সূরা-আন-নিসা বাংলা অর্থ (আয়াত -২৩-৪০)

আয়াত-১৭৬

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا

২৩। তোমাদের প্রতি হারাম করা হইয়াছে তোমাদের মাতৃগণ এবং তোমাদের কন্যাগণ এবং তোমাদের ভগ্নীগণ এবং তোমাদেও ফুফুগন এবং তোমাদের খালাগণ এবং ভ্রাতৃ-কন্যাগণ এবং ভগিনী-কন্যাগণ এবং তোমাদের ঐ মাতৃগণ যাহারা তোমাদিগকে স্তন্য দান করিয়াছেন,আর তোমাদের ঐ ভগ্নীগণ যাহারা স্তন্য পানের দরুন (ভগ্নী) হইয়াছে এবং তোমাদের স্ত্রীদের মাতৃগণ এবং তোমাদের স্ত্রীদের কন্যাগণ যাহারা তোমাদের প্রতিপালনে রহিয়াছে এইরূপ পত্নীগণ হইতে, যাহাদের সহিত তোমরা সঙ্গম করিয়াছ আর যদি তোমারা ঐ স্ত্রীদের সহিত সঙ্গম না করিয়া থাক, তবে তোমাদের কোন পাপ নাই, আর তোমাদের পুত্রগণের স্ত্রীগণ যাহারা তোমাদের ঔরসজাত, আর এই যে, তোমারা দুই ভগ্নীকে একত্রে (বিবাহ) রাখ কিন্তু যাহা (এইহুকুমের) পূর্বে হইয়াছে (তাহা মাফ); নিশ্চয় আল্লাহ্ মহা ক্ষমাপরায়ণ, অতীব করুণাময়।

শানে নুযূল

(১) প্রাক-ইসলাম যুগের লোকেরা হারাম নারীদিগকে বিবাহ করিত, যেমন বিম্যতাকে এবং এক্ব ভগ্নী বিবাহ-বন্ধনে থাকাকালিন দ্বিতীয় ভগ্নীকে বিবাহ করা। আবার কেহ বৈধ নারীকে হারাম মনে করিত। যেমন পোষ্যপুত্রের স্ত্রী। অতএব, আল্লাহ্ তা‘আলা এই দুইটি আয়াতে এ সম্বন্ধীয় বিধান বর্ণানা করিতেছেন।(বঃ কোঃ)
(২) অজ্ঞ যুগের সভ্য লোকেরাও এইরূপ বিবাহকে ঘৃণার বিবাহ আখ্যা দিত এবং এ বিবাহের দ্বারা যে-সন্তান হইত তাহাদিগকে ‘মাক্তী’ বলা হইত। (কাশ্শাফ)
মাস্আলাঃ যে নারীর সহিত পিতার বিবাহ হইয়াছে কিন্তু সঙ্গম কওে নাই; কিংবা বিবাহ এবং সঙ্গম উভয়ই হইয়াছে, সেনারী পুত্রের জন্য হারাম। এনরূপে যে নারীর সহিত পিতা যেনা করিয়াছে, সে নারীও পুত্রের জন্য হারাম।(বঃ কোঃ)

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَاءَ ذَ‌ٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

২৪। এবং ঐ স্ত্রীগণ (হরাম করা হইয়াছে) যাহারা সধবা, কিন্তু হাঁ, যাহারা (ধর্ম ব্যবস্থায়) তোমাদের মালিকানাধীন হয়, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদেও উপর এই ব্যবস্থাসমূহ ফরয করিয়া দিয়াছেন, আর ঐ নারীগণ ব্যতীত অন্যান্য নারীদিগকে তোমাদের জন্য হালাল করিয়া দেওয়া হইয়াছে অর্থাৎ তোমরা স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তাহাদিগকে (বিবাহ করিতে) চাও, এইভাবে যে, তোমরা পত্নী করিয়া লও- শুধু কাম-প্রবৃত্তি নিবৃত্তির জন্যই নহে; অতঃপর যে-পন্থায় তোমরা তাহাদিগকে উপভোগ করিলে তজ্জন্য উক্ত নারীদিগকে তাহাদের নির্ধারিত মহর প্রদান কর; আর নির্ধারিত হওয়ার পর যে পরিমাণে তোমরা পরস্পর সম্মত হইয়া যাও তাহাতে কোন পাপ নাই; নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ۚ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِكُم ۚ بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ ۚ فَانكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلَا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ ۚ فَإِذَا أُحْصِنَّ فَإِنْ أَتَيْنَ بِفَاحِشَةٍ فَعَلَيْهِنَّ نِصْفُ مَا عَلَى الْمُحْصَنَاتِ مِنَ الْعَذَابِ ۚ ذَ‌ٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنكُمْ ۚ وَأَن تَصْبِرُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

২৫। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি পূর্ণ সার্মথ্য না রাখে স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিবাহ করার, তবে সে নিজেদেও মধ্য হইতে মুসলমান ক্রীতদাসীদেরকে- যাহারা তোমাদের অধিকারে রহিয়াছে, বিবাহ করিয়া লইবে; এবং তোমাদের ঈমানের সম্যক অবস্থা আল্লাহ্ই জানেন; তোমরা পরস্পরে একে অন্যের সমতুল্য, সুতরাং তাহাদিগকে তাহাদেও মালিকের অনুমতিক্রমে বিবাহ কর, এবং তাহাদিগকে তাহাদের মহর নিয়মানুযায়ী দিয়া দাও, এই হিসাবে যে, তাহারা বিবাহিতারূপে গৃহীত হইয়াছে, এই হিসাবে নহে যে, তাহারা প্রকাশ্য ব্যভিচারিণী বা গুপ্ত প্রেমিকা, অনন্তর যখন ঐ ক্রীতদাসীগণ বিবাহিতা পত্নী হইয়া যায়, ইতঃ পর যদি তাহারা জঘন্য অশ্লীল কাজ করে, তাহলে তাহাদের জন্য ঐ শাস্তির অর্ধেক শাস্তি হইবে, যাহা স্বাধীনা নারীদের হইয়া থাকে; ইহা (অর্থাৎ, ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা) ঐ ব্যক্তির জন্য, যে তোমাদের মধ্যে ব্যভিচারে (লিপ্ত হওয়া)-র আশংকা করে; এবং (দাসীদিগকে বিবাহ করা অপেক্ষা) তোমাদেও সংযমী হওয়া অতি উত্তম; আর আল্লাহ্ অতীব ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুণাময়।

শানে নুযূলঃ

(১) অর্থাৎ, আয়াতে বর্ণিত স্ত্রীলোকগণ ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত স্ত্রীলোকই শর্তাধীনে তোমাদের জন্য শরীঅতের বিধান মতে হালাল। (মুঃ কোঃ)
(২) সহবাসের পূর্বে তালাক্ব দিলে পূর্ণ নির্ধারিত মহর ওয়াজিব হইবে। (বঃ কোঃ)
(৩) যেমন, স্বামী নির্ধারিত মহরের চেয়ে অধিক দিতে স্বীকৃত হইল, অথবা স্ত্রী নির্ধারিত মহরের অংশ বিশেষ কিংবা সম্পূর্ণ মহর মাফ করিয়া দিল, সব কিছুই জায়েয। (বঃ কোঃ)
(৪) অর্থাৎ, এই মহর বিবাহের বিনিময়স্বরূপ হইবে। গুপ্ত প্রণয় বা ব্যভিচারের বিনিময়ে দিলে তাহা বৈধ হইবে না। (বঃ কোঃ)

يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

২৬। আল্লাহর ইচ্ছা এই যে, তোমাদিগকে তোমাদেও কল্যাণকর নির্দেশসমূহ) বর্ণনা করিয়া দেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তীগণের অবস্থা তোমাদিগকে বলিয়া দেন এবং তোমাদেও প্রতি (কৃপা) দৃষ্টি করেন; আর আল্লাহ্ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

وَاللَّهُ يُرِيدُ أَن يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَن تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا

২৭। আর আল্লাহ্ তো তোমাদের অবস্থার প্রতি তাওয়াজ্জুহ করিতে ইচ্ছা করেন। আর যাহারা প্রবৃত্তির পূজারী তাহারা চায় যে, তোমরা অত্যন্ত বক্রতায় নিপতিত হও।

يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُخَفِّفَ عَنكُمْ ۚ وَخُلِقَ الْإِنسَانُ ضَعِيفًا

২৮। আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের সহিত সহজ ব্যবহর করিতে ইচ্ছা করেন, বস্ততঃ মানুষকে দুর্বল সৃষ্টি করা হইয়াছে।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ ۚ وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا

২৯। হে ঈমানদারগণ ! তোমরা পরস্পরে একে অন্যের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করিও না কিন্তু ব্যবসায়-বাণিজ্যে যাহা পরস্পরের সম্মতিক্রমে হয়, তাহলে দোষ নাই। আর তোমরা একে অন্যকে হত্যাও করিও না; নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি অতীব করুণাশীল।

শানে নুযূলঃ

(১) স্বাধীন পুরুষ ও স্ত্রী বিবাহ করিয়া সহবাস সুখ ভোগ করার পর যেনা করিলে তাহাদের শাস্তি প্রস্তর মারিয়া হত্যা করা, আর অবিবাহিত অবস্থায় যেনা করিলে, একশত কোড়া মারিতে হইবে। ক্রীতদাস দাসী যেনা করিলে তাহাদের শাস্তি ইহার অর্ধেক অর্থাৎ, পঞ্চাশ কোড়া। (মুঃ কোঃ)
(২) বিধর্মীরা মুসলমানদিগকে বলিত, তোমরা ফুফু ও খালার কন্যাকে যখন বৈধ মনে কর,তখন ভাই ও বোনদের কন্যাকে অবৈধ মনে কর কেন? অথচ তাহাদের জননী ফুফু, খালা ভগ্নীদিগকে হারাম বলিয়া থাক। (বঃ কোঃ)
(৩) তাই তাহাদের দুর্বল অবস্থা অনুযায়ী বিধান নির্ধারণ করিয়াছেন। অন্যথায় সওয়াবের তুলনায় আরও কঠিন বিধান নির্ধারণ করাও অপত্তিকর ছিল না। কিন্তু আল্লাহ্ পাক উভয়বিধ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখিয়াছেন। (বঃ কোঃ

وَمَن يَفْعَلْ ذَ‌ٰلِكَ عُدْوَانًا وَظُلْمًا فَسَوْفَ نُصْلِيهِ نَارًا ۚ وَكَانَ ذَ‌ٰلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرًا

৩০। আর যে ব্যক্তি এনরূপ কাজ করিবে সীমালঙ্ঘন করিয়া এবং জুলুম করিয়া, তাহলে আমি সত্বরই তাহাকে আগুন (দোযখে) দাখিল করিব; এবং ইহা আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষে সহজ।

إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا

৩১। যে সমস্ত কাজ হইতে তোমাদিগকে নিষেধ করা হইয়া থাকে তন্মধ্যে যেগুলি বড় বড় কাজ (গুনাহ) যদি তোমরা তাহা হইতে পরহেয কর, তবে আমি তোমাদের ছোট ছোট গুনাহ্গুলি তোমাদিগ হইতে মোচন করিয়া দিব এবং তোমাদিগকে একটি সম্মানিত স্থানে দাখিল করিব।

وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا ۖ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ۚ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا

৩২। আর তোমরা এমন কোন মর্যাদার আকাক্সক্ষা করিও না, যাহাতে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদেও কাহাকেও কাহারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করিয়াছেন; পুরুষের জন্য তাহাদের আমলসমূহের অংশ রহিয়াছে; এবং নারীদের জন্য তাহাদের আমলসমূহের অংশ রহিয়াছে; আর আল্লাহ্ তা‘আলার হুযূওে তাঁহার অনুগ্রহের আবেদন কর; নিশ্চয়, আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।

وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ ۚ وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا

৩৩। আর প্রত্যেক ঐ ধন-সম্পত্তির জন্য আমি উল্টরাধিকারী নির্ধারণ করিয়া দিয়াছি যাহা পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনগণ পরিত্যাগ করিয়া যায়; আর যাহাদেও সঙ্গে তোমাদেও অঙ্গীকার সম্পাদিত হইয়াছে তাহাদিগকে তাহাদেও অংশ দিয়া দাও; নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা সর্ব বিষয় পরিজ্ঞাত আছেন।

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ ۚ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ ۚ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ ۖ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا

৩৪। পুরুষগণ নারীদের শাসনকর্তা এই জন্য যে, আল্লাহ্ কতক্কে কতকের উপর মর্যাদা দিয়াছেন এবং এই জন্য যে, পুরুষগন স্বীয় অর্থ ব্যয় করিয়াছে; সুতরাং পুণ্যশীলা নারীগণ অনুগত হয়, পুরুষের অবর্তমানে (তাহার ধন ও মানের) রক্ষণাবেক্ষণ কওে আল্লাহ্ তা‘আলার হেফাযত অনুসারে এবং যে কোন নারী এনরূপ হয় যে, তোমরা তাহাদেও অবাধ্যতার আশংকা কর, তবে তাহাদিগকে মৌখিক উপদেশ দাও এবং তাহাদিগকে তাহাদেও শয্যাস্থানে একা পরিত্যাগ কর এবং তাহাদিগকে (লঘু) প্রহার কর, অতঃপর যদি তাহারা তোমাদেও আনুগত্য করিতে আরম্ভ কওে, তবে তাহাদেও প্রতি বাহানা আণে¦ষণ করিও না; নিশ্চয় আল্লাহ্ অতি মহান, মর্যাদাশীল।

শানে নুযূলঃ

(১) কবীরা গুনাহ্ অর্থাৎ, যাহার বিনিময়ে দোযখের ভয় প্রদর্শন করা হইয়াছে কিংবা যাহাতে আল্লাহ্ ক্রোধান্বিত হন’ কিংবা যে গুনাহ্র জন্য শাস্তির বিধান নির্ধারিত হইয়াছে। আর ছগীরা-ছোট গুনাহ্, যাহার জন্য শুধু নিষেধ আসিয়াছে।(মঃ কোঃ)
(২) স্ত্রীলোকেরা হুযূরের খেদমতে আরয করিয়া ছিল, ইহার কারণ কি, যে আল্লাহ্ পাক প্রত্যেক কাজেই পুরুষদিগকে সম্বোধন করেন, স্ত্রীলোকদের উল্লেখ থাকে না। আর ওয়ারিসী সত্ত্বেও পুরুষরা দ্বিগুন পাইয়া থাকে।তদুত্তরে এই আয়াতটি নাযিল হয়।(মুঃ কোঃ)
(৩) জনৈকা নারী-সাহাবী তাঁহার স্বামীর অবধ্যতা চরণ করিলে, স্বামী স্ত্রীকে চপেটাঘাত করেন। এই অভিযোগে হুযুরের নিকট উপস্থিত করা হইলে হুযূও স্বামী হইতে সমপরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণের আদেশ দিলেন। ইতিমধ্যে এই আয়াতটি নাযিল হয়।(মুঃ কোঃ)

وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا

৩৫। আর যদি তোমরা উপরস্থগণ এই স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের মধ্যে ঝসড়া-বিবাদেও আশঙ্কা কর, তবে তোমরা প্রেরণ কর স্বামীর বংশ হইতে মীমাংশা করার যোগ্যতাসম্পন্ন এক ব্যক্তিকে এবং স্ত্রীর বংশ হইতে মীমাংশা করার যোগ্যতাসম্পন্ন এক ব্যক্তিকে , যদি এতদুভয় সংশোধন কামনা করে, তবে আল্লাহ্ এই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্প্রীতি সঞ্চার করিয়া দিবেন; নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা মহাজ্ঞানী, সর্ববিষয়ে খবরদার।

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا

৩৬। আর তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলারই এবাদত কর, এবং তাঁহার সহিত কাহাকেও শরীক করিও না এবং পিতামাতার সহিত স্বদব্যবহার কর এবং আত্মীয়-স্বজনের সহিতও এবং এতীমদেও সহিতও এবং দরিদ্রগণের সহিতও এবং প্রতিবেশীর সহিতও এবং সহচরদের সহিতও পথিকদের সহিতও, এবং উহাদের সহিতও যাহারা তোমাদের মালিকাধীন আছে; নিশ্চয়, আল্লাহ্ এনরূপ লোকদিগকে ভালবাসেন না যাহারা নিজেকে বড় মনে করে ও আত্ম-গর্ব করে।

শানে নুযূল

(১) মাস্আলঃ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিবাদের মীমাংসা বিচারকের নিকট উপস্থাপিত হইলে, তাহা মীমাংসা করিয়া দেওয়া তাঁহার জন্য ওয়াজিব। অন্যান্য সালিসের পক্ষে মুস্তাহাব। সর্বাবস্থায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধি লইয়া মীমাংসা করা মুস্তাহাব। (মুঃ কোঃ)
(২) মোটকথা, উল্লিখিত সকল প্রকার লোকের সহিতই সদ্ব্যবহার কর। আর যাহারা এই সদ্ব্যবহার কওে না, তাহাদেও মধ্যে এই কয়েকটি কারণ বিদ্যামান। (ক) অহংকারী, কাহারও প্রতি লক্ষ্যই করে না। (খ) কৃপণ, কাহাকেও কিছু দিওয়ার প্রবৃত্তি হয় না। (গ) রসূলের প্রতি তাহাদেও আস্থা নাই। হুযূও (দঃ) এই সমস্ত কাজে যে সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন তৎপ্রতি বিশ্বাস রাখে না। (ঘ) রিয়াকার, লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে অপাত্রেও দান করে। নতুবা, যোগ্য পাত্রেও দান কওে না। (ঙ) খোদা ও ক্বিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। ইহারা কেিফর। পরবর্তী আয়াতগুলিতে ইহাদের পরিণাম বর্ণিত হইবে। (বঃ কোঃ)

وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ۖ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا

৩৭। যাহারা কৃপণতা করে এবং অন্যকে কৃপণতা শিক্ষা দেয় এবং ঐ বস্তুকে গোপন করে যাহা আল্লাহ্ তা‘আলা তাহাদিগকে স্বীয় অনুগ্রহে প্রদান করিয়াছেন; আর আমি এনরূপ অকৃতজ্ঞদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।

الَّذِينَ يَبْخَلُونَ وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ وَيَكْتُمُونَ مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ ۗ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُّهِينًا

৩৮। আর যাহারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে দেখাইবার জন্য এবং আল্লাহ্ তা‘আলার প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না; আর যাহারা মোছাহের হয় শয়তান, বস্তুতঃ সে নিকৃষ্ট মোছাহেব।

وَالَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ ۗ وَمَن يَكُنِ الشَّيْطَانُ لَهُ قَرِينًا فَسَاءَ قَرِينًا

৩৯। এবং ইহাদের প্রতি কি বিপদ নাযিল হইয়া যাইবে, যদি ইহারা আল্লাহর প্রতি শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং আল্লাহ্ তাহাদিগকে যাহা প্রদান করিয়াছেন উহা হইতে কিছু ব্যয় করিতে থাকে; আর আল্লাহ্ তা‘আলা ইহাদেও সম্বন্ধে পূর্ণ জ্ঞাত আছেন।

وَمَاذَا عَلَيْهِمْ لَوْ آمَنُوا بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقَهُمُ اللَّهُ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِهِمْ عَلِيمًا

৪০। নিশ্চয়, আল্লাহ্ তা‘আলা এক বিন্দু পরিমাণও জুলুম করিবেন না, আর যদি একটি নেকী হয়, তবে ইহাকে কয়েক গুণে বর্ধিত করিয়া দিবেন এবং নিজ সন্নিধান হইতে আরও মহান বিনিময় প্রদান করিবেন।

শানে নুযূল

(১) কতিপয় ইহুদী, আনছার সম্প্রদায়ের দানশীল লোকদিগকে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করিতে বাধা দিত এবং কৃপণতা অবলম্বন করার জন্য প্ররোচিত করিত। ইহাদের সম্বন্ধে এই আয়াটি নাযিল হয়। (লুঃ নুঃ)
(২) ইহার অর্থ, সংরক্ষণের নিয়ত না করিয়া কেবল কৃপণতা বশতঃ ধন-সম্পদ গোপন করিযা রাখে, অথবা এই অর্থও হইতে পারে যে, দ্বীনীএল্ম গোপন করে। যেমন ইহুদী আলেমরা হুযূও (দঃ)-এর রেসালতের খোম-খবর জনগণের নিকট গোপন রাখিত। সুতরাং এইখানে আর্থিক কৃপনতা এবং জ্ঞান বিতরনে কৃপণতা উভয়ই উদ্দেশ্য হইতে পারে। (বঃ কোঃ)
(৩) অর্থাৎ, কাহাকেও তাহার আমলের যোগ্য সওয়াব দিতে ত্রুটি করিবেন না এবং বিনা দোষে কাহাকেও শাস্তি দিবেন না কিংবা লঘু পাপের জন্য গুরু দন্ডের ব্যবস্থা করিবেন না। (বঃ কোঃ)