সূরা-আল-ইমরান-বাংলা-অর্থ-(আয়াত-১২৫-১৫২)

আয়াত-২০০

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু

بَلَىٰ ۚ إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَـٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ

১২৫। হাঁ, কেন হইবে না? যদি (যুদ্ধে) অটল থাক এবং খোদাভীরু হও আর (যদি) তাহারা তোমাদের প্রতি নিমিষে আসিয়া পৌছে, তাহাহইলে তোমাদের প্রভু তোমাদিগকে এক বিশিষ্ট বেশধারী পাঁচ সহস্র ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করিবেন।

وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ ۗ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

১২৬। আর এই সাহায্য আল্লাহ তা‘আলা শুধু এই জন্যই করিয়াছেন, যেন তোমাদের জন্য সুসংবাদ হয় আর তোমাদের মনে যেন স্থিরতা আসে। আর সাহায্য তো আল্লাহর তরফ হইতেই হইয়া থাকে, যিনি মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

لِيَقْطَعَ طَرَفًا مِّنَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَوْ يَكْبِتَهُمْ فَيَنقَلِبُوا خَائِبِينَ

১২৭। যেন কাফেরদের একদলকে ধ্বংস করিয়া দেন অথবা তাহাদিগকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করেন, ফলে তাহারা অকৃতকার্য হইয়া ফিরিয়া যায়।

لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ

১২৮। আপনার কোন অধিকার নাই, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তা‘আলা হয়ত তাহাদের তাওবা কবূল করিবেন অথবা তাহাদিগকে কোন শাস্তি প্রদান করিবেন। কেননা, ইহারা জুলুমও ভীষন করিতেছে।

وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

১২৯। আর যাহাকিছু আসমান সমূহে রহিয়াছে এবং যাহাকিছু যমিনে রহিয়াছে সবকিছুই আল্লাহরই স্বত্বাধীন; তিনি যাহাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আর আল্লাহ তা‘আলা তো অতীব ক্ষমাশীল, পরম করুণাময় ।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

১৩০। হে মুমিনগণ! সুদ খাইও না কয়েক গুণ অতিরিক্ত, এবং আল্লাহকে ভয় কর। আশা করা যায়, তোমরা সফলকাম হইবে।

শানে নুযুল

১) ওহুদ প্রান্তরে যুদ্ধ আরম্ভ হইলে প্রথম আক্রমণেই কাফেদের পরাজয় ঘটিল। মুসলমানেরা পালায়নরত কাফেরদের আসবাবপত্র লুন্ঠন করিতে লাগিল গিরিপথরক্ষী সৈনগণ ইবনে জুবায়েরের নির্দেশ অমান্য করিতঃ লুন্ঠন করিতে লাগিল। এদিকে গিরিপথ খালি পাইয়া কাফেরেরা পশ্চাৎ দিক হইতে প্রবলবেগে আক্রমন করিয়া বসিল । ফলে ইবনে জুবাইর, হযরত হামজা প্রমুখ সাহাবাগণ শাহাদত বরণ করেন এবং হুযুর (দঃ) এর দান দান মোবারক ও চেহারা মোবারক আহত হন । অতঃপর প্রধান প্রধান সাহাবাগণ মুসলিম সৈন দিগকে ত্বরিৎ একত্রিত করিয়া বল- বিত্রুমে কাফেরদের উপর ঝাপাইয়া পড়েন ও তাহাদিগকে রণঙ্গন হইতে পালায়ন করিতে বাধ্য করেন । যুদ্ধ শেষে স্বীয় চাচা ও সাহাবাগণের লাস দর্শন করিয়া অতিশয় মর্মাহত হইয়া কাফেরদের উদ্দেশ্য বদদো‘আ করিতে উদ্যত হইলে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। (মুঃ কোঃ)

وَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ

১৩১। আর তোমরা সেই আগুন হ্ইতে আত্মরক্ষা কর, যাহা (মূলতঃ) কাফেরদের জন্য তৈরি করা হইয়াছে।

وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

১৩২। আর সানন্দে আল্লাহর ও রাসূলের আদেশ পালন কর; আশা করা যায় তোমরা অনুগৃহীত হইবে।

وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

১৩৩। আর ধাবন কর ক্ষমার দিকে, যাহা তোমার পরওয়ারদেগারের তরফ হইতে হয় –আর সেই বেহেস্তের দিকে যাহার প্রশস্ততা এইরূপ যেমন সমস্ত আসমান এবং যমীন। ইহা প্রস্তুত করা হইয়াছে মুত্তাকীদের জন্য।

الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

১৩৪। এইরূপ লোক যাহারা সচ্ছলতা এবং অভাবের অবস্থায় (সৎ কাজে) ব্যায় করে এবং ক্রোধ সংবরণকারী ও লোকের (অপরাধ) ক্ষমাকারী । আর আল্লাহ এইরূপ সদাচারীদেরকেই ভালোবাসেন।

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَن يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَىٰ مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ

১৩৫। আর তাহারা এমন লোক যে, যখন এমন কোন কাজ করিয়া বসে যাহাতে অন্যায় হয়, অথবা নিজের ক্ষতি করিয়া বসে, তখন আল্লাহকে স্মরন করে অতঃপর নিজের গুনাহসমূহের ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া থাকে। এবং আল্লাহ ভিন্ন আর কে আছে, গুনাহ মাফ করিবে ? আর তাহারা স্বীয় (মন্দ) কর্মে হঠকারিতা করে না এবং তাহারা অবগত আছে।

أُولَـٰئِكَ جَزَاؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ

১৩৬। তাহাদের পুরস্কার হইবে মার্জনা তাহাদের প্রভুর নিকট হইতে এবং এমন উদ্যান যাহার তলদেশ দিয়া নহরসমূহ প্রবাহিত। তাহারা উহাতে অনন্তকাল অবস্থান করিবে, এবং (ইহা) উত্তম প্রতিদান ঐসব কর্মীদের।

শানে নুযুলঃ

২) মূলধন হইতে কয়েকগুণ অতিরিক্ত হওয়া সুদ হারাম হওয়ার জন্য শর্ত নহে । সূরা বাক্বারার (১০৫পৃষ্ঠা দেখুন) আয়াতও এই আয়াত দ্বারা সর্বপ্রকার সুদ হারাম করা হইয়াছে। বর্তমান যুগের প্রবৃত্তি-পূজারিরা শুধু অতিরিক্ত হারে সুদ হারাম বলিয়া কদর্থ দ্বারা মানুষকে ধোকাই ফেলিতেছে। (বঃ কোঃ)
১) এখানে বেহেস্তের প্রশস্ততা ইহার চেয়ে অধিক হওয়ার কথা অস্বীকার করা হয় নাই। বস্তুতঃ বেহেস্তের প্রশস্ততা ইহার চেয়ে বেশি হওয়া অন্যত্র প্রমনিত আছে। (বঃ কোঃ)
২) অর্থাৎ ক্ষমা প্রার্থনার নিয়মঅনুযায়ী উভয় অবস্থায় আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনাতো করেই; পরন্ত অন্যের প্রতি অন্যায় করিয়া থাকিলে সেই দাবিদার ব্যাক্তি হইতেও উহা ক্ষমা করাইয়া লয়।(বঃ কোঃ)

قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِكُمْ سُنَنٌ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ

১৩৭। নিশ্চয়, তোমাদের বিভিন্ন পন্থা (অবলম্বী) অতীত হইয়াছে। অতএব, তোমরা পৃথিবীতে বিচরণ কর এবং দেখিয়া লও যে, অবিশ্বাসীদের পরিণাম কিরূপ হইয়াছে।

هَـٰذَا بَيَانٌ لِّلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِّلْمُتَّقِينَ

১৩৮। এই বর্ণনা যথেষ্ট সকল মানুষের জন্য এবং হেদায়েত ও নসীয়ত বিশেষ করিয়া পরহেযগারের জন্য।

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

১৩৯। আর তোমরা হিম্মত হারাইও না এবং বিষন্ন হইও না, বস্তুতঃ তোমরাই বিজয়ী থাকিবে যদি তোমরা পূর্ণ মু’মিন থাক।

إِن يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِّثْلُهُ ۚ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُدَاوِلُهَا بَيْنَ النَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَتَّخِذَ مِنكُمْ شُهَدَاءَ ۗ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ

১৪০। যদি তোমাদের আঘাত লাগিয়া থাকে, তবে সেই সম্প্রদায়ের ও তদ্রুপ আঘাত লাগিয়াছিল। আর আমি এই দিবসসমূহকে অদল বদল করিতে থাকি লোকদের মধ্যে। আর যেন আল্লাহ ঈমানদারদিগকে জানিয়া লন এবং তোমাদের মধ্যে কতিপয় শহিদ করিবার ছিল। আর আল্লাহ অত্যাচারীদিগকে ভালোবাসেন না।

وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ

১৪১। আর যেন আল্লাহ তা‘আলা ঈমানদারদিগকে আবিলতা ও আবর্জনা হইতে নির্মল করিয়া দেন, এবং কাফেরদিগকে নিপাত করিয়া দেন।

أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ

১৪২। হাঁ, তোমরা এই ধারনা কর যে, বেহেশতে যাইয়া প্রবেশ করিবে? অথচ এখন পর্যন্ত আল্লাহ তাহাদিগকে তো দেখিয়ায় লন নাই যাহারা তোমারদের মধ্যে জেহাদ করিয়াছে এবং তাহাদিগকে ও দেখেন নাই, যাহারা (জেহাদে) দৃঢ়পদ থাকে।

وَلَقَدْ كُنتُمْ تَمَنَّوْنَ الْمَوْتَ مِن قَبْلِ أَن تَلْقَوْهُ فَقَدْ رَأَيْتُمُوهُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ

১৪৩। আর তোমরা তো মৃত্যু কামনা করিতেছিলে — মৃত্যুর সম্মুখীন হওয়ার পূর্ব হইতে। অনন্তর ইহাকে তো তোমরা উম্মিলিত চক্ষে প্রত্যক্ষ করিয়াছ ।

শানে নুযুলঃ

১) তাহাতে মুসলমান ও ছিল কাফেরও ছিল । তাহাদের মধ্যে মতভেদ এবং য্দ্ধু-বিগ্রহ ও হইয়াছিল কিন্তু পরিনামে কাফেরেরাই ধ্বংস প্রাপ্ত হইয়াছিল। (বঃ কোঃ)
২) অর্থাৎ, এই বর্ণনা হইতে খোদাভীরুগণ হেদায়েত ও নসীহত লাভ করিয়া থাকে। হেদায়েত হইল সত্য এবং অসত্যকে অনুধাবন করা, আর নসীহত হইল তদনুযায়ী আমল করা। (বঃ কোঃ)
৩) অর্থাৎ, জয় এবং পরাজয় পরিবর্তনশীল। মুসলদিগকে সহীদ হবার সৌভাগ্য প্রদান করা ও মু‘মিন ও মুনাফেকের পরিচয় যাচায় করা এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদিগকে এই শিক্ষা দেওয়া যে,পয়গম্বরের আদেশ অমান্য করিলে এইরূপ পরিণতি হয় ।(মুঃ কোঃ)
৪) এই নিপাত দুই প্রকারে হইয়া থাকেঃ (১)যুদ্ধে জয় লাভ করিলে স্পর্ধা বাড়িয়া যায় এবং সংগ্রমে অগ্রসর হইয়া নিপাত হয়; (২) আর মুসলমানদের প্রতি অত্যাচার করিয়া আল্লাহর কোপে পতিত হইয় বিনষ্ট হয়।(বঃ কোঃ)

وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ ۚ أَفَإِن مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انقَلَبْتُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ ۚ وَمَن يَنقَلِبْ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ فَلَن يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا ۗ وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ

১৪৪। আর মোহাম্মাদ তো শুধু রাসূলই। তাহার পূর্বে আরও অনেক রাসূল অতিত হইয়াছেন। অনন্তর তাহার মৃত্যু হয়, অথবা তিনি শহিদই হন, তবে কি তোমরা উল্টা ফিরিয়া যাইবে? আর যে ব্যাক্তি উল্টা ফিরিয়াও যায়, তবে আল্লাহর কোন অনিষ্ট করিতে পারিবে না। এবং আল্লাহ সত্বরই বিনিময় প্রদান করিবেন কৃতজ্ঞ বান্দাদিগকে।

وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَن تَمُوتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ كِتَابًا مُّؤَجَّلًا ۗ وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الدُّنْيَا نُؤْتِهِ مِنْهَا وَمَن يُرِدْ ثَوَابَ الْآخِرَةِ نُؤْتِهِ مِنْهَا ۚ وَسَنَجْزِي الشَّاكِرِينَ

১৪৫। আর কাহারও মৃত্যু আসা সম্ভব নহে আল্লাহর আদেশ ব্যতীত; এইভাবে যে, উহার নিদিষ্ট সময় লিখিত থাকে। আর যে ব্যক্তি পার্থিব ফল কামনা করে, আমি তাহাকে পার্থিব অংশ প্রদান করিয়া থাকি। আর যে ব্যক্তি পারলৌকিক ফল কামনা করে, আমি তাহাকে পারলৌকিক অংশ প্রদান করিব। এবং আমি সত্বরই বিনিময় প্রদান করিব কৃতজ্ঞ বান্দাদিগকে।

وَكَأَيِّن مِّن نَّبِيٍّ قَاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَمَا وَهَنُوا لِمَا أَصَابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَا ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكَانُوا ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ

১৪৬। আর অনেক নবী হইয়াছেন, যাহাদের সাথি হইয়া বহু খোদা ভক্ত লোক জেহাদ করিয়াছেন। সুতরাং না সাহস হারাইয়াছেন তাহারা ঐ বিপদের কারণে যাহা আল্লাহর রাস্তায় তাহাদের উপর পতিত হইয়াছে, আর না তাহাদের শক্তি খর্ব হইয়াছে, আর না তাহারা দমিত হইয়াছেন। আর আল্লাহর এইরূপ দৃঢ় – চেতা লোকদিগকে ভালোবাসেন।

وَمَا كَانَ قَوْلَهُمْ إِلَّا أَن قَالُوا رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

১৪৭। আর তাহাদের জবান হইতেও তো ইহা ব্যতিত আর কিছুই বাহির হয় না যে, তাহারা আরয করিল — হে আমাদের রব্ব! আমাদের গুনাহ সমূহ এবং আমাদের কর্মসমূহে আমাদের সীমা অতিক্রমকে মাফ করিয়া দিন, এবং আমাদিগকে দৃঢ়পদ রাখুন, আর আমাদিগকে কাফের সম্প্রদায়ের উপর বিজয়ী করুন।

শানে নুযুল

১) পূর্ববতী বৎসর বদর যুদ্ধে কতিপয় সাহাবি শহিদ হন তাহাদের উচ্চ মর্যাদা সম্বন্ধে অবহিত হইয়া কেহ কেহ সুযোগ আসিলে সাহাদত বরন করার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিল, কিন্তু ওহুদের যুদ্ধে সমাগত হইলে তাহাদের মধ্যে অনেকেরই পদস্খলন হইল। তৎসম্বন্ধে এই আয়াতটি নাযিল হয়।(লোঃ নুঃ)
২) শানে নুযুলঃ ওহুহের যুদ্ধে যখন মুসলমানেরা ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িল এবং হুযুর (দঃ) আহত এক গর্তে পতিত হইলেন। তখন শত্রুপক্ষ হইতে সংবাদ রটিল, হুযুর শহিদ হইয়াছেন। এই সংবাদ শ্রবণ করিয়া অধিকাংশ সাহাবী ভগ্নমনোরথ হইয়া পড়িলেন এবং কেহ কেহ পশ্চাদপসরণে উদ্যত হইল। পূর্ববতী আয়াতে সে সম্বন্ধেই তিরষ্কার করা হইয়াছে অতঃপর তাহারা ওযরখাহী করিলেন, ‘‘আমরা হুযুুরের নিহত হওয়ার সংবাদ শ্রবণ করিয়া ভীত হইয়া পলায়ন করিয়ছিলাম’’। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করেন। (মুঃ কোঃ)

فَآتَاهُمُ اللَّهُ ثَوَابَ الدُّنْيَا وَحُسْنَ ثَوَابِ الْآخِرَةِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

১৪৮। অনন্তর আল্লাহ তাহাদিগকে পার্থিব বিনিময়ও দিয়াছেন এবং পরকালে ও উত্তম বিনিময় দিয়াছেন । আর এইরূপ সদাচারীদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন ।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَىٰ أَعْقَابِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ

১৪৯। হে ঈমাণদারগণ! যদি তোমরা কাফেরদের কথা মানিয়া লও, তবে তাহারা তোমাদিগকে উল্টাদিকে ফিরিয়া দিবে, ফলে তোমরা অকৃতকার্য হইয়া যাইবে ।

بَلِ اللَّهُ مَوْلَاكُمْ ۖ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ

১৫০। বরং আল্লাহ তোমাদের দোস্ত এবং তিনি সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا ۖ وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ ۚ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِينَ

১৫১। আমি এখনই ভীতির সৃষ্টি করিয়াদিতেছি কাফেরদের অন্তরে–এ কারণে যে, তাহারা আল্লাহর শরীক এমন বস্তুকে সাব্যস্ত করিয়াছে যাহার অনুকূলে আল্লাহ কোনই প্রমাণ নাযিল করেন নাই। এবং তাহাদের বাসস্থান জাহান্নাম। বস্তুতঃ উহা অনাচারীদের নিকৃষ্ট বাসস্থান।

وَلَقَدْ صَدَقَكُمُ اللَّهُ وَعْدَهُ إِذْ تَحُسُّونَهُم بِإِذْنِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا فَشِلْتُمْ وَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَعَصَيْتُم مِّن بَعْدِ مَا أَرَاكُم مَّا تُحِبُّونَ ۚ مِنكُم مَّن يُرِيدُ الدُّنْيَا وَمِنكُم مَّن يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ ثُمَّ صَرَفَكُمْ عَنْهُمْ لِيَبْتَلِيَكُمْ ۖ وَلَقَدْ عَفَا عَنكُمْ ۗ وَاللَّهُ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ

১৫২। আর নিশ্চয়, আল্লাহ তো তোমাদের সহিত প্রতিশ্রতিকে সত্য করিয়া দেখাইয়াছিলেন, যখন তোমরা ঐ কাফেরদিগকে আল্লাহর হুকুমে হত্যা করিতেছিলে–অনন্তর তোমরা যখন নিজেরাই দুর্বল হইয়া পড়িলে, এবং পরস্পর আদেশ পালনে মতবিরোধ করিতে লাগিলে, এবং তোমরা নাফরমানী করিলে, তোমাদিগকে তোমাদের বঞ্ছিত বিষয় প্রদশন করাইবার পর। তোমাদের মধ্যে কেহ কেহ তো এইরূপ ছিল, যাহারা দুনিয়া কামনা করিতেছিল, এবং কেহ কেহ তোমাদের মধ্যে এইরূপ ছিল, যাহারা (শুধু) পরকালকামী ছিল। তৎপর আল্লাহ তোমাদিগকে সেই কাফেরগণ ( এর উপর বিজয়লাভ ) হইতে হটাইয়া দিলেন — তোমাদিগকে পরিক্ষা করার উদ্দেশ্য। দৃঢ়রূপে জানিয়া লও যে, আল্লাহ তোমাদিগকে ক্ষমা করিয়া দিয়াছেন। আর আল্লাহ অতি অনুগ্রহশীল মু’মিনদের প্রতি।

শানে নুযুল

১) অর্থাৎ তোমরা বিবেচনা শক্তিকে দুর্বল হইয়া হুযুরের নিদের্শ অমান্য করিয়াছিলে। হুযুর ইবনে জুবাইরের নেতৃত্বে পঞ্চাশ জন সৈনকে সর্বদা গিরিপথ রক্ষা করিতে বলিয়াছিলেন। কিন্তু ইহাদের মধ্যে কেহ কেহ ভুল বশতঃ এই মত প্রকাশ করিলেন যে,পলায়ন নোন্মুখ কাফেরদের পশ্চাদ্ধবন করাই আমাদের পক্ষে সমীচীন । এখানে তাহাদের প্রতি তিরস্কার করা হইয়াছে।(বঃ কোঃ)