতরাং তোমরাহিত কর বিষয়সমূহের দিকে ধাবিত হও; তোমাদের সকলকে খোদারই সমীপে প্রত্যাবর্তন করিতে হইবে, তখন তিনি তোমাদিগকে জানাইয়া দিবেন যাহাতে তোমরা মতবিরোধ করিতেছিলে।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, মুহাইমেন শব্দের অর্থ এই কোরআন উহার সমস্ত আসমানী কিতাবের জন্য আমানতদার। অর্থাৎ পূর্ববর্তী কিতাব সমূহে যে সমস্ত এলম, হেদায়েত, আহকাম রহিয়াছে আমানতদারীর সহিত তৎসমুদয় কোরআনে বিদ্যামান। সুতরাং আধুনিক তাওরাতে ও ইঞ্জিলে কোরআনের বিপরীত যাহাকিছু দেখা যায়, সব কিছুই মিথ্যা এবং মানুষ রচিত। (ইবনে জরীহ)
২) ইহুদী ও নাছারাদের কোন মোক্কদমা হযূরের নিকট মীমাংসার জন্য আসিলে প্রথমে তাহার ইচ্ছাধীন ছিল, হয়ত নিজেই মীমাংসা করিয়া দিতেন কিংবা তাহাদের বিচারকের নিকট বিচারার্থে পাঠাইয়া দিতেন। এই আয়াতে সেই স্বাধীনতা রহিত করিয়া সেই নির্দেশ দেওয়া হইতেছে যে, তাহাদের বিচারকের নিকট পাঠাইবেন না, নিজের শরীয়ত অনুযায়ী নিজেই মীমাংসা করিয়া দিবেন। (জামে)

وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৪৯। আর আমি আদেশ দিতেছি যে, আপনি ইহাদের পারস্পারিক ব্যাপারে এই প্রেরিত কিতাব আনুযায়ী মীমাংসা করিবেন এবং তাহাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী কাজ করিবেন না এবং তাহাদিগ হইতে অর্থাৎ এ বিষয়ে সর্তক থাকিবেন যেন তাহারা আপনাকে আল্লাহর প্রেরিত কোন নিদের্শ হইতে বিভ্রান্ত করিতে না পারে। অনন্তর যদি ইহারা পরাক্সমুখ হয়, তবে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহর অভিপ্রায় ইহাই যে, ইহাদিগকে ইহুদিদের কোন কোন পাপের দরুন শাস্তি প্রদান করেন। আর অনেক লোক তো নাফরমানই হইয়া থাকে।

أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ

বাংলা অর্থ:

৫০। তবে কি তাহারা অজ্ঞতা যুগের মীমাংসা কামনা করে? আর মীমাংসা কার্যে আল্লাহর চেয়ে কে উত্তম হইবে দৃঢ় বিশ্বাসীদের নিকট?

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

বাংলা অর্থ:

৫১) হে ঈমানদার গণ! তোমরা ইহুদী ও নাছারাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহন করিও না। তাহারা পরস্পর বন্ধু । আর যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে হইতে তোমাদের সহিত বন্ধু করিবে, নিশ্চয় সে তাহাদের মধ্যে গণ্য হইবে। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সেই সমস্ত লোককে সুবুদ্ধি দান করেন না, যাহারা নিজেদেরকে অনিষ্ট করিতেছে।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) কতিপয় ইহুদী আলেম হুযুরের খেদমতে আসিয়া বলিল, “আমরা ক্বওমের দরদার ও জ্ঞানী, আমরা যাহার অনুগত হইব ক্বওমের সকলেই তাহার অনুগত হইবে। ক্বওমের সহিত আমাদের কয়েকটি মোকদ্দমা আছে। আপনি উহাতে আমাদের পক্ষে রায় দিলে আমরা আপনার নবুওয়াত মানিয়া নইব। তখন এই নিষেধ বাণী অবর্তীণ হয়। (মুঃ কোঃ)
২) শানে নুযুলঃ ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের বাহ্যিক পরাজয় ঘটিলে মোনাফেকেরা ভাবিল ইহুদীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা দরকার। প্রয়োজন ক্ষেত্রে আশ্রয় মিলিবে। অতঃপর ইহুদীরা যখন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করিল, ইবনে উবাই তৎক্ষনাৎ তাহাদের পক্ষ অবলম্বন করিল, এবং বলিল, আমি ভয় করি, অভাব অনটনের সময় ইহাদের ছাড়া গতি নাই। মূলকথা এই যে, মুসলমানদের পরাজয় ঘটিলে তাহাদের আশ্রয় লইবে, এ সম্পর্কে আয়াতগুলি নাযিল হয়। (বঃ কোঃ)

فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَىٰ أَن تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ ۚ فَعَسَى اللَّهُ أَن يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِّنْ عِندِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا أَسَرُّوا فِي أَنفُسِهِمْ نَادِمِينَ

বাংলা অর্থ:

৫২। এই কারনেই তোমরা এইরূপ লোকদিগকে–যাহাদের অন্তরে পীড়া রহিয়াছে– দেখিতেছ যে, তাহারা দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া উহাদের (কাফেরদের) মধ্যে প্রবেশ করিতেছে (এবং) বলে, আমাদের আশঙ্কা হইতেছে যে, আমাদের উপর কোন বিপদ আসিয়া পরে। অতএব, আশা যে, অচিরেই আল্লাহ তা’আলা (মুসলমানদের) পূণ বিজয় প্রকাশ করিবেন অথবা অন্য কোন বিষয় বিশেষভাবে নিজ পক্ষ হইতে (প্রকাশ করিবেন), অনন্তর উহারা নিজেদের অন্তরে লুক্কায়িত মনোভাবের কারণে লজ্জিত হইবে।

وَيَقُولُ الَّذِينَ آمَنُوا أَهَـٰؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ ۙ إِنَّهُمْ لَمَعَكُمْ ۚ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَأَصْبَحُوا خَاسِرِينَ

বাংলা অর্থ:

৫৩। আর মুসলমানগণ বলিবে, আরে! ইহারা নাকি তাহারা? যাহারা অতি দৃঢ় সহকারে আল্লাহর নামে শপথ করিত যে, আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি। ইহাদের সমস্ত কর্ম (কৌশল)-ই ব্যর্থ হইয়া গেল, ফলে অকৃতকার্য রহিল।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ۚ ذَ‌ٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৫৪। হে ঈমানদার গণ! তোমাদের মধ্যে হইতে যে ব্যক্তি স্বীয় ধর্ম হইতে ফিরিয়া যায়, তবে (ইসলামের কোন ক্ষতি নাই। কেননা) আল্লাহ তা’আলা সত্বরই (তাহাদের স্থলে) এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করিবেন যাহাদিগকে আল্লাহ ভালোবাসিবেন এবং তাহারাও আল্লাহকে ভালোবাসিবে, তাহারা মুসলমানের প্রতি মেহেরবান থাকিবে, কাফেদের প্রতি কঠোর হইবে, তাহারা জেহাদ করিবে আল্লাহর পথে, আর তাহারা কোন নিন্দুকের নিন্দায় পরোয়া করিবে না। ইহা আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা প্রদান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তা’আলা সুপ্রশান্ত, মহাজ্ঞানী।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) অর্থাৎ মুনাফেকদের অন্তরে মুনাফেকীয় রোগ বিদ্যামান। কাফেরদের সঙ্গে মেলামেশা করিতে কেহ তাহাদিগকে জিজ্ঞাস করিলে বলে, আমরা আসলে তোমাদের সঙ্গেই আছি, তবে একটু অসুবিধা এই যে, ইহুদীরা আমাদের মহাজন, দুর্ভিক্ষ বা অনটনের সময় ইহাদের নিকট হইতে ধার কর্জ গ্রহন করি।কাজেই তাহাদের সহিত বাহ্যিক সম্পর্ক না রাখিয়া পারি না। অন্যথায় কারচত্রেু আমরা বিপন্ন হইলে তাহাদের সহানুভূতি পাইব না। বাহিরে এ কথা বলিলে ও তাহাদের মনের কথা এই যে, মুসলমানদের পরাজয় ঘটিলে আমরা ইহুদীদের আশ্যয় পাইব। কাজেই তাহাদের সহিত বন্ধুত্ব থাকা আবশ্যক। (বঃ কোঃ)
২) বস্তুতঃ হুযুরের এন্তেকালের পর কিছু সংখ্যক মুসলমান মুরতাদ হইয়াছিল। কিন্তু আল্লাহর স্বীয় ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হযরত আবুবকর ও তৎকালীন খাটি মুসলমানদের দ্বারা তাহাদিগকে চিহ্নিত করিয়া দিয়েছিলেন। (বঃ কোঃ)

إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৫। তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ ও তাহার রাসূল এবং মুু’মিনগণ– যাহারা নামাযের পাবন্দী করে এবং যাকাত আদায় করে, এ অবস্থায় যে,তাহাদের মধ্যে বিনয় থাকে।

وَمَن يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৬। আর যে ব্যক্তি বন্ধুত্ব রাখিবে আল্লাহর সহিত, এবং তাহার রাসূলের সহিত, এবং ঈমানদারগণের সহিত, তবে (তাহারা আল্লাহর দলভূক্ত হইল এবং) নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয়ী।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَكُمْ هُزُوًا وَلَعِبًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أَوْلِيَاءَ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

৫৭। হে ঈমানদার গণ! যাহারা তোমাদের পূর্বে কিতাব প্রাপ্ত হইয়াছে, যাহাদের অবস্থা এইরূপ যে, তাহার তোমাদের ধর্মে হাসি ও তামাশার বস্তু করিয়া রাখিয়াছে–তাহাদিগকে এবং অন্যান্য কাফেরদিগকে বন্ধুরূপে গ্রহন করিও না, এবং আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হইয়া থাক।

وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ اتَّخَذُوهَا هُزُوًا وَلَعِبًا ۚ ذَ‌ٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْقِلُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৮। আর যখন তোমরা নামাযের জন্য (আযান দ্বারা) আহ্বান কর, তখন তাহারা উহার (ঐ এবাদতের) সহিত হাসি ও তামাশা করে। ইহার কারণ এই যে, উহারা এইরূপ লোক যে, মোটেই জ্ঞান রাখে না।

قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ هَلْ تَنقِمُونَ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلُ وَأَنَّ أَكْثَرَكُمْ فَاسِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৫৯। আপনি বলিয়া দিন, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের মধ্যে কোন কাজটি দূষণীয় পাইতেছ, ইহা ব্যতীত যে, আমরা ঈমান আনিয়াছি আল্লাহর প্রতি এবং ঐ কিতাবের প্রতি যাহা আমাদের নিকট প্রেরিত হইয়াছে এবং ঐ কিতাবের প্রতি যাহা অতীতে প্রেরিত হইয়াছে, অথচ তোমাদের অধিকাংশ লোক (উল্লেখিত কিতাবসমূহের প্রতি) ঈমান (এর গন্ডি) হইতে বহির্ভূত।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

দুটি ঘটনা সম্পর্কে এই আয়াতটি নাযিল হইয়াছেঃ (১) আযান ইহলে মুসলমান নামায আরম্ভ করিত। তখন ইহুদীরা বলিত ইহারা দাঁড়াইয়াছে। খোদা করুন, আর যেন না দাঁড়াইতে পাওে,রুক’ সিজদা করিতে দেখলে বিদ্রুপ করিত। (২)মদীনায় জৈনক খৃষ্টান আযানে আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু অআশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ শুনিয়া বলিত মিথ্যাবাদী পুড়িয়া মরুক । এক রাত্রে উক্ত খৃষ্টানের ঘরে আগুন লাগিয়া সপরিবারে দগ্ধিভূত হইয়া গেল ।এতদ্ভিন্ন রেফআ ইবনে যায়েদ নামক এক মুশরীক এবং তাহার সঙ্গী সুওয়াইদ কপট ভাবে নিজদিগকে মুসলমান বলিয়া প্রকাশ করিল। কোন কোন মুসলমান ইহাদের সহিত মেলামেশাও করিত। এইসব ঘটনা উপলক্ষ্যে এই আয়াত গুলি নাযিল হয়। (বঃ কোঃ)

قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَ‌ٰلِكَ مَثُوبَةً عِندَ اللَّهِ ۚ مَن لَّعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ ۚ أُولَـٰئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضَلُّ عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ

বাংলা অর্থ:

৬০। আপনি বলিয়া দিন আমি কি তোমাদিগকে এইরূপ পন্থা বলিয়া দিব যাহা প্রতিদান প্রাপ্ত হিসাবে উহা হইতে ও (যাহাকে তোমরা মন্দ বলিয়া জান) আল্লাহর নিকট অনেক নিকৃষ্ট। ইহা ঐ সমস্ত লোকদিগের পন্থা, যাহাদিগকে আল্লাহ অভিসম্পাৎ করিয়াছেন এবং যাহাদের প্রতি গযব নাযিল করিয়াছেন এবং যাহাদিগকে বানর ও শুকর বানাইয়া দিয়াছেন এবং যাহারা শয়তানের পূজা করিয়াছে। এইরূপ লোক (যাহাদের কথা বর্ণিত হইল পরকালে) বাসস্থান হিসাবে ও (যাহা তাহারা প্রতিদান হিসাবে পাইবে) খুবই মন্দ এবং (ইহকালেও) সরল পথ হইতে বহুদূরে।

وَإِذَا جَاءُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَقَد دَّخَلُوا بِالْكُفْرِ وَهُمْ قَدْ خَرَجُوا بِهِ ۚ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا يَكْتُمُونَ

বাংলা অর্থ:

৬১। আর যখন ইহারা তোমাদের নিকট আগমন করে, তখন বলে, আমরা ঈমান আনিয়াছি, অথচ তাহারা কুফর লইয়া আসিয়াছিল এবং তাহারা কুফরই লইয়া চলিয়া গিয়াছে। এবং আল্লাহ তো খুব জানেন, যাহা ইহারা গোপন রাখে।

وَتَرَىٰ كَثِيرًا مِّنْهُمْ يُسَارِعُونَ فِي الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

৬২। আর আপনি তাহাদের মধ্যে এমন অনেক লোক দেখিতেছেন, যাহারা দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া পাপ এবং যুলুম এবং হারাম ভক্ষণে নিপতিত হইতেছে। বাস্তবিকই তাহাদের এই কার্য মন্দ।

لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ

বাংলা অর্থ:

৬৩। তাহাদিগকে আল্লাহওয়ালাগণ এবং আলেমগণ পাপের কথা হইতে এবং হারাম মাল ভক্ষন করা হইতে কেন নিষেধ করিতেছে না? বাস্তবিকই তাহাদের এই অভ্যাস নিন্দানীয়।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) এইসব অবস্থা অর্থাৎ গায়রুল্লাহর এবাদতের ফলে বিপদে পতিত হওয়া,ইহুদী নাছারাদেরই ছিল। যেমন ইহুদীরা বাছুর পূজা করিয়াছিল। খৃষ্টানগণ তাহাদের ধর্মীয় নেতাদিগকে এবং ঈসা (আঃ) কে আল্লাহ বা আল্লাহর অংশী সাব্যস্ত করিয়াছিল। বনী ইসরাঈলগণ শনিবারে মাছ শিকার করিয়া বানর হইয়া গিয়াছিল। ঈসা (আঃ) এর উম্মত গণ আসমানী খাঞ্চার নাশোকারী করিয়া বানর ও শূকর হইয়াছিল। (বঃ কোঃ)
২) পূর্বের ন্যায় এইখান হইতে সম্মুখের দিকে ইহুদীদের কয়েকটি দুষ্কৃতির বিবরণ আসিতেছে। ঘটনা এই যে, নুবাস ইবনে কায়স এবং কাইনুকা গোত্রের ইহুদী নেতা কানহাস প্রভৃতি কতিপয় ইহুদী আল্লাহর শানে কৃপণতা ও অন্যান্য বেতমীযী উক্তি করিয়াছিল। তদসম্পর্কে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (বঃ কোঃ)

وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ ۚ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا ۘ بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ ۚ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۚ وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۚ كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِّلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ ۚ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا ۚ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ

বাংলা অর্থ:

৬৪। আর ইহুদীরা বলিল, আল্লাহর হাত বন্ধ হইয়াগিয়াছে। তাহাদের হাত বন্ধ, এবং তাহাদের এই উক্তির দরুন তাহারা রহমত হইতে বিদূরিত হইয়াছে। বরং তাহারা (আল্লাহর) তো উভয় হাত উন্মুক্ত, যে রূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন। আর যে, বিষয় আপনার নিকট আপনার প্রতিপালকের পক্ষ হইতে প্রেরিত হয়, উহা তাহাদের মধ্যে অনেকের নাফরমানী ও কুফর বৃদ্ধির কারন হয়। এবং আমি তাহাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা এবং হিংসা নিক্ষেপ করিয়াছি কিয়ামত পর্যন্ত। যখনই (মুসলমানদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধাগ্নি প্রজ্বলিত করিতে চায়, আল্লাহ উহা নির্বাপিত করিয়া দেন, এবং তাহারা ভূপৃষ্ঠে অশান্তি ছড়াইয়া বেড়ায়। আর আল্লাহ অশান্তি বিস্তারকারীকে ভালোবসেন না।

وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ

বাংলা অর্থ:

৬৫। আর এই আহলে কিতাব (ইহুদী নাছার) গণ যদি ঈমন আনিত এবং তাকওয়া অবলম্বন করিত, তবে আমি অব্যশই তাহাদের সমস্ত অন্যায় ক্ষমা করিয়া দিতাম এবং অবশ্যই তাহাদিগকে শান্তির উদ্যান সমূহে দাখিল করিতাম।

وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِم مِّن رَّبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم ۚ مِّنْهُمْ أُمَّةٌ مُّقْتَصِدَةٌ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

৬৬। আর যদি ইহারা তাওরাত ও ইঞ্জিলের এবং যে কিতাব (অর্থাৎ কোরআন) তাহাদের রবের তরফ হইতে তাহাদের প্রতি প্রেরিত হইয়াছে, উহার যথারীতি আমলকারী হইত, তবে তাহারা উপর (অর্থাৎ আসমান) হইতে এবং নিম্ন (অর্থাৎ যমীন) হইতে প্রাচুর্যের সহিত ভক্ষন করিত। ইহাদের একদল তো সরল পথের পথিক। আর ইহাদের অধিকাংশ এইরূপ যে, তাহাদের কার্যকলাপ অতি জঘন্য।

يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۖ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ۚ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ

বাংলা অর্থ:

৬৭। হে রাসুল ! যাহাকিছু আপনার প্রতি পালকের তরফ হইতে আপনার প্রতি নাযিল করা হইয়াছে আপনি (মানুষকে) সবকিছুই পৌছাইয়া দিন। আর যদি এই রূপ না করেন, তবে (যেন) আপনি আল্লাহর একটি পয়গামও পৌছান নাই। আর আল্লাহ তা’আলা আপনাকে মানুষ (অর্থাৎ কাফের) হইত সংরক্ষিত রাখিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ এই কাফেরদিগকে পথ (অর্থাৎ আপনাকে হত্যা করার সুযোগ) দিবে না।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) অর্থাৎ তিনি বখিন নহেন। বরং মহান দাতা ও দয়ালু। তিনি যেমন ইচ্ছা ব্যয় করে থাকেন। সুুতরাং ইহুদীদের মধ্যে যে অভান অনটন দেখা দিয়েছে, তাহা আল্লাহর কৃপণতার কারণে নহে। বরং তাহাদিগকে তাহদের কুফরীর ফল ভোগ করান হইতেছে। (বঃ কোঃ)
২) ফলে তাহাদের মধ্যে দলাদলি ও বিভেদ সৃষ্টি হইয়াছে। একদল অন্যদলের শত্রু। এই শত্রুতা ও ঘৃণার ফলেই মুসলমানদের সহিত যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইলে তাহারা বিজয়ী হইতে পারে না। (বঃ কোঃ)
৩) অর্থাৎ যুদ্ধ হইতে বিরত হইলে ও গোপন অশান্তি বিস্তার করিয়া বেড়ায়। যেমন নতুন মুসলমানদিগকে প্ররোচিত করে। একের নিকট অন্যের কুটনামী করে। সাধারন লোকদিগকে তাওরাতের বিপরীত অর্র্থ শুনায়। এইরূপ মানুষকে ইসলাম ইহতে ফিরিয়া রাখে। (বঃ কোঃ)

قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۖ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

বাংলা অর্থ:

৬৮। আপনি বলিয়া দিন হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা কোন পথেই প্রতিষ্ঠিত নও যে পর্যন্ত না তাওরাত ও ইঞ্জিল এবং যে-কিতাব (অর্থাৎ কোরআন) তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতি পালকের তরফ হইতে পাঠান হইয়াছে উহার ও পূর্ণ পাবন্দী করিবে। আর অবশ্যই যাহারা আপনার প্রতি আপনার রবের তরফ হইতে প্রেরণ করা হয়, উহা তাহাদের মধ্যে অনেকেই নাফরমানী ও কুফর বৃদ্ধির কারণ হইয়া যায়, অতএব আপনি এই কাফেরদের জন্য মনঃক্ষুন্ন হইবেন না।

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَىٰ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

বাংলা অর্থ:

৬৯। ইহা সুনিশ্চিত যে, মুসলমান ও ইহুদী ও সাবেঈন এবং নাছারাদের (মধ্যে) যে ব্যক্তি বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎ কার্য করে এইরূপ লোকদের জন্য (শেষ দিবসে) না কোন প্রকার ভয় থাকিবে আর না তাহারা চিন্তান্বিত হইবে।

لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا ۖ كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ

বাংলা অর্থ:

৭০। আমি বণী ইসরাঈল হইত অঙ্গিকার লইয়াছি এবং তাহার নিকট বহু পয়গম্বর প্রেরণ করিয়াছি। যখনই তাহাদের নিকট কোন নবী আগমন করিতেন এমন কোন বিধান লইয়া যাহা তাহাদের মনঃপুত হইত না, তখন তাহারা কতিপয়কে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করিত এবং কতিপয়কে হত্যা করিয়া ফেলিত।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) হযরত আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আছে, রাত্রিকালে সাহাবায়ে কেরাম হুযুর (দঃ) এর প্রহরায় নিযুক্ত থাকিতেন। এই আয়াতটি নাযিল হওয়া মাত্র হুযুর (দঃ) স্বীয় তাবুর পর্দা উঠাইয়া মস্তক বাহির করিয়া সাহাবীদিগকে বলিলেন তোমরা চলিয়া যাও, আল্লাহ স্বয়ং আমার রক্ষনাবেক্ষণের ভার গ্রহন করিয়াছেন। (মুঃ কোঃ)
২) এই আয়াতটির সারর্মম এই যে,হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা যে পন্থাই রহিয়াছ,আল্লাহর নিকট ইহা কোন পন্থাই নয়। এই পথে থাকিয়া কখনও তোমরা নাজাত পাইবে না। একমাএ ইসলাম গ্রহনের উপরই মুক্তি নির্ভর করে। (বঃ কোঃ)
৩) যেমন হযরত মুহাম্মাদ (দঃ) ও হযরত মূসা এবং ঈসা (আঃ)-কে ইহারা মিথ্যা সাব্যস্ত করিয়াছিল। আর হযরত যাকারিয়া এবং ইয়াহইয়া প্রমুখ বহু বনী ইসরাঈল নবীবে হত্যা করিয়াছিল। (মুঃ কোঃ)

وَحَسِبُوا أَلَّا تَكُونَ فِتْنَةٌ فَعَمُوا وَصَمُّوا ثُمَّ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ثُمَّ عَمُوا وَصَمُّوا كَثِيرٌ مِّنْهُمْ ۚ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

৭১। আর তাহারা এই ধারনা করিয়াছিল যে, কোন শাস্তিই হইবে না, ইহাতে আরও অন্ধও বধির (দের ন্যায়) হইয়া গেল অতঃপর (দীর্ঘকাল পর) আল্লাহ তা’আলা তাহাদের প্রতি (করুণার) দৃষ্টি করিলেন, তবুও তাহারা অন্ধ ও বধির হইয়া রহিল–তাহাদের অনেকে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা’আলা তাহাদের (এই) কার্যকলাপ খুব প্রত্যক্ষ করেন।

لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ۖ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۖ إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ

বাংলা অর্থ:

৭২। নিশ্চয় তাহারা কাফের হইয়াছে, যাহারা বলিছে যে, আল্লাহ তিনি তো মসীহ ইবনে মারইয়াম। অথচ মসীহ নিজেই বলিয়াছেন যে, হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর, যিনি আমার ও প্রতিপালক এবং তোমাদের ও প্রতিপালক। নিশ্চয় যে, ব্যক্তি আল্লাহর অংশী স্থির করিবে, তবে তাহার জন্য আল্লাহ তা’আলা বেহেশতকে হারাম করিয়া দিবেন এবং তাহার বাসস্থান হইবে দোযখ। এবং এইরূপ যালেমদের কোন সাহায্য কারী হইবে না।

لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ ۘ وَمَا مِنْ إِلَـٰهٍ إِلَّا إِلَـٰهٌ وَاحِدٌ ۚ وَإِن لَّمْ يَنتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৭৩। নিঃসন্দেহে উহারা কাফের যাহারা বলে, আল্লাহ তা’আলা তিনের (অর্থাৎ তিন মা’বূদের) এক। অথচ এক মা’বূদ ভিন্ন অন্য কোনই (হক্ক) মা’বূদ নাই। আর যদি ইহারা স্বীয় উক্তি সমূহ হইতে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাহাদের মধ্যে যাহারা কাফের থাকিবে তাহাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পতিত হইবে।

أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৭৪। ইতঃপরও কি আল্লাহ তা’আলা সমীপে তাওবা করেনা এবং তাহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেনা? অথচ আল্লাহ তা’আলা অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) অর্থাৎ বণী ইসরাঈলদের নিকট হইতে আল্লাহ তা’আলা ওয়াদা লইয়াছিলেন যে, আল্লাহর প্রেরিত সমস্ত নবীর প্রতি ঈমান আনিবে ও তাহাদের অনুগত্য করিবে। কিন্তু তাহারা মানিল না, ফলে আল্লাহ বখত নাছার নামক এক জালেম বাদশাহকে তাহাদের উপর চড়াও করিয়া দিলেন। ইহার হাতে তাহারা নান প্রকার অপমান ও লঞ্ছনা ভোগ করিতে লাগিল। আবার আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করিয়া তওবা করিল। আল্লাহ তাহাদের তওবা কবুল করিলেন এবং এই লাঞ্ছনা ও অপমান হইতে মুক্তি দিলেন। আবার তাহারা হযরত ইয়াহইয়াকে হত্যা করিল এবং হযরত ঈষাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করিল। অর্থাৎ তাহারা পুনরায় আল্লাহর হুকুম-আহকাম হইতে অন্ধ ও বধির হইয়া গেল। মোট কথা তাহাদের অভ্যাস পরিবর্তন হইল না। (ফতহুল বয়ান)

مَّا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ ۖ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآيَاتِ ثُمَّ انظُرْ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ

বাংলা অর্থ:

৭৫। মসীহ ইবনে মারইয়াম একজন রাসূল ব্যতীত আর কিছুই নহেন, তাহার পূর্বে আর ও বহু রাসূল গত হইয়াছেন। তাহার মাতা একজন ওলী খাতুন ছিলেন। তাহারা উভয়ে অন্ন ভক্ষন করিতেন। লক্ষ্য করুন! আমি কিরূপে প্রমাণসমূহ তাহাদের নিকট বর্ণনা করিতেছি, অতঃপর লক্ষ্য করুন! তাহারা উল্টা কোন দিকে যাইতেছে!

قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا ۚ وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

বাংলা অর্থ:

৭৬। আপনি বলুন, তোমরা কি খোদা ব্যতীত এমন বস্তুর এবাদত কর, যাহা না তোমাদের কোন অপকার করিবার ক্ষমতা রাখে আর না কোন উপকার করিবার। অথচ আল্লাহই সব শুনেন, সব জানেন।

قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِن قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ

বাংলা অর্থ:

৭৭। আপনি বলিয়া দিন হে আহলে কিতাব! তোমরা নিজেদের ধর্মে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করিও না, এবং ঐ সমস্ত লোকের (ভিত্তিহীন) কল্পনার উপর চলিও না যাহারা অতীতে নিজেরা ও ভ্রান্তিতে পতিত হইয়াছে এবং আরও বহু লোককে ভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করিয়াছে, বস্তুতঃ তাহারা সরল পথ হইতে দূরে সরিয়া পড়িয়াছিল।

لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۚ ذَ‌ٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ

বাংলা অর্থ:

৭৮। বনী ইসরাঈলদের মধ্যে যাহারা কাফের ছিল তাহাদের উপর লা’নত করা হইয়াছিল–দাঊদ এবং ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখে। এই লা’নত এই কারণে করা হইয়াছিল যে, তাহারা আদেশ বিরোধিতা করিয়াছিল এবং সীমার বাহিরে চলিয়া গিয়াছিল।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) সিদ্দিকাহ শব্দের অর্থ -আল্লাহর প্রতি আত্মনিবেদিত সত্যাশ্রয়ী নারী। ইহা হযরত মারইয়ামের মর্যদার উচ্চতম স্তর। (ইবনে কাসীর)
২) এই আয়াতটিতে এবং পরবর্তী আয়াতটিতে ইসরাঈলী আলেমদের কঠোর নিন্দা করা হইয়াছে। হুযুর (দঃ) বলিয়াছেন, ইসরাঈলীদের মধ্যে যেনার অধিক্য এবং মাছ শিকার জনিত নাফরমানী ঘটিলে প্রথমে আলেমগণ তাহাগিদকে নিষেধ করিয়াছিল। কিন্তু তাহারা মানে নাই। পরবর্তী কালের আলেমরা স্বার্থের বশীভূত হইয়া হইয়া তাহাদিগকে বারণ করা তো দূরের কথা, তাহাদের সঙ্গেই মিশিয়া গিয়াছিল। হযরত দাঊদ ও হযরত ঈসা (আঃ) তাহাদের নিজ নিজ যুগে ইহাদিগকে খুব লা’নত করিয়াছেন। কেননা, ইহারা ক্বওমকে মন্দ কাজ হইতে বারণ করে নাই। (তাইসীরুল বয়ান)

كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ

বাংলা অর্থ:

৭৯। যে অন্যায় কাজ তাহারা করিয়াছিল, তাহা হইতে তাহারা নিবৃত্ত হইতেছিল না। বাস্তবিকই তাহাদের কাজগুলিছিল অত্যন্ত গর্হিত।

تَرَىٰ كَثِيرًا مِّنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنفُسُهُمْ أَن سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ

বাংলা অর্থ:

৮০। আপনি ইহাদের (ইহুদীদের)মধ্যে অনেক লোকে দেখিবেন যে, বন্ধুত্ব করিয়াছে কাফেরদের সহিত। যে কাজ তাহারা ভবিষ্যতে (শান্তি ভোগ) এর জন্য করিয়াছে তাহা নিঃসন্দেহে মন্দ, যেহেতু আল্লাহ তা’আলা উহাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হইয়াছেন, ফলতঃ ইহার আযাবে চিরকাল থাকিবে।

وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَـٰكِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ

বাংলা অর্থ:

৮১। আর যদি ইহারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনিত এবং নবী (মূসা) এর প্রতি এবং ঐ কিতাবের (অর্থাৎ তাওরাতের) প্রতি যাহা তাহার নিকট প্রেরিত হইয়াছিল, তবে ইহাদিগকে (অর্থাৎ মুশরেকদিগকে) কখনও বন্ধুরূপে গ্রহন করিত না, কিন্তু ইহাদের অধিকাংশ লোকই নাফরমান।

لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا ۖ وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُم مَّوَدَّةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَىٰ ۚ ذَ‌ٰلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ

বাংলা অর্থ:

৮২। আপনি মানবমন্ডলীর মধ্যে মুসলমানদের সহিত অধিক শত্রুতা পোষনকারী পাইবেন এই ইহুদী ও মুশরেকদিগকে, আর তন্মধ্যে মুসলমানদের সহিত বন্ধুত্ব রাখিবার অধিকতর নিকটবর্তী ঐ সমস্ত লোককে পাইবেন, যাহারা নিজদিগকে নাছারা বলে। ইহা এই কারণে যে, ইহাদের মধ্যে বহু জ্ঞান-পিপাসু আলেম এবং বহু সংসার-বিরাগী দরবেশ রহিয়াছে আর এই কারণে যে, ইহারা অহংকারী নহে।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

মদীনায় হিজরতের পূর্বে হযরত জা’ফর ছাদেক তাইয়ার সাদেক সহ কতিপয় মুসলমান আবিসিনিয়ায় হিজরত করিয়াছিলেন। হাবশীরা তাহাদিগকে কোন প্রকার কষ্ট দেয় নাই। হাবশী খৃষ্টানগণ সত্যিকারের ইঞ্জিলের অনুসারী এবং খুবই উদার-হৃদয় ছিল। বিশেষ করিয়া আবিসিনিয়ায় তদানিন্তন বাদশাহ এবং তাহার বন্ধুগণ, ইসলামের সত্যকে কবূল করিয়াছিলেন। তাহারা নিজেদের স্থানে থাকিয়াও হযরত জা’ফরের মুখে কোরআন শুনিয়া ক্রন্দন করিয়াছিলেন এবং মুসলমান হইয়া ছিলেন।আবার ত্রিশ জন আলেম তাহাদের মধ্যে হইতে হুযুরের দরবারে আসিয়া কোরআন শুনিয়া কাঁদিয়া ছিলেন এবং মুসলমান হইয়াছিলেন। বিশেষ করিয়া এই বিশেষ নাছারাদের বর্ণনাই এই আয়াতগুলিতে করা হইয়াছে । (বঃ কোঃ)

وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَىٰ أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ ۖ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ

বাংলা অর্থ:

৮৩। আর যখন তাহারা উহা শ্রবণ করে যাহা রাসূলের প্রতি নাযিল হইয়াছে, তখন আপনি তাহাদের চোখে অশ্রুবহিতে দেখিবেন এই কারণে যে, তাহারা সত্যকে উপলব্ধি করিতে পারিয়াছে, তাহারা এইরূপ বলে যে, হে আমার প্রতিপালক!আমরা মুসলামান হইলাম, অতএব আমাদিগকে ও ঐসব লোকের সহিত লিপিবদ্ধ করিয়া লউন যাহারা (মোহাম্মাদ [সাঃ] ও কোরআন সত্য হওয়া) স্বীকার করে।

وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا جَاءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ أَن يُدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِينَ

বাংলা অর্থ:

৮৪। আর আমাদের এমন কি ওযর আছে যে, আমরা ঈমান আনিব না আল্লাহ তা’আলার প্রতি এবং সেই সত্যের প্রতি যাহা আমাদের নিকট পৌছাইছে? অথচ এই আশা রাখিব যে, আমাদের পরওয়ারদেগার নেকারদের সহিত আমাদিগকে শামিল করিবেন।

فَأَثَابَهُمُ اللَّهُ بِمَا قَالُوا جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَ‌ٰلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ

বাংলা অর্থ:

৮৫। ফলতঃ তাহাদের এই উক্তি (ও বিশ্বাস) এর বিনিময়ে আল্লাহ তা’আলা তাহাদিগকে এমন উপাদানসমূহ প্রদান করিবেন, যাহার তলদেশে নহরসমূহ বহিতে থাকিবে, তাহারা উহাতে অনন্তকাল অবস্থান করিবে। আর ইহাই নেককারদের বিনিময়।

وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

বাংলা অর্থ:

৮৬। আর যাহারা কাফের রহিয়াছে এবং আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে, তাহারাই হইবে জাহান্নামের অধিবাসী।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ

বাংলা অর্থ:

৮৭। হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ যে সমস্ত বস্তু তোমাদের জন্য হালাল করিয়াছেন তন্মধ্যে সুস্বাদু বস্তুসমূহকে হারাম করিও না এবং সীমালঙ্ঘন ও করিও না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সীমালঙ্ঘনকারীকে পছন্দ করেন না।

وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنتُم بِهِ مُؤْمِنُونَ

বাংলা অর্থ:

৮৮। আর আল্লাহ তা’আলা যাহা তোমাদিগকে দান করিয়াছেন তন্মধ্যে হইতে হালাল রুচিকর বস্তুগুলি ভক্ষণ কর, এবং আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর–যাহার প্রতি তোমরা ঈমান রাখ।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) হিজরতের কয়েক বছর পর এক খৃষ্টান সম্প্রদায়ের ৭০ জন নও-মুসলিম নবী কারীম (দঃ) সমীপে হাজির হয় এবং তথায় কোরআন পাক শুনিয়া সাতিশয় মুগ্ধ হয়। তাহারা কাদিয়া অধির হয় এবং চোখের পানি দর-বিগলিত ধারায় প্রবাহিত হয়। তাহাদের মুখে “রাব্বানা আমান্না”অর্থাৎ, “আমরা ঈমান আনিলাম” উচ্চারিত হইতে থাকে।শুধু দলের অবস্থা উক্ত আয়াতে বর্ণিত হইয়াছে। ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাহাদের অবস্থা এইরূপ থাকিবে, তাহা বলা হয় নাই। (ফাঃ শিব্বীরিয়া)
২) একদিন হুযুর (দঃ) ক্বিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা বর্ণনা করিলে হযরত আবু বকর ও আলী প্রমুখ কতিপয় প্রধান সাহাবী সংসার বর্জনপূর্বক কেবল আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকার জন্য কসম করিয়া বসিলেন। উক্ত প্রসঙ্গে এই আয়াতটি নাযিল হয়। (মুঃ কোঃ)

لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَـٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ۚ ذَ‌ٰلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ ۚ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ ۚ كَذَ‌ٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

বাংলা অর্থ:

৮৯। আল্লাহ তোমাদিগকে তোমাদের কসম সমূহের মধ্যে অর্থহীন কসমের জন্য পাকড়াও করিবেন না, কিন্তু পাকড়াও করিবেন উহাতে, যে কসম সমূহকে তোমরা (ভবিষ্যত বিষয়ের প্রতি) দৃঢ় কর, সুতরাং উহার (অর্থাৎ শপথ ভঙ্গের) কাফফারা–দশ জন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য প্রদান করা মধ্যম ধরনের, নিজ পরিবারের লোকদিগকে খাওয়াইয়া থাক, কিংবা উহাদিগকে পরিধেয় বস্ত্র দান করা (মধ্যম ধরনের) কিংবা একটি গোলাম বা বাদী আযাদ করা। আর যে ব্যক্তি সমর্থ না হয়, তবে (একাধারে) তিন দিনের রোযা। ইহা তোমাদের কসমসমূহের কাফফারা যখন তোমরা কসম কর (অতঃপর ভঙ্গ কর)। এবং নিজেদের কসমসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখিও। এইরূপেই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য স্বীয় বিধান সমূহ বর্ণনা করেন, যেন তোমরা শোকর কর।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

বাংলা অর্থ:

৯০। হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়, মদ এবং জুয়া এবং মূর্তি ইত্যাদি এবং লটারির তীর এসমস্ত গর্হিত বিষয়, শয়তানি কাজ ব্যতীত আর কিছু নহে, অতএব, ইহা হইতে সম্পূর্ণরূপে পৃথক থাক, যেন তোমাদের কল্যাণ হয়।

إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ

বাংলা অর্থ:

৯১। শয়তান তো এইরূপ চায় যে, মদ এবং জুয়ার দ্বারা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা সৃষ্টি করে এবং আল্লাহ তা’আলার স্মরণ হইতে ও নামায হইতে তোমাদিগকে বিরত রাখে, সুতরাং এখনও কি তোমরা ফিরিয়া আসিবে?

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) কসম তিন প্রকার (ক) “লাগব”- অর্থাৎ যেই ধারনাই কসম করা হইয়াছে, মূলে তাহা নহে। এই রকমের কসমে কোন দন্ড নাই। (খ) “গামূস” অর্থাৎ, অতিতের যে কাজটি মিথ্যা, উহাকে সত্য বলিয়া কসম করা। ইহার শাস্তি শুধু তওবা ও এস্তেগফার। (গ) “মুনাক্বেদাহ”-অর্থাৎ ভবিষ্যতের কোন কাজ করার বা না করার ইচ্ছাকে দৃঢ় করার জন্য কসম করা। ইহা ভঙ্গ করিলে উহার কাফফারা কি হইবে, অত্র আয়াতে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে। (মুঃ কোঃ)
২) খেজুর বা আঙ্গুর ইত্যাদি ফলের রসকে পচাইয়া “নেশাদার” করিলে তাহা নাপাক এবং হারাম। আর যাহাকে না পঁচাইয়া “নেশাদার” তাহা হারাম, কিন্ত নাপাক নহে। জুয়া সর্বোবস্থায়ই হারাম। (মুঃ কোঃ)

وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا ۚ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَىٰ رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ

বাংলা অর্থ:

৯২। আর তোমরা আল্লাহর অনুগত্য করিতে থাক এবং রাসূলের অনুগত্য করিতে থাক এবং সর্তক থাক, আর যদি বিমুখ থাক, তবে জানিয়া থাক যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব ছিল শুধু স্পষ্টভাবে (আদেশ) পৌছাইয়া দেওয়া।

لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوا وَّآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ثُمَّ اتَّقَوا وَّآمَنُوا ثُمَّ اتَّقَوا وَّأَحْسَنُوا ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

বাংলা অর্থ:

৯৩। যাহারা ঈমান রাখে এবং নেককাজ করে এইরূপ লোকদিগের উপর উহাতে কোন গুনাহ নাই যাহা তাহারা পানাহার করিয়াছে, যখন তাহারা পরহেয করে এবং ঈমান রাখে ও নেককাজ করে, পুনঃ পরহেয করিতে থাকে এবং ঈমান রাখে, পুনঃ পরহেয করিতে থাকে এবং খুব নেককাজ করিতে থাকে। বস্তুতঃ আল্লাহ তা’আলা এইরূপ নেককারদিগকে ভালোবাসেন।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَيَبْلُوَنَّكُمُ اللَّهُ بِشَيْءٍ مِّنَ الصَّيْدِ تَنَالُهُ أَيْدِيكُمْ وَرِمَاحُكُمْ لِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَخَافُهُ بِالْغَيْبِ ۚ فَمَنِ اعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَ‌ٰلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯৪। হে ঈমানদারগণ ! আল্লাহ তোমাদেরকে কতক শিকারের দ্বারা পরীক্ষা করিবেন, যেগুলি পর্যন্ত তোমাদের হাত এবং তোমাদের বল্লম পৌছিতে পারিবে, এই উদ্দেশ্য যে, আল্লাহ তা’আলা জানিয়া লন, কে তাহাকে না দেখিয়া ভয় করে, সুতরাং ইহার পর যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করিবে, তাহার জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) পূর্বোক্ত আয়াত দ্বারা মদ্যপান ও জুয়া হারাম হইয়া গেল কোন কোন সাহাবী আরয করিলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাদের মধ্যে অনেক লোক মদ্যপায়ী ছিলেন, জুয়ালব্ধ মালও ভক্ষণ করিতেন। এই হারাম মাল পেটে থাকা অবস্থায় মৃত্যু মুখে পতিত হইয়াছেন। অতঃপর এইগুলি হারাম হইয়াছে। তাহাদের কি অবস্থা হইবে? এই সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়। আয়াতটির সারর্মম এই যে, হারাম হওয়ার পূর্বে যাহাদের মৃত্যু হইয়াছে, তাহাদের কোন পাপ নাই। (বঃ কোঃ)
২) হোদাইবিয়ার বৎসর হুযুর (দঃ) ওমরার উদ্দেশ্য যাত্রা করিলে তাহার ও সঙ্গী সাহাবায়ে কেরামের এহরামের অবস্থায় পথিমধ্যে দলে দলে শিকারের জন্তু আসিয়া তাহাদের পাশ ঘেঁষিয়া চলিত। এহরামের অবস্থায় থাকা বশতঃ তাহারা শিকার করিতে পারিতেন না। এই সম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয় । (মুঃ কোঃ)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۚ وَمَن قَتَلَهُ مِنكُم مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِّثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَ‌ٰلِكَ صِيَامًا لِّيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ ۗ عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ ۚ وَمَنْ عَادَ فَيَنتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انتِقَامٍ

বাংলা অর্থ:

৯৫। হে ঈমানদারগণ! বন্য শিকারকে হত্যা করিও না যখন তোমরা এহরাম অবস্থায় থাক। আর যে ব্যক্তি তোমাদের মধ্যে হইতে ইচ্ছাপূর্বক উহাকে হত্যা করিবে, তবে তাহার উপর বিনিময় ওয়াজেব হইবে, যাহা (মূল্যের দিক দিয়া) সেই জানোয়ারের সমতুল্য হয় যাহাকে সে হত্যা করিয়াছে, যাহারা (আনুমানিক মূল্যের) মীমাংসা তোমাদের মধ্যে হইতে দুই জন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি করিয়া দিবে, (অতঃপর নিরুপীত মূল্য দ্বারা) সেই বিনিময় চাই নিদিষ্ট চতুষ্পদ জন্তই হউক, এই শর্তে যে, নেয়াযস্বরূপ কা’বা ঘর পর্যন্ত পৌছাইয়া দিবে, অথবা কাফফারা (স্বরূপ নিরূপীত মূল্যেও সমপরিমান খাদ্যদ্রব্য) মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করিয়া দিবে, অথবা ইহার সমপরিমাণ রোযা রাখিবে, যেন নিজ কৃতকর্মের পরিণামের স্বাদ গ্রহন করে। অতীত (ত্রুটি) আল্লাহ ক্ষমা করিয়া দিয়াছেন। আর যে ব্যক্তি পুনরায় এইরূপ কর্মই করিবে, তবে আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তি হইতে (ইহার) প্রতিশোধ লইবেন। আর আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রতিশোধ গ্রহনে সক্ষম।

أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَاعًا لَّكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ ۖ وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

বাংলা অর্থ:

৯৬। তোমাদের জন্য সামুদ্রিক শিকার ধরা তোমাদের জন্য হারাম করা হইয়াছে যতক্ষন এহরাম অবস্থায় থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাহার সমীপে একত্রিত করা হইবে।

جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِّلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلَائِدَ ۚ ذَ‌ٰلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯৭। মহা সম্মানিত গৃহ কা’বাকে আল্লাহ মানুষের কল্যাণ সুদৃঢ় থাকার উপায় নির্ধারন করিয়া দিয়াছেন এবং সম্মানিত মাসকেও এবং হরমে কোরবানীর জীবকেও এবং সেই জীবকে ও যাহাদের গলায় নিদর্শন আছে। ইহা এই জন্য যেন তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনস্থিত সমস্ত বস্তুই খবর রাখেন, আর নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সববিষয়ে পূর্ণ জ্ঞাত।

اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

বাংলা অর্থ:

৯৮। তোমরা জানিয়া রাখ, আল্লাহ কঠোর শাস্তিও প্রদান কারী এবং আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, করুণাময়ও।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) মুহরেম অর্থাৎ, এহরামের অবস্থার লোক যে জন্তু শিকার করিবে, উহার সমতুল্য বস্তু কোরবানি করিবে। ইমাম সাফেঈ (রাঃ) এর মতে গঠনে ও আকারে সমতুল্য হইতে হইবে। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রাঃ) এর মতে শিকার কৃত জানোয়ারের আনুমানিক মূল্য দ্বারা যেইরূপ জন্তু পাওয়া যায়, তাই কোরবানি করিবে। হরম শরীফের গন্ডির মধ্যে পৌছাইয়া কোরবানি করিতে হইবে। (মুঃ কোঃ)
২) এহরামের অবস্থায় জলচর অর্থাৎ মাছ শিকার করা জায়েয, কেবল স্থলচর শিকার করাই হারাম (মুঃ কোঃ)
৩) ফঃ আরব দেশটি শাসকহীন ছিল। সর্বদা যুদ্ধ-বিগ্রহ লাগিয়াই থাকিত। কিন্তু কা’বা ঘরের সম্মান তখনও ছিল। হরম শরীফে এবং সম্মানিত মাসসমূহে হত্যা ও শিকার করা হারাম ছিল। ঐ সময়ে লোকে ব্যবসায়, বাণিজ্য ও কোরবানির জন্তু লইয়া নিরাপদে সফর করিত। এইরূপে তাহাদের জীবিকা নির্বাহ হইত। (মুঃ কোঃ)
৯৯) রাসূলের দায়িত্ব শুধু পৌছাইয়া দেওয়া মাত্র। আর আল্লাহ তা’আলা সমস্তই জানেন, যাহাকিছু তোমরা প্রকাশ কর এবং যাহাকিছু তোমরা গোপন রাখ।

مَّا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ

বাংলা অর্থ:

১০০। আপনি বলিয়া দিন, অপবিত্র এবং পবিত্র সমান নহে, যদিও অপবিত্রের অধিক্য তোমাকে আশ্চর্যান্বিত করে, অতএব, হে মহাজ্ঞানী! আল্লাহকে ভয় করিতে থাক যেন তোমরা (পূর্ণ) সফলকাম হও।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِن تَسْأَلُوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ

বাংলা অর্থ:

১০১। হে ঈমানদার গণ! এমন সব বিষয় সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিও না–যদি তাহা তোমাদের নিকট প্রকাশ করিয়া দেওয়া হয়, তবে তোমাদের বিরক্তিকর কারণ হইবে, আর যদি তোমরা কোরআন অবর্তীণ হওয়ার সময় উক্ত বিষয়সমূহ সম্বন্ধে জিজ্ঞাস কর, তবে তোমাদের জন্য প্রকাশ করিয়া দেওয়া হইবে। অতীতের জিজ্ঞাসাবাদ আল্লাহ ক্ষমা করিয়া দিয়াছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ মহা ক্ষমাশীল, অতিশয় সহিষ্ণু।

قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِّن قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ

বাংলা অর্থ:

১০২। এইরূপ বিষয় তোমাদের পূর্বে অন্যান্য লোকেরা জিজ্ঞাসা করিয়াছিল, অতপর সে সমস্ত বিষয়ের হক্ক তাহারা আদায় করে নাই।

مَا جَعَلَ اللَّهُ مِن بَحِيرَةٍ وَلَا سَائِبَةٍ وَلَا وَصِيلَةٍ وَلَا حَامٍ ۙ وَلَـٰكِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۖ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ

বাংলা অর্থ:

১০৩। আল্লাহ না বাহীরার প্রচলন করিয়াছেন এবং না সায়েবার এবং না ওয়াছীলার এবং না হামীর, কিন্তু যাহারা কাফের, তাহারা আল্লাহ তা’আলার প্রতি মিথ্যাআরোপ করে। আর অধিকাংশ কাফের (ধর্ম) জ্ঞান রাখে না।

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَىٰ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ۚ أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ

বাংলা অর্থ:

১০৪। আর যখন তাহাদিগকে বলা হয় যে, আস আল্লাহর অবতারিত বিধান সমূহের দিকে এবং তাহার রাসূলের দিকে তখন তাহারা বলে, আমাদের জন্য ইহাই যথেষ্ট যাহাতে নিজেদের পূর্ব পুরুষদিগকে পাইয়াছি। কি? (ইহা তাহাদের জন্য যথেষ্ট হইবে?) যদিও তাহাদের পূর্বপুরুষগণ না কোন জ্ঞাত রাখিত আর না কোন হেদায়তপ্রাপ্ত ছিল।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) হুযুর (দঃ) কে অপ্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিলেন, পূর্বকালের লোকেরা ও তাহাদের নবীকে এইরূপ খুঁটিনাটি প্রশ্ন করিত এবং নিজেদের দায়িত্ব বাড়াইয়া লইত। কিন্তু তাহা পালন করিত না। অতএব, শোন মাত্র আমার আদেশ পালন করিবে, আর নিষেধ ইহতে নিবৃত্ত থাকিবে। এই সম্বন্ধে আয়াতটি নাযিল হয়। (বঃ কোঃ)
২) কাফেরো যেই পশুর দুধ নিজে না খাইয়া মূর্তির নামে নিবেদন করিত, উহাকে “বাহীরা” আর যে পশু নিজের কাজে না খাটাইয়া মূর্তির নামে ছাড়িত, উহাকে “সায়েবা” আর যেই উঠনীকে উপর্যুপরি মাদী বাচ্চা প্রসবান্তে মূর্তির নামে ছাড়িত, উহাকে “ওয়াসীলা” আর যেই উট নিদিষ্ট সংখ্যক সঙ্গম করিত এবং তাহার দেবতার নামে ছাড়িত। উহাকে “হামী” বলিত। এই সমস্ত কুফুরী ও শেরেকী কর্ম। ইহার প্রতিবাদেরই এই আয়াতটি নাযিল হইয়াছে। (বঃ কোঃ)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ ۖ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ ۚ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

বাংলা অর্থ:

১০৫। হে ঈমানদারগণ! নিজেদের (সংশোধন করার) চিন্তা কর, যখন তোমরা (দ্বীনের) পথে চলিতেছ–ইতঃপর যে পথভ্রষ্ট হয় তাহাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। আল্লাহরই সমীপে তোমাদের সকলকে প্রত্যাবর্তিত হইতে হইবে, অতঃপর তিনি তোমাদিগকে জানাইয়া দিবেন যাহাকিছু তোমরা করিতেছিলে।‘

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ حِينَ الْوَصِيَّةِ اثْنَانِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ أَوْ آخَرَانِ مِنْ غَيْرِكُمْ إِنْ أَنتُمْ ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَأَصَابَتْكُم مُّصِيبَةُ الْمَوْتِ ۚ تَحْبِسُونَهُمَا مِن بَعْدِ الصَّلَاةِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ إِنِ ارْتَبْتُمْ لَا نَشْتَرِي بِهِ ثَمَنًا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَىٰ ۙ وَلَا نَكْتُمُ شَهَادَةَ اللَّهِ إِنَّا إِذًا لَّمِنَ الْآثِمِينَ

বাংলা অর্থ:

১০৬। হে ঈমনাদারগণ! তোমরা পরস্পরের (বিষয়াদির) মধ্যে দুই জন লোক ওহী থাকা সঙ্গত যখন তোমাদের মধ্যে কাহারও মৃত্যু আসন্ন হয় (অর্থাৎ) ওসিয়ত করার সময়, (এবং) এই দুই ব্যক্তি এইরূপ হইবে যে–দ্বীনদার, এবং তোমাদের মধ্যে হইতে হইবে অথবা ভিন্ন সম্প্রদায় হইতে দুই জন ইহবে যদি তোমরা সফরে থাক, অতঃপর মৃত্যুর ঘটনা তোমাদের উপর উপস্থিত হয়। যদি তোমাদের সন্দেহ হয়, তবে ওছীদ্বয়কে নামাযের (জামাআতের) পর রুখিয়া লও, অতঃপর তাহারা উভয়ে আল্লাহর নামে শপথ করিবে যে, আমরা এই শপথের বিনিময়ে কোন স্বার্থ ভোগ করিব না–যদি কোন আত্মীয়ও হয়, আর আল্লাহর বিধানকে আমরা গোপন করিব না, (যদি এইরূপ করি, তবে) এমতাবস্থায় আমরা ভীষন পাপী হইব।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) বনী সহম গোত্রের একজন মুসলমান তামীম দারীও আদী ইবনে বারা (পরে মুসলমান হয়) এর সহিত সিরিয়ায় বণিজ্য করিতে গেল। পথিমধ্যে সহমী মুসলমানটি পীড়িত হইয়া মৃত্যুর নিকটবর্তী হইলে সঙ্গী খৃষ্টানদ্বয়কে অছিয়ত করিয়া গেল যে, আমার পরিত্যক্ত বস্তু গুলি আমার ওয়ারিসদের নিকট পৌছাইয়া দিও। পরিত্যক্ত বস্তু গুলির মধ্যে একটি স্বর্ণ খচিত রৌপ্য পাত্রই ছিল মূল্যবান। তাহারা দেশে আসিয়া উক্ত পাত্রটি ভিন্ন আর সমস্ত দ্রব্যই ওয়ারিসদের নিকট পৌছইয়া দিল। ওয়ারিসরা এই পেয়ালাটির সংবাদ জানিত। তফসীরে মাদারেকে আছে, মৃত্যু ব্যক্তির মালের সহিত একটি তালিকা ছিল। তাহারা উহা মিলাইয়া পেয়ালা পাইল না। জিজ্ঞাসা করা হইলে তাহারা বলিল, অন্য কোন দ্রব্যই সে দেয় নাই। পরিশেষে মোকদ্দমা হুযুরের সমীপে পেশ করা ইহল। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। (বঃ কোঃ)

فَإِنْ عُثِرَ عَلَىٰ أَنَّهُمَا اسْتَحَقَّا إِثْمًا فَآخَرَانِ يَقُومَانِ مَقَامَهُمَا مِنَ الَّذِينَ اسْتَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْأَوْلَيَانِ فَيُقْسِمَانِ بِاللَّهِ لَشَهَادَتُنَا أَحَقُّ مِن شَهَادَتِهِمَا وَمَا اعْتَدَيْنَا إِنَّا إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ

বাংলা অর্থ:

১০৭। অতঃপর যদি জানা যায় যে, ওছীদ্বয় কোন পাপে জরিত হইয়াছে, তবে যাহার বিরুদ্ধে পাপে জরিত হইয়াছিল তাহাদের মধ্যে হইতে (মৃতের) সর্বাপেক্ষা নিকটতম অপর দুই ব্যক্তি সেই স্থানে দাঁড়াইবে যেখানে ওছীদ্বয় দাঁড়াইয়াছিল, অতঃপর উভয়ে (এইরূপে) আল্লাহর নামে শপথ করিবে যে, নিশ্চয়, আমাদের এই শপথ তাহাদের শপথ অপেক্ষা অধিক্য সত্য এবং আমরা কিছু মাত্র ব্যতিক্রম করি নাই, (যদি করি, তবে) এমতাবস্থায় যালেমদের অন্তভূক্ত হইব।

ذَ‌ٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يَأْتُوا بِالشَّهَادَةِ عَلَىٰ وَجْهِهَا أَوْ يَخَافُوا أَن تُرَدَّ أَيْمَانٌ بَعْدَ أَيْمَانِهِمْ ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاسْمَعُوا ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

বাংলা অর্থ:

১০৮। ইহাই এ বিষয়ের অতীত সহজ পন্থা যে তাহার ঘটনা যথাযথভাবে প্রকাশ করে দেয় অথবা ইহার ভয় করে যে, তাহাদের শপথ গ্রহন করার পর (পুনঃ) শপথ গুলিকে ফেরান হইবে। আর আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর এবং (বিধানসমূহ) শ্রবণ কর। আর আল্লাহ ফাসেকদিগকে পথ দেখাইবেন না।

يَوْمَ يَجْمَعُ اللَّهُ الرُّسُلَ فَيَقُولُ مَاذَا أُجِبْتُمْ ۖ قَالُوا لَا عِلْمَ لَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ

বাংলা অর্থ:

১০৯। যে দিন আল্লাহ সমস্ত রাসূলকে সমবেত করবেন অতঃপর বলবেন যে, তোমরা (উম্মতগণ হইতে) কি উত্তর পাইয়াছিলে? তাহারা বলিবেন, (তাহাদের অন্তরের কথা) আমাদের কিছুই জানা নাই। নিশ্চয় আপনি সমস্ত গোপনীয় বিষয় সম্পূর্ণ জ্ঞাত।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) অছীদ্বয় কসম করিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হইয়া চলিয়া যাওয়ার কয়েক দিন পর ওয়ারিসগণ মক্কায় জৈনক ব্যক্তির নিকট উক্ত পাত্রটি দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে পারিল যে, তামীম ও আদী মৃত ব্যক্তি হইতে উহা ক্রয় করিয়াছে। অতঃপর ওয়ারিসগণ তামীম ও আদীকে জিজ্ঞাস করিলে তাহারা বলিল, ক্রয় কালে আমাদের কোন সাক্ষী ছিল না বলিয়া আমরা ক্রয় ব্যাপারটিকে তখন গোপন করিয়াছিলাম। পুনরায় হুযুরের দরবারে মোকদ্দমা পেশ করা হইল, তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়। যেহেতু তামীম ও আদী এখন পেয়াল ক্রয়ের দাবিদার এবং তাহাদের কোন সাক্ষী ছিল না। সুতরাং ক্রয় অস্বীকারকারী সহমীদের নিকট হইতে শপথ লওয়া হইল। মৃত ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা নিকটতম দুই জন লোক হইতে শপথ গ্রহন করিয়া তদনুযায়ী ওয়ারীসদের পক্ষে মোকদ্দমার রায় দিলেন। (বঃ কোঃ)

إِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَىٰ وَالِدَتِكَ إِذْ أَيَّدتُّكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا ۖ وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ ۖ وَإِذْ تَخْلُقُ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ بِإِذْنِي فَتَنفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِي ۖ وَتُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ بِإِذْنِي ۖ وَإِذْ تُخْرِجُ الْمَوْتَىٰ بِإِذْنِي ۖ وَإِذْ كَفَفْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَنكَ إِذْ جِئْتَهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ إِنْ هَـٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ

বাংলা অর্থ:

১১০। যখন আল্লাহ বলিবেন হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! আমার অনুগ্রহ স্মরন কর–যাহা তোমার এবং তোমার জননীর উপর (প্রদত্ত) হইয়াছ। যখন আমি তোমাকে রুহুল কুদ্দুস দ্বারা সাহায্য করিয়াছি। (এবং) তুমি মানুষের সহিত কথা বলিতে, (জননীর) কোলে ও প্রৌঢ় বয়সেও, আর যখন আমি তোমাকে কিতাব সমূহ এবং জ্ঞানের কথা ও তাওরাত এবং ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি, আর যখন তুমি মাটি দ্বারা পাখির আকৃতি-সদৃশ এক আকৃতি প্রস্তুত করিতেছিল আমার আদেশে, অতঃপর তুমি উহাতে ফুৎকার দিতে, যদ্দরুন উহা পক্ষী হইয়া যাইত আমার আদেশে, আর তুমি নিরাময় করিয়া দিতে জন্মন্ধকে এবং কুষ্ঠ রোগীকে আমার আদেশে, আর যখন তুমি মৃতদিগকে বহির করিয়া দাঁড় করাইতে আমার আদেশে, আর যখন আমি বনী ইসরাঈলকে তোমা (কে হত্যা করা) হইতে নিবৃত্ত রাখিয়াছি যখন তুমি তাহাদের নিকট (স্বীয় নবুওয়াতের) প্রমাণাদি লইয়া উপস্থিত হইয়াছিলে, অতঃপর তাহাদের মধ্যে যাহারা কাফের ছিল তাহারা বলিয়াছিল যে, ইহা (মু’জেযাসমূহ) স্পষ্ট জাদু ভিন্ন আর কিছু নহে।

وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ

বাংলা অর্থ:

১১১। আর যখন আমি হাওয়ারীদিগকে আদেশ করলাম, আমার প্রতি এবং আমার রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তাহারা বলিল–আমরা ঈমান আনিলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা পূর্ণ অনুগত।

إِذْ قَالَ الْحَوَارِيُّونَ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ هَلْ يَسْتَطِيعُ رَبُّكَ أَن يُنَزِّلَ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ ۖ قَالَ اتَّقُوا اللَّهَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

বাংলা অর্থ:

১১২। সেই সময়টুকু স্মরনীয় যখন হাওয়ারীরা বলিল, হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! আপনার প্রতিপালক কি এইরূপ করিতে পারেন যে, আমাদের জন্য আসমান হইতে কিছু খাদ্য প্রেরণ করেন। ঈসা (আঃ) বলিলেন, আল্লাহকে ভয় কর যদি তোমরা ঈমানদার হইয়া থাক।

قَالُوا نُرِيدُ أَن نَّأْكُلَ مِنْهَا وَتَطْمَئِنَّ قُلُوبُنَا وَنَعْلَمَ أَن قَدْ صَدَقْتَنَا وَنَكُونَ عَلَيْهَا مِنَ الشَّاهِدِينَ

বাংলা অর্থ:

১১৩। তাহারা বলিল, আমাদের উদ্দেশ্য এই যে, আমরা উহা হইকে আহার করি এবং আমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হইয়া যায় এবং আমাদের এই বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয় যে–আপনি আমাদের নিকট সত্য বলিয়াছেন এবং আমরা ইহার প্রতি সাক্ষ্য প্রদানকারীদের অন্তভূক্ত হই।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) অর্থাৎ, এইরূপ সাক্ষ্য প্রদান করিতে পারি যে, আমরা এইরূপ মু’জেযাহ দেখিয়াছি। ফলে অন্যান্য লোকের সম্মুখে আপনার নবুওয়াতের প্রমাণ হইয়া যায় এবং ইহা তাহাদের হেদায়েতের উপায় হইয়া যায়। (বঃ কোঃ)

قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

বাংলা অর্থ:

১১৪। ঈসা ইবনে মারইয়াম দো’আ করিলেন, হে আমাদের প্রতিপালাক! আমাদের প্রতি আসমান হইতে খাদ্য অবর্তীণ করুন যেন উহা আমাদের জন্য অর্থাৎ,আমাদের মধ্যে যাহারা প্রথমে (বর্তমানে আছে) এবং যাহারা পরে–সকলের জন্য একটা আনন্দের বিষয় হয় এবং আপনার পক্ষ হইতে এক নিদর্শন হইয়া থাকে, আর আমাদিগকে (খাদ্য) প্রদান করুন, বস্তুতঃ আপনি তো সর্বোত্তম প্রদানকারী।

قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ ۖ فَمَن يَكْفُرْ بَعْدُ مِنكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَّا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ

বাংলা অর্থ:

১১৫। আল্লাহ তা’আলা বলিলেন, আমি এই খাদ্য তোমাদের প্রতি অবর্তীণ করিব, অনন্তর তোমাদের মধ্যে যে ইহার পর অকৃতজ্ঞ হইবে, আমি তাহাকে এমন শাস্তি দিব যে, বিশ্ববাসীদের মধ্যে ঐ শাস্তি আর কাহাকেও দিব না।

وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَـٰهَيْنِ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ ۚ إِن كُنتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ ۚ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ ۚ إِنَّكَ أَنتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ

বাংলা অর্থ:

১১৬। আর যখন আল্লাহ বলিবেন, হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! তুমি কি তাহাদিগকে বলিয়াছিলে যে, খোদা ছাড়াও আমাকে এবং আমার মাতাকে মা’বূদ নির্ধারণ করিয়া লও। ঈসা নিবেদন করিবেন, আমি তো আপনাকে পবিত্র মনে করি, আমার পক্ষে কোন মতেই শোভনীয় ছিল না যে, আমি এমন কথা বলি যাহা বলিবার আমার কোন অধিকার নাই। যদি আমি বলিয়া থাকি, তাহা হইলে অবশ্যই আপনার জানা থাকিবে। আপনিতো আমার অন্তরস্থিত কথাও জানেন, পক্ষান্তরে আপনার জ্ঞানে যাহাকিছু রহিয়াছে, আমি তাহা জানি না। সমস্ত গায়েবের বিষয় আপনিই জ্ঞাত।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) ঈসা (আঃ) হাওয়ারীদিগকে বলিলেন, আল্লাহর জন্য ত্রিশটি রোযা রাখিয়া তাহার নিকট যাহা ইচ্ছা চাহিতে পার। তাহারা ত্রিশটি রোযা রাখিয়াই বলিল, আমরা কাহারো কাজ করিলে খাবার পাই, খোদার জন্য রোযা রাখিয়াছি, আমাদিগকে খাবার দিতে প্রার্থনা করুন। হযরত ঈসা মিনতি সহকারে দো’আ করিলেন। উহাতে এই আয়াতটি বর্ণিত হইয়াছে। (মুঃ কোঃ)
২) ঈসার দো’আর পর দুই খন্ড মেঘের মধ্যেস্থলে লালা আবরনে ঢাকা খাদ্যের খাঞ্জা আসিল। ঈসা (আঃ) আরয করিলেন, হে আল্লাহ! আমাকে শোকরকারীদের অন্তভূক্ত করুন। অতঃপর বিসমিল্লাহ বলিয়া আবরণ উঠাইতেই দেখিল, ভাজা মাছ, ঘৃতে চপচপে নানা রং এর ব্যঞ্জন, ও গোশত ইত্যাদি। জনৈক শিষ্যের প্রশ্ন অনুযায়ী তিনি একটি মাছে ফু দিতেই উহা লাফাইতে লাগিল, আবার ফু দেওয়া মাত্র পূর্ববৎ হইয়া গেল (মুঃ কোঃ)

مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۚ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ ۖ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ

বাংলা অর্থ: সূরা আল-মায়েদা বাংলা। 

১১৭। আমি তো ইহাদিগকে কিছু বলি নাই ইহা ব্যতীত, যাহা আপনি আমাকে বলিতে আদেশ করিয়াছিলেন যে, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর, যিনি আমার পরওয়ারদেগার তোমাদের ও পরওয়ারদেগার, আমি তাহাদের সম্বন্ধে জ্ঞাত ছিলাম, যতক্ষন তাহাদের মধ্যে ছিলাম, অনন্তর যখন আপনি আমাকে উঠাইয়া লইয়াছেন, তখন আপনিই তাহাদের সম্বন্ধে অবগত রহিয়াছেন। আর আপনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ খবর রাখেন।

إِن تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ ۖ وَإِن تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

বাংলা অর্থ:

১১৮। আপনি যদি তাহাদিগকে শাস্তি প্রদান করেন, তবে ইহারা তো আপনার বান্দা, আর যদি তাহাদিগকে ক্ষমা করিয়া দেন, তবে আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

قَالَ اللَّهُ هَـٰذَا يَوْمُ يَنفَعُ الصَّادِقِينَ صِدْقُهُمْ ۚ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ۚ ذَ‌ٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

বাংলা অর্থ: সূরা আল-মায়েদা বাংলা। 

১১৯। আল্লাহ বলিবেন, ইহা সেই দিন যে, যাহারা সত্যবাদী ছিল তাহাদের সত্যবাদীতা কাজে আসিবে। তাহারা উদ্যান প্রাপ্ত হইবে, যাহার তলদেশে নহরসমূহ বহিতে থাকিবে, সেখানে তাহারা অনন্তকাল থাকিবে। আল্লাহ তা’আলা তাহাদের প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছেন এবং তাহারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হইয়াছে। ইহাই হইতেছে মহা সফলতা।

لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ ۚ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

বাংলা অর্থ: সূরা আল-মায়েদা বাংলা। 

১২০। আল্লাহরই জন্য রহিয়াছে বাদশাহী আসমান সমূহের ও যমীনের এবং ঐসকল বস্তুও যাহা উহাতে বিদ্যামান রহিয়াছে। আর তিনি সকল বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।

সূরা আল-মায়েদা বাংলা শানে নুযুল

১) এইস্থলে হযরত ঈসা (আঃ) এর উদ্দেশ্য নাছারাদের জন্য সুফারিশ করা বা আল্লাহকে তাহাদের ক্ষমার প্রতি আকৃষ্ট করা নহে। কেননা, ক্বিয়মত দিবসে মুশরিক ও কাফেরদের জন্য কোন প্রকার সুফারিশ করা হইবে না। যেহেতু সে দিন সুফারিশ নির্ভর করিবে অনুমতির উপর। অথচ ইহা সুনিশ্চিত যে, কাফেদের জন্য সুফারিশের অনুমতি দেওয়া হইবে না। বরং ঈসা (আঃ) এর এই উক্তির উদ্দেশ্য, নিজের দোষ স্থলান এবং নাছারাদের ব্যাপার সম্পূর্ণরূপে খোদার হাতে সমর্পন করা। তাহাদের কুফর এই সমর্পণের প্রতিবন্ধক নহে। কেননা, আল্লাহ অসীম ক্ষমতার উপর ভিত্তি করিয়া ঈসা (আঃ) কাফের নাছারাদের ব্যাপার আল্লাহর হাতে সমর্পণ করিয়াছেন। হযরত ঈসা (আঃ) এর উক্তির সারমর্ম এই যে, তাহাদিগকে ক্ষমা বা শাস্তি, আপনার যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারেন। (বঃ কোঃ)

সূরা আন-নিসা বাংলা অনুবাদ ও শানে নজুল পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন-
আমাদের, ফেসবুক পেইজে লাইক, শেয়ার এবং কমেন্টস করে আমাদের সাথেই থাকুন।